নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১২
পূজার ছুটিতে রাজশাহী যাওয়ার পথে একই পরিবারের দুইজন ও ব্যবসায়ীসহ মোট ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন
নাটোর জেলা প্রতিনিধি · বড়াইগ্রাম, নাটোর
প্রকাশ:
মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন। পূজার ছুটি কাটাতে রাজশাহী যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনায় শহিদুল ইসলাম (৪০) ও তাঁর আট বছরের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন প্রাণ হারিয়েছেন। শহিদুলের স্ত্রী রুবিনা আক্তার (৩৬) ও ছেলে লাবিব হোসেন (১০) আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রুবিনা এখনো জানেন না যে তাঁর স্বামী ও মেয়ে বেঁচে নেই।
বিজ্ঞাপন
রুবিনা আক্তার পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালি গ্রামের বাসিন্দা এবং পূবালী ব্যাংকের সুবিদখালি শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তাঁর স্বামী শহিদুল ইসলাম ব্র্যাক ব্যাংকের মাগুরা শাখায় ক্রেডিট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁদের মেয়ে তাছফিয়া তৃতীয় শ্রেণিতে এবং ছেলে লাবিব পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। রাজশাহীর পাঠানপাড়া এলাকায় রুবিনার ভগ্নিপতি ইস্টার্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা শহিদুর রহমানের বাসায় তাদের ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা ছিল। পটুয়াখালী থেকে রুবিনা ও সন্তানদের সঙ্গে পথে শহিদুল যোগ দিয়েছিলেন।
শহিদুর রহমান জানান, নির্ধারিত সময়ে তাঁরা না পৌঁছানোয় খোঁজ নিতে গিয়ে দুর্ঘটনার খবর পান। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমার শ্যালিকা ও ভায়রা ওমরাহ করে এসেছেন। দুজনই ব্যাংকে চাকরি করেন। পূজার ছুটিটা আমাদের বাসায় কাটাতে চেয়েছিলেন। সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেল।’ বর্তমানে শহিদুর নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি লাবিবের পাশে আছেন এবং তাঁর স্ত্রী রয়েছেন বনপাড়া পাটোয়ারী ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রুবিনার সঙ্গে। সকাল সাড়ে আটটার দিকে ক্লিনিকে রুবিনাকে ব্যথায় কাতরাতে দেখা যায়, যেখানে তিনি বারবার স্বামী ও সন্তানদের খোঁজ জানতে চাইছেন।
এই দুর্ঘটনায় শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ীও প্রাণ হারিয়েছেন। কৃষিপণ্যের বীজ ও পণ্য কেনার উদ্দেশ্যে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে যাওয়ার পথে তাঁরা দুর্ঘটনার শিকার হন। সোমবার সন্ধ্যায় জাজিরার কাজীরহাট বাজার থেকে মোট সাতজন ব্যবসায়ী যাত্রা শুরু করেন, যার মধ্যে দুইজন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যবসায়ীরা হলেন জাজিরার বড়কান্দি ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার জুয়েল মাদবর (৪০), সালাল মোল্যা (৪৫), সোহাগ শিকদার (৩০), আবদুস সামাদ ফকির (৭০) ও পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার শাহিন ব্যাপারী (২৫)।
স্বজনদের ভাষ্যমতে, সাত ব্যবসায়ী প্রথমে নাওডোবা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যান। সেখান থেকে বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি স্পেশাল পরিবহনের বাসে ওঠেন। বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে নয়জন এবং পরে হাসপাতালে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। নিহত জুয়েল মাদবরের ভগ্নিপতি বাদল জমাদ্দার জানান, জুয়েল রড-সিমেন্টের ব্যবসার পাশাপাশি রবিশস্য কেনাবেচা করতেন এবং ভুট্টার বীজ কেনার পরিকল্পনায় রাজশাহীতে যাচ্ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
কাজীরহাট বণিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানান, নিহত ব্যবসায়ীদের মরদেহ আনতে তাঁরা নাটোরের পথে রওনা হয়েছেন এবং আহত দুই ব্যবসায়ীর স্বজনেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে গেছেন। বড়কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর খলিফা জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো এলাকায় নেওয়া হবে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।