ফেসবুক পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে লগইন করার উপায়: সহজ রিকভারি পদ্ধতি
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ:
অনেক দিন ফেসবুক ফোনে লগইন করা ছিল, পাসওয়ার্ড টাইপ করার দরকারই পড়েনি। নতুন ফোন কিনে লগইন করতে গিয়ে দেখলেন পাসওয়ার্ডটাই মনে নেই। পাসওয়ার্ড ভুলে গেছি, এই সমস্যা খুবই সাধারণ, আর এর সমাধানও ফেসবুক নিজেই দিয়ে রেখেছে।
বিজ্ঞাপন
ফেসবুক পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে সবচেয়ে সহজ পথ হলো লগইন পাতার পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন লেখাটিতে ট্যাপ করা। এরপর অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর বা ইমেইল ঠিকানা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুঁজে বের করুন। ফেসবুক সেই নম্বরে এসএমএস বা ইমেইলে একটি কোড পাঠাবে। কোডটি বসিয়ে নতুন পাসওয়ার্ড ঠিক করলেই আবার লগইন করতে পারবেন।
সমস্যা হয় তখন, যখন পুরোনো নম্বরটি আর নেই বা ইমেইলের পাসওয়ার্ডও মনে নেই। সেই কঠিন পরিস্থিতির পথও নিচে আলাদা করে দেওয়া হলো।
ফেসবুক কিভাবে লগইন করবো: পাসওয়ার্ড রিসেটের ধাপ
১. লগইন পাতা খুলুন: ফেসবুক অ্যাপ বা ব্রাউজারে লগইন পাতায় যান। পাসওয়ার্ডের ঘরের নিচে পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন জাতীয় লেখাটিতে ট্যাপ করুন।
বিজ্ঞাপন
২. অ্যাকাউন্ট খুঁজুন: অ্যাকাউন্টে যুক্ত মোবাইল নম্বর বা ইমেইল লিখুন। নম্বর দিলে দেশের কোডসহ বা শুরুতে শূন্যসহ, দুভাবেই চেষ্টা করে দেখতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে নাম দিয়েও খোঁজা যায়।
৩. কোড পাঠানোর মাধ্যম বেছে নিন: অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেলে ফেসবুক দেখাবে কোড কোথায় পাঠানো যাবে, এসএমএসে নাকি ইমেইলে। যেটি আপনার হাতে আছে, সেটি বেছে নিন।
৪. কোড বসান: ছয় বা আট অঙ্কের কোডটি নির্ধারিত ঘরে লিখুন। ইমেইলে না পেলে স্প্যাম ফোল্ডার দেখুন।
৫. নতুন পাসওয়ার্ড দিন: এমন একটি পাসওয়ার্ড দিন, যা আগে ব্যবহার করেননি। এরপর ফেসবুক জিজ্ঞেস করতে পারে, অন্য সব ডিভাইস থেকে লগআউট করবেন কি না। নিরাপত্তার জন্য হ্যাঁ বেছে নেওয়াই ভালো।
বিজ্ঞাপন
পরিচিত ফোনে লগইন থাকলে সুবিধা
অনেক সময় একটি ডিভাইসে ফেসবুক এখনো খোলা থাকে, যেমন পুরোনো ফোন বা অফিসের কম্পিউটার। সেখান থেকে সেটিংসের পাসওয়ার্ড ও নিরাপত্তা অংশে গিয়ে পাসওয়ার্ড বদলাতে গেলে পুরোনো পাসওয়ার্ড চায়। তখন সেখানেও পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন বিকল্প থাকে। লগইন থাকা ডিভাইস থেকে রিসেট করলে ফেসবুক আপনাকে সহজে চিনতে পারে, কারণ ডিভাইসটি তার কাছে পরিচিত। তাই নতুন ফোনে লগইনের আগে পুরোনো ফোনটি ফেলে দেবেন না বা রিসেট করবেন না।
এ ছাড়া কিছু ডিভাইসে আগে লগইনের সময় তথ্য মনে রাখার বিকল্প চালু থাকলে প্রোফাইল ছবিতে ট্যাপ করেই পাসওয়ার্ড ছাড়া ঢোকা যায়। দেখে নিন আপনার ডিভাইসে এমন কিছু আছে কি না।
পুরোনো নম্বর বা ইমেইল নেই: তখন কী করবেন
বিজ্ঞাপন
এটি সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি, তবে আশা ছাড়ার কিছু নেই।
১. পুরোনো নম্বরটি ফেরত আনুন: সিম হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকে এনআইডি দিয়ে একই নম্বরের নতুন সিম তুলুন। সিমটি আপনার নামে নিবন্ধিত থাকলে কাজটি সহজ। এটিই অনেক ক্ষেত্রে সবচেয়ে দ্রুত সমাধান।
২. ইমেইল উদ্ধার করুন: ইমেইলের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে আগে ইমেইল সেবাদাতার পুনরুদ্ধার পদ্ধতিতে ইমেইলটি ফেরত আনুন। তারপর সেখানে ফেসবুকের কোড নিন।
৩. আর ব্যবহার করতে পারছেন না বিকল্প: কোড পাঠানোর মাধ্যম বাছাইয়ের পাতায় অনেক সময় একটি বিকল্প থাকে যে এগুলোর কোনোটিই আর আপনার কাছে নেই। সেটি বেছে নিলে ফেসবুক একটি নতুন ইমেইল ঠিকানা বা নম্বর চাইতে পারে এবং পরিচয় যাচাইয়ের ধাপে নিয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
