হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য সংগ্রহ ও গোপনীয়তা
অ্যাপের এন্ড‑টু‑এন্ড এনক্রিপশন বার্তা রক্ষা করে, তবে ফোন নম্বরসহ অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ হয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ব্যক্তিগত বার্তা ও ফোনকলের গোপনীয়তা রক্ষায় এন্ড‑টু‑এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়; এই প্রযুক্তির ফলে প্রেরক ও প্রাপক ছাড়া অন্য কেউ বিষয়বস্তু পড়তে পারে না, আর মেটা নিজেরাই ব্যক্তিগত বার্তার বিষয়বস্তু দেখতে পারে না। তবে এন্ড‑টু‑এন্ড এনক্রিপশন থাকা সত্ত্বেও অ্যাপটি সেবা চালু রাখতে ফোন নম্বরসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও কারিগরি তথ্য সংগ্রহ করে।
বিজ্ঞাপন
হোয়াটসঅ্যাপ সেবা পরিচালনা ও ব্যবহারকারীদের মধ্যে যোগাযোগ নিশ্চিত করার জন্য ফোন নম্বর, নামের মতো পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য এবং অ্যাপ ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত কারিগরি তথ্য সংগ্রহ করে। তথ্য সংগ্রহের তিনটি প্রধান উৎস রয়েছে: ব্যবহারকারী নিজে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় প্রদান করা তথ্য, অ্যাপের স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করা কারিগরি ডেটা, এবং অন্য ব্যবহারকারীদের সংরক্ষিত কন্ট্যাক্ট তালিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য।
প্রথমে, হোয়াটসঅ্যাপে নিবন্ধনের জন্য ফোন নম্বর বাধ্যতামূলক; এটি ব্যবহারকারীর মৌলিক পরিচয় নিশ্চিত করে। দ্বিতীয়ত, ইন্টারনেট সংযোগ, বার্তা আদান‑প্রদান, মিডিয়া আপলোড ইত্যাদি অ্যাপের স্বয়ংক্রিয় কাজের ফলে বিভিন্ন কারিগরি তথ্য লোগে সংরক্ষণ হয়। তৃতীয়ত, যখন অন্য ব্যবহারকারীরা তাদের ফোনের কন্ট্যাক্ট তালিকায় আপনার নম্বর সংরক্ষণ করে, তখন হোয়াটসঅ্যাপ সেই তথ্যের মাধ্যমে আপনার প্রোফাইল আপডেট করতে পারে।
যদিও এন্ড‑টু‑এন্ড এনক্রিপশন বার্তা ও কলের বিষয়বস্তু রক্ষা করে, তবে অ্যাকাউন্ট ও সেবা ব্যবহার সম্পর্কিত সব তথ্য এই এনক্রিপশনের আওতায় আসে না; ফলে ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর, ডিভাইসের আইডি ও ব্যবহার প্যাটার্ন ইত্যাদি ডেটা সংরক্ষিত থাকে।
হোয়াটসঅ্যাপ মেটার মালিকানাধীন এবং মেটার অন্যান্য সেবার সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহায়তা, উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য কাজ করে। ব্যবহারকারী যখন হোয়াটসঅ্যাপের কোনো সুবিধা মেটার অন্য সেবার সঙ্গে যুক্ত করে, তখন সেই সুবিধা চালু রাখতে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য শেয়ার করা হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
উদাহরণস্বরূপ, হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাস ফেসবুকে শেয়ার করার সুবিধা ব্যবহার করলে দুটি সেবার মধ্যে তথ্য আদান‑প্রদানের প্রয়োজন হতে পারে, তবে মেটা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ব্যক্তিগত বার্তা বা ফোনকলের বিষয়বস্তু দেখতে পারে না; এন্ড‑টু‑এন্ড এনক্রিপশনের কারণে চ্যাট, ছবি, ভিডিও, ভয়েস মেসেজ ও নথির বিষয়বস্তু প্রেরক ও প্রাপক ছাড়া অন্য কেউ পড়তে পারে না।
ডেটা সংগ্রহ, শেয়ার ও বিক্রির বিষয়গুলো আলাদা; হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর কিছু তথ্য সংগ্রহ করে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মেটার অন্যান্য সেবার সঙ্গে শেয়ার করে, তবে শুধুমাত্র এই তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায় না যে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করে।
গোপনীয়তা বাড়ানোর জন্য হোয়াটসঅ্যাপে ‘প্রাইভেসি চেকআপ’ নামে একটি সুবিধা রয়েছে; সেটিংস থেকে প্রাইভেসি অপশনে গিয়ে প্রোফাইলের ছবি, সর্বশেষ অনলাইন সময়সহ বিভিন্ন তথ্য কারা দেখতে পারবে তা নির্ধারণ করা যায়, যেখানে ‘সবাই’, ‘কন্ট্যাক্টস’, ‘নির্দিষ্ট কন্ট্যাক্টস’ অথবা ‘কেউ না’ ইত্যাদি অপশন বেছে নেওয়া সম্ভব।
এর পাশাপাশি ব্যবহারকারী কে তাকে গ্রুপে যুক্ত করতে পারবে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্তা মুছে ফেলার সময়সীমা সেট করা, এবং চ্যাট লক বা অ্যাপ লক ব্যবহার করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা যোগ করা যায়।
বিজ্ঞাপন
চ্যাটের ব্যাকআপের নিরাপত্তা বাড়াতে এন্ড‑টু‑এন্ড এনক্রিপশন চালু করা যায়; এই সুবিধা সক্রিয় করলে চ্যাট ও মিডিয়া গুগল অ্যাকাউন্ট বা আইক্লাউডে ব্যাকআপ হিসেবে সংরক্ষিত হয়, এবং পাসওয়ার্ড অথবা ৬৪‑সংখ্যার এনক্রিপশন কী দিয়ে সুরক্ষিত থাকে, ফলে অনুমোদন ছাড়া ব্যাকআপের তথ্য পড়া কঠিন হয়ে যায়।
কিন্তু ব্যাকআপের পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন কী হারিয়ে গেলে অথবা ব্যবহার না করলে সংরক্ষিত চ্যাট পুনরুদ্ধার করা না-ও হতে পারে, এবং হোয়াটসঅ্যাপ ব্যাকআপ খুলে দিতে বা কী উদ্ধার করে দিতে পারে না; তাই পাসওয়ার্ড বা কী নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা জরুরি।
হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা ও কল এনক্রিপশনের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকলেও ব্যবহারকারীর সব তথ্য গোপন থাকে না; অ্যাপ কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে এবং কোন ক্ষেত্রে সেগুলি শেয়ার হতে পারে তা জানা থাকলে গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়, এজন্য নিয়মিত প্রাইভেসি সেটিংস পর্যালোচনা এবং ব্যাকআপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।