ফেসবুক আইডি খোলার নিয়ম: মোবাইল দিয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ:
নতুন স্মার্টফোন হাতে পেয়ে অনেকে প্রথমেই একটি ফেসবুক আইডি খুলতে চান। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ, পছন্দের পেজ অনুসরণ, ব্যবসার প্রচার, সবকিছুর জন্যই এখন ফেসবুক দরকার। কাজটি কয়েক মিনিটের, আর কোনো টাকা লাগে না। লাগে শুধু একটি সচল মোবাইল নম্বর বা ইমেইল ঠিকানা।
বিজ্ঞাপন
ফেসবুক আইডি খোলার নিয়ম সংক্ষেপে এমন: ফেসবুক অ্যাপ নামিয়ে বা ব্রাউজারে ফেসবুক খুলে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরির বোতামে চাপ দিন, নাম, জন্মতারিখ, লিঙ্গ, মোবাইল নম্বর বা ইমেইল আর একটি শক্ত পাসওয়ার্ড দিন, তারপর নম্বরে আসা নিশ্চিতকরণ কোড বসিয়ে দিন। এরপর প্রোফাইল ছবি দিয়ে আর নিরাপত্তার কিছু সেটিং ঠিক করে নিলেই আইডি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।
ফেসবুক খোলার আগে জেনে রাখুন
ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলতে ন্যূনতম বয়স ১৩ বছর। ভুল জন্মতারিখ দিয়ে কম বয়সে আইডি খুললে পরে অ্যাকাউন্ট আটকে গেলে পরিচয় প্রমাণে সমস্যা হয়। আসল জন্মতারিখই দিন, চাইলে পরে সেটি অন্যদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা যায়।
নাম দিন নিজের আসল নাম, যে নামে পরিচিতরা আপনাকে চেনেন। ফেসবুকের নীতিতে ব্যক্তিগত প্রোফাইলে প্রকৃত নাম ব্যবহারের কথা বলা আছে। অদ্ভুত চিহ্ন, সংখ্যা বা বিশেষণ জুড়ে দেওয়া নাম অনেক সময় গ্রহণ করে না, আবার অ্যাকাউন্ট সাময়িক বন্ধও হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
মোবাইল নম্বর বা ইমেইল যেটিই দিন, সেটি যেন আপনার নিজের ও দীর্ঘদিন চালু থাকে। পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে বা অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে এই নম্বর বা ইমেইলই একমাত্র ভরসা।
মোবাইল অ্যাপ দিয়ে ফেসবুক কিভাবে খুলবো
১. অ্যাপ নামানো: অ্যান্ড্রয়েডে প্লে স্টোর, আইফোনে অ্যাপ স্টোর থেকে ফেসবুক অ্যাপ নামান। প্রকাশকের নাম মেটা দেখে নিশ্চিত হোন। কম জায়গার ফোনে ফেসবুক লাইট ব্যবহার করতে পারেন, নিয়ম প্রায় একই।
২. নতুন অ্যাকাউন্টের অপশন: অ্যাপ খুললে লগইন পাতার নিচে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরির বোতাম পাবেন। সেখানে চাপ দিন এবং শুরু করার বোতামে যান।
বিজ্ঞাপন
৩. নাম দেওয়া: প্রথম নাম ও শেষ নাম আলাদা ঘরে লিখুন। বাংলা বা ইংরেজি, যেকোনো ভাষায় লেখা যায়, তবে খোঁজার সুবিধার জন্য অনেকে ইংরেজিতে লেখেন।
৪. জন্মতারিখ ও লিঙ্গ: তারিখ বেছে নিন এবং লিঙ্গ নির্বাচন করুন।
