বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম: অ্যাপে ঘরে বসে কিংবা এজেন্টের কাছে গিয়ে
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ:
গ্রামের বাড়িতে টাকা পাঠানো, দোকানে বিল মেটানো কিংবা মোবাইলে রিচার্জ, এখন অনেকের দৈনন্দিন লেনদেনের বড় অংশই চলে বিকাশে। নতুন একাউন্ট খুলতে আর এজেন্টের দোকানে লাইন দিতে হয় না। স্মার্টফোন আর জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলে ঘরে বসে পাঁচ থেকে দশ মিনিটে নিজেই একাউন্ট খোলা যায়, কোনো খরচ ছাড়াই।
বিজ্ঞাপন
বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম মূলত দুটি। প্রথমটি বিকাশ অ্যাপে নিজে নিজে খোলা, যেখানে জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি আর নিজের মুখের ছবি দিয়ে পরিচয় যাচাই হয়। দ্বিতীয়টি বিকাশ এজেন্ট বা গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে গিয়ে খোলা, যা বাটন ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাজনক। একাউন্ট চালু হওয়ার পর স্মার্টফোনে অ্যাপ দিয়ে, আর যেকোনো ফোনে *২৪৭# ডায়াল করে লেনদেন করা যায়।
একাউন্ট খুলতে যা লাগবে
১. নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র: স্মার্ট কার্ড বা লেমিনেটেড পুরোনো কার্ড, দুটোই চলে। কার্ডটি যেন আপনার নিজের হয়, অন্যের এনআইডি দিয়ে একাউন্ট খোলা নিয়মবহির্ভূত এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
২. সচল সিম: যে নম্বরে একাউন্ট খুলবেন, সেটি যেন আপনার হাতে থাকে। নিজের নামে নিবন্ধিত সিম হলে ভবিষ্যতে পিন রিসেটসহ নানা কাজে সুবিধা।
বিজ্ঞাপন
৩. স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট: অ্যাপে খুলতে চাইলে ক্যামেরাসহ স্মার্টফোন লাগবে। ইন্টারনেট দুর্বল হলে ছবি আপলোডে আটকে যেতে পারে।
৪. ভালো আলো: কার্ডের ছবি ও সেলফি তোলার সময় পর্যাপ্ত আলো দরকার। ঝাপসা ছবি হলে তথ্য পড়তে না পেরে আবেদন আটকে যায়।
অ্যাপ দিয়ে বিকাশ একাউন্ট কিভাবে খুলবো
১. অ্যাপ নামানো: অ্যান্ড্রয়েড ফোনে প্লে স্টোর, আইফোনে অ্যাপ স্টোর থেকে বিকাশের অফিশিয়াল অ্যাপ ডাউনলোড করুন। প্রকাশকের নাম দেখে নিশ্চিত হোন যে এটি বিকাশ লিমিটেডের অ্যাপ।
বিজ্ঞাপন
২. নম্বর দেওয়া: অ্যাপ খুলে ভাষা বেছে নিন, তারপর যে নম্বরে একাউন্ট খুলবেন সেটি লিখুন। নম্বরে একাউন্ট না থাকলে অ্যাপ নিজেই নতুন রেজিস্ট্রেশনের অপশন দেখাবে।
৩. ওটিপি যাচাই: নম্বরে একটি ভেরিফিকেশন কোড আসবে। অনেক ফোনে কোডটি আপনাআপনি বসে যায়, না বসলে নিজে লিখে দিন।
৪. এনআইডির ছবি তোলা: জাতীয় পরিচয়পত্রের সামনের দিক আর পেছনের দিকের ছবি তুলতে বলা হবে। কার্ডটি সমতল জায়গায় রেখে ফ্রেমের ভেতরে পুরোপুরি এনে ছবি তুলুন, যাতে আঙুল বা আলোর ঝলক লেখার ওপর না পড়ে।
৫. তথ্য মিলিয়ে নেওয়া: অ্যাপ কার্ড থেকে নাম, জন্মতারিখ, এনআইডি নম্বর পড়ে নেবে। কোনো ঘর ভুল এলে সংশোধন করে পরের ধাপে যান। কিছু ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের নাম বা ঠিকানাও চাওয়া হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
৬. নিজের ছবি তোলা: এবার সামনের ক্যামেরায় নিজের মুখের ছবি তুলতে হবে। অ্যাপ পলক ফেলতে বা মাথা নাড়তে বলতে পারে, যাতে বোঝা যায় সত্যিকারের মানুষই সামনে আছেন। চশমা, মাস্ক বা টুপি খুলে নিন।
৭. পিন সেট করা: সবশেষে পাঁচ সংখ্যার একটি পিন ঠিক করুন এবং আবার লিখে নিশ্চিত করুন। শর্তাবলিতে সম্মতি দিলেই আবেদন জমা হয়ে যাবে।
তথ্য যাচাই সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যে হয়ে যায়, কখনো একটু বেশি সময় লাগে। সফল হলে এসএমএস আসবে, তখন পিন দিয়ে অ্যাপে লগইন করে লেনদেন শুরু করতে পারবেন।
বাটন ফোনে বিকাশ খোলার সহজ উপায়
বিজ্ঞাপন
