ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: এমপির ছেলে নূরুজ্জামান ফের দুই দিনের রিমান্ডে
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ
নাটোর জেলা প্রতিনিধি · গুরুদাসপুর, নাটোর
প্রকাশ:
নাটোর-৪ আসনের (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামানকে (মিন্টু) পুনরায় দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে গুরুদাসপুর আমলি আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন। ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
বিজ্ঞাপন
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম জানান, রোববার রাতে গুরুদাসপুরের নয়াবাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নীল-সাদা রঙের একটি নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে গাড়িটির মালিকানা শনাক্ত করার কাজ চলছে। ঘটনার সময় মোটরসাইকেলটি সড়কে পড়ে যাওয়ায় সেটিতে ডান পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও তিনি জানান।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা কারাগার থেকে নূরুজ্জামানকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে বলেন, ‘তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাইবাছাই করার জন্য আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া দরকার। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও অবস্থান জানতে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া জরুরি।’
রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম সারোয়ার ও মাহবুব হোসেন বলেন, আসামিকে ইতিমধ্যে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তবে তাতে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শুনানি শেষে বিচারক নূরুজ্জামানের আরও দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালত নির্দেশ দেন যে, রিমান্ডে নেওয়ার আগে ও পরে আসামির ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে হবে এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
তদন্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম আরও জানান, প্রবাসী রাসেল হোসাইন ও মিন্টুকে ঘিরে সন্দেহগুলো যাচাই করা হচ্ছে। গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। পরে ২৬ অক্টোবর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।