৫. মোবাইল নম্বর বা ইমেইল: নিজের সচল নম্বর দিন। চাইলে ইমেইল দিয়েও খোলা যায়। নম্বর দিলে দেশের কোড সঠিক আছে কি না দেখুন।
৬. পাসওয়ার্ড: অন্তত আট অক্ষরের শক্ত পাসওয়ার্ড দিন, যাতে বড়-ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও চিহ্ন থাকে। নিজের নাম বা ফোন নম্বর পাসওয়ার্ড হিসেবে দেবেন না।
বিজ্ঞাপন
৭. শর্তে সম্মতি: ফেসবুকের শর্ত ও নীতিমালার সারাংশ দেখাবে। পড়ে সম্মতি দিন।
৮. নিশ্চিতকরণ কোড: নম্বরে এসএমএসে বা ইমেইলে একটি কোড আসবে। সেটি বসালেই অ্যাকাউন্ট নিশ্চিত হয়ে যাবে।
এরপর অ্যাপ প্রোফাইল ছবি দিতে, পরিচিতদের খুঁজে নিতে বলবে। চাইলে এই ধাপগুলো এখন বাদ দিয়ে পরে করা যায়।
কম্পিউটার বা ব্রাউজার দিয়ে ফেসবুক খোলার উপায়
বিজ্ঞাপন
কম্পিউটারে ব্রাউজার খুলে facebook.com এ গেলে লগইন বক্সের নিচে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরির বোতাম দেখা যায়। চাপ দিলে একটি ছোট ফরম আসে, যেখানে একই তথ্য দিতে হয়: নাম, মোবাইল নম্বর বা ইমেইল, পাসওয়ার্ড, জন্মতারিখ ও লিঙ্গ। ফরম জমা দিলে নিশ্চিতকরণ কোড আসে, তা বসিয়ে কাজ শেষ। মোবাইলের ব্রাউজারেও একইভাবে ফেসবুকের ওয়েবসাইট থেকে আইডি খোলা যায়, অ্যাপ নামানোর দরকার পড়ে না।
সাইবার ক্যাফে বা অন্যের কম্পিউটারে আইডি খুললে কাজ শেষে অবশ্যই লগআউট করুন। ব্রাউজার যদি পাসওয়ার্ড মনে রাখার প্রস্তাব দেয়, তা প্রত্যাখ্যান করুন। ঠিকানা লেখার সময় বানান খেয়াল করুন, কারণ ফেসবুকের মতো দেখতে নকল লগইন পাতা বানিয়ে অনেকে পাসওয়ার্ড চুরি করে।
আইডি খোলার পর প্রথম দিনেই যে কাজগুলো করবেন
১. প্রোফাইল ছবি: নিজের পরিষ্কার একটি ছবি দিন। এতে পরিচিতরা সহজে চিনবেন, আর অ্যাকাউন্ট উদ্ধারের সময়ও কাজে লাগতে পারে।
বিজ্ঞাপন
২. দুই ধাপের যাচাই চালু: সেটিং থেকে নিরাপত্তা অংশে গিয়ে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করুন। এতে পাসওয়ার্ড জানলেও কেউ আপনার ফোনের কোড ছাড়া লগইন করতে পারবে না।
৩. প্রাইভেসি ঠিক করা: পোস্ট কারা দেখবে, ফোন নম্বর ও জন্মতারিখ কারা দেখবে, এসব সাধারণত সেটিংয়ের প্রাইভেসি অংশে থাকে। শুরুতে বন্ধু ছাড়া অন্যদের জন্য তথ্য সীমিত রাখুন।
৪. রিকভারি তথ্য যোগ: মোবাইল নম্বর দিয়ে খুললে একটি ইমেইলও যোগ করুন, ইমেইল দিয়ে খুললে নম্বর যোগ করুন। একটি হারালে অন্যটি দিয়ে অ্যাকাউন্ট ফেরানো যাবে।
৫. পরিচিতদের বন্ধু করা: শুরুতেই অপরিচিত শত শত মানুষকে বন্ধু বানানোর অনুরোধ পাঠাবেন না। এতে ফেসবুক সন্দেহজনক আচরণ ভেবে অ্যাকাউন্ট সাময়িক সীমিত করতে পারে।
বিজ্ঞাপন
বয়স্ক বা নতুন ব্যবহারকারীর জন্য আইডি খুলে দিলে