যাঁদের স্মার্টফোন নেই, তাঁদের জন্য সবচেয়ে সহজ পথ কাছের বিকাশ এজেন্ট বা গ্রাহকসেবা কেন্দ্র। নিজের এনআইডি আর যে সিমে একাউন্ট খুলবেন সেই ফোনটি নিয়ে যান। এজেন্ট তাঁর ডিভাইসে আপনার কার্ড ও ছবি নিয়ে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করবেন। একাউন্ট খোলার জন্য কোনো টাকা লাগে না, কেউ চাইলে বুঝবেন নিয়মের বাইরে চাইছে।
নিবন্ধনের পর ফোনে বার্তা আসবে। তখন *২৪৭# ডায়াল করে স্ক্রিনের নির্দেশনা মেনে নিজের পিন নিজেই ঠিক করুন। পিন সেট করার সময় এজেন্ট বা অন্য কাউকে ফোন দেবেন না, পাশে কেউ দেখছে কি না খেয়াল রাখুন। এরপর থেকে যেকোনো ফোনে *২৪৭# ডায়াল করে সেন্ড মানি, ক্যাশ আউট, রিচার্জসহ মূল সেবাগুলো নেওয়া যাবে।
একাউন্ট খোলার পর প্রথম কয়েকটি কাজ
একাউন্ট চালু হলেই প্রথমে ব্যালেন্স দেখে নিন, এতে বোঝা যাবে পিন ঠিকমতো কাজ করছে। অ্যাপে প্রোফাইলে গিয়ে নিজের নাম ও তথ্য ঠিক আছে কি না মিলিয়ে নিন। যাঁদের কাছে নিয়মিত টাকা পাঠান, তাঁদের নম্বর পছন্দের তালিকায় রাখলে প্রতিবার টাইপ করার ঝামেলা কমে, ভুল নম্বরে টাকা যাওয়ার ঝুঁকিও কমে।
বিজ্ঞাপন
ছোট অঙ্কের একটি লেনদেন দিয়ে শুরু করুন। যেমন নিজের ফোনে অল্প টাকার রিচার্জ। এতে পুরো প্রক্রিয়াটি হাতে-কলমে বুঝে যাবেন। অ্যাপের নোটিফিকেশন চালু রাখুন, যাতে প্রতিটি লেনদেনের খবর সঙ্গে সঙ্গে পান।
একাউন্ট খুলতে সমস্যা হলে
এনআইডির তথ্য মিলছে না: কার্ডের ছবি ঝাপসা হলে বা আলো প্রতিফলিত হলে এমন হয়। ভালো আলোয় নতুন করে ছবি তুলুন। এনআইডিতেই ভুল থাকলে আগে সেটি সংশোধন করতে হতে পারে।
এই এনআইডি দিয়ে আগেই একাউন্ট আছে: হয়তো আগে কখনো অন্য নম্বরে একাউন্ট খোলা হয়েছিল, কিংবা কেউ আপনার এনআইডি ব্যবহার করেছে। দ্বিতীয়টি হলে দ্রুত বিকাশ গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে গিয়ে বিষয়টি জানান।
বিজ্ঞাপন
সেলফি যাচাই হচ্ছে না: আলো মুখের সামনে রাখুন, পেছনে জানালা বা বাতি যেন না থাকে। ক্যামেরার লেন্স মুছে নিন এবং ধীরে নির্দেশনা মানুন।
আবেদন প্রক্রিয়াধীন দেখাচ্ছে: কখনো কখনো ম্যানুয়াল যাচাইয়ে সময় লাগে। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করুন, তারপরও না হলে অ্যাপের হেল্প অংশ বা গ্রাহকসেবা কেন্দ্রের সাহায্য নিন।
নিরাপত্তার নিয়ম, যা কখনো ভাঙবেন না
বিকাশের নামে প্রতারণার সবচেয়ে প্রচলিত কৌশল হলো ফোন করে পিন বা ভেরিফিকেশন কোড চাওয়া। মনে রাখবেন, বিকাশের কোনো কর্মকর্তা কখনো আপনার পিন বা ওটিপি জানতে চাইবেন না। একাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে, পুরস্কার জিতেছেন, ভুল করে টাকা চলে গেছে, এ ধরনের গল্প শুনিয়ে কেউ কোড চাইলে সঙ্গে সঙ্গে ফোন কেটে দিন।
বিজ্ঞাপন
পিন হিসেবে জন্মসাল, ১২৩৪৫ বা ফোন নম্বরের শেষ অংশ ব্যবহার করবেন না। অন্যের ফোন থেকে লগইন করলে কাজ শেষে লগআউট করুন। আর নিজের একাউন্টে অন্য কাউকে টাকা রাখতে বা লেনদেন করতে দেবেন না, এতে আপনার নামেই দায় পড়ে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বিকাশ একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগে?
অ্যাপে বা এজেন্টের মাধ্যমে একাউন্ট খোলা বিনা মূল্যে। শুধু লেনদেনের ধরন অনুযায়ী পরে নির্ধারিত চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
জন্ম নিবন্ধন দিয়ে কি সাধারণ বিকাশ একাউন্ট খোলা যায়?
সাধারণ গ্রাহক একাউন্টের জন্য নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র লাগে। কম বয়সীদের জন্য আলাদা কোনো সুবিধা চালু থাকলে তার শর্ত বিকাশের অ্যাপ বা গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকে জেনে নিন।
বিকাশের *২৪৭# ডায়াল করে কি নতুন একাউন্ট খোলা যায়?
*২৪৭# মূলত চালু একাউন্টে লেনদেনের জন্য। নতুন একাউন্টের পরিচয় যাচাই হয় অ্যাপে বা এজেন্টের মাধ্যমে, তারপর এই কোডে পিন সেট করে ব্যবহার শুরু করা যায়।
বিজ্ঞাপন
ফোন হারিয়ে গেলে একাউন্টের কী হবে?
টাকা একাউন্টেই থাকে, ফোনে নয়। দ্রুত সিম তুলে নিন এবং প্রয়োজনে বিকাশ হেল্পলাইনে জানিয়ে একাউন্ট সাময়িক বন্ধ রাখুন। নতুন ফোনে আগের নম্বর দিয়ে আবার লগইন করা যায়।