পরিবারে মা-বাবা বা দাদা-দাদির জন্য অনেকেই ফেসবুক আইডি খুলে দেন, যাতে তাঁরা প্রবাসী সন্তান বা নাতি-নাতনির ছবি দেখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আইডিটি তাঁদের নিজের নামে, তাঁদের নিজের মোবাইল নম্বরে খুলুন। নিজের নম্বর দিয়ে খুলে দিলে পরে আপনার নম্বর বদলালে তাঁদের আইডি ফেরানো কঠিন হবে।
পাসওয়ার্ডটি তাঁদের জানিয়ে দিন এবং একটি কাগজে লিখে নিরাপদ জায়গায় রাখতে বলুন। ফেসবুক মেসেঞ্জারে অপরিচিত কারও পাঠানো লিংকে চাপ না দেওয়া, পুরস্কার বা লটারির বার্তায় বিশ্বাস না করা, আর কেউ কোড চাইলে না দেওয়া, এই তিনটি নিয়ম বুঝিয়ে বলুন। প্রাইভেসি সেটিং আপনি নিজে ঠিক করে দিন, যাতে তাঁদের ফোন নম্বর ও বন্ধুতালিকা সবার জন্য খোলা না থাকে। হ্যাকাররা প্রায়ই নতুন ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে, তাই শুরুতেই টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করে দেওয়া সবচেয়ে কাজের।
অ্যাকাউন্ট খুলতে যে সমস্যাগুলো হয়
বিজ্ঞাপন
কোড না এলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার কোড পাঠানোর অপশন চাপুন, নম্বরটি ঠিক লেখা হয়েছে কি না দেখুন। একই নম্বর দিয়ে আগে অ্যাকাউন্ট খোলা থাকলে নতুনটি খুলতে দেবে না, তখন পুরোনোটিতে লগইন করুন বা পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধার করুন। নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার পরপরই যদি ছবি বা পরিচয় যাচাই চায়, নির্দেশনা মেনে নিজের ছবি দিন। এটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট ঠেকানোর সাধারণ ব্যবস্থা।
কখনো টাকা দিয়ে পুরোনো বা যাচাইকৃত আইডি কিনবেন না। এগুলো প্রায়ই হ্যাক করা অ্যাকাউন্ট, যা মূল মালিক ফেরত নিতে পারেন, আবার এতে আইনি ঝুঁকিও থাকে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ইমেইল ছাড়া কি ফেসবুক খোলার উপায় আছে?
বিজ্ঞাপন
হ্যাঁ, শুধু মোবাইল নম্বর দিয়েই ফেসবুক আইডি খোলা যায়। তবে নিরাপত্তার জন্য পরে একটি ইমেইল যোগ করে রাখা ভালো।
এক নম্বর দিয়ে কয়টি ফেসবুক আইডি খোলা যায়?
একটি মোবাইল নম্বর বা ইমেইল একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের সঙ্গেই যুক্ত থাকে। ফেসবুকের নীতিতে একজন মানুষের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল রাখার কথা বলা আছে, ব্যবসার জন্য আলাদা পেজ খোলা যায়।
জন্মতারিখ ভুল দিয়ে ফেলেছি, বদলানো যাবে?
বিজ্ঞাপন
প্রোফাইলের ব্যক্তিগত তথ্য অংশ থেকে সাধারণত বদলানো যায়, তবে বারবার বদলানো সীমিত। তাই একবারেই সঠিক তারিখ দিন।
ফেসবুক আইডি খুলতে কি জাতীয় পরিচয়পত্র লাগে?
সাধারণত লাগে না। তবে অ্যাকাউন্ট আটকে গেলে বা নাম বদলাতে চাইলে পরিচয় প্রমাণে সরকারি পরিচয়পত্রের ছবি চাওয়া হতে পারে।