৪. পরিচয় যাচাই: ফেসবুক কখনো ছবিসহ পরিচয়পত্রের ছবি, কখনো নিজের মুখের একটি ছোট ভিডিও সেলফি চাইতে পারে। প্রোফাইলের নাম ও ছবি আসল হলে এই পদ্ধতিতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পর্যালোচনায় কয়েক দিন লাগতে পারে।
ফেসবুক লগইন সমস্যার আরও কিছু কারণ
সব লগইন সমস্যা পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার কারণে নয়।
১. ক্যাপস লক বা ভাষা: কিবোর্ডে বড় হাতের অক্ষর চালু থাকলে বা বাংলা কিবোর্ডে টাইপ করলে পাসওয়ার্ড ভুল হয়।
বিজ্ঞাপন
২. টু-ফ্যাক্টর কোড: দুই ধাপের যাচাই চালু থাকলে পাসওয়ার্ডের পর আরেকটি কোড লাগে। অথেনটিকেটর অ্যাপ ফোনে না থাকলে আগে সংরক্ষণ করা ব্যাকআপ কোড ব্যবহার করুন।
৩. অ্যাকাউন্ট সাময়িক লক: বারবার ভুল পাসওয়ার্ড দিলে বা সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখলে ফেসবুক সাময়িকভাবে লগইন আটকে দিতে পারে। তখন কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
৪. হ্যাক হয়ে থাকলে: আপনি পাসওয়ার্ড বদলাননি অথচ ইমেইলে পাসওয়ার্ড বা ইমেইল পরিবর্তনের বার্তা পেয়েছেন, তাহলে বিষয়টি হ্যাকিং। তখন ফেসবুকের হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্টের পুনরুদ্ধার পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
নতুন পাসওয়ার্ড: যেন আর ভুলে না যান
বিজ্ঞাপন
ভালো পাসওয়ার্ড লম্বা হয়, কিন্তু মনে রাখা কঠিন নয়। কয়েকটি অসম্পর্কিত শব্দ, কিছু সংখ্যা ও চিহ্ন মিলিয়ে একটি বাক্যের মতো পাসওয়ার্ড বানাতে পারেন। নিজের নাম, জন্মতারিখ বা মোবাইল নম্বর দিয়ে পাসওয়ার্ড বানাবেন না।
পাসওয়ার্ড মনে রাখার নিরাপদ উপায় হলো ফোনের নির্ভরযোগ্য পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা। আর অ্যাকাউন্টে একটির বেশি যোগাযোগ মাধ্যম রাখুন, অর্থাৎ মোবাইল নম্বরের পাশাপাশি একটি সক্রিয় ইমেইলও যুক্ত রাখুন। নম্বর বদলালে সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকেও হালনাগাদ করুন।
ফেসবুকের সেটিংসে পাসওয়ার্ড ও নিরাপত্তা অংশে লগইন সতর্কতা চালু রাখুন। এতে অচেনা ডিভাইস থেকে কেউ লগইন করলে আপনি সঙ্গে সঙ্গে নোটিফিকেশন বা ইমেইল পাবেন। একই অংশে দুই ধাপের যাচাই চালু করে ব্যাকআপ কোডগুলো কাগজে লিখে নিরাপদ জায়গায় রেখে দিন। পরের বার পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে বা ফোন হারালে এই কোডগুলোই আপনাকে বাঁচাবে।
পাসওয়ার্ড কোনো কাগজে লিখে রাখতে চাইলে সেটি ফোনের কভারে বা মানিব্যাগে রাখবেন না। আর একই পাসওয়ার্ড ফেসবুক, ইমেইল ও অন্যান্য সাইটে ব্যবহার করবেন না। একটি সাইটের তথ্য ফাঁস হলে বাকিগুলোও ঝুঁকিতে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
যা কখনো করবেন না
পাসওয়ার্ড উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে টাকা চায় এমন কারও কাছে যাবেন না। কেউ ফোন করে বা মেসেজ দিয়ে আপনার কাছে আসা কোড চাইলে দেবেন না। ফেসবুক কখনো মেসেঞ্জারে পাসওয়ার্ড বা কোড চায় না। পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার দুশ্চিন্তার সুযোগ নিয়েই প্রতারকেরা অ্যাকাউন্ট দখল করে। একইভাবে ফেসবুকের নকল লগইন পাতা দেখতে আসল পাতার মতোই হয়। মেসেজে বা ইমেইলে আসা কোনো লিংকে ক্লিক করে লগইন করতে বললে সেখানে পাসওয়ার্ড দেবেন না, সরাসরি অ্যাপ বা নিজে ঠিকানা লিখে ফেসবুকে ঢুকুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
পুরোনো পাসওয়ার্ড দিয়ে কি লগইন করা যায়?
বিজ্ঞাপন
না, পুরোনো পাসওয়ার্ড বদলে গেলে আর কাজ করে না। তবে অ্যাকাউন্ট উদ্ধারের সময় ফেসবুক কখনো পুরোনো পাসওয়ার্ড জিজ্ঞেস করে মালিকানা যাচাই করতে পারে।
কোড আসছে না, কী করব?
নম্বর বা ইমেইল ঠিক আছে কি না দেখুন, স্প্যাম ফোল্ডার দেখুন এবং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার কোড চান। খুব ঘন ঘন চাইলে কিছু সময়ের জন্য কোড পাঠানো বন্ধ থাকতে পারে।
পাসওয়ার্ড রিসেট করলে কি অন্য ডিভাইস থেকে লগআউট হয়ে যাবে?
বিজ্ঞাপন
ফেসবুক সাধারণত জিজ্ঞেস করে। অন্য ডিভাইস থেকে লগআউট করাই নিরাপদ, বিশেষ করে সন্দেহ থাকলে।
ফেসবুক লগইন করতে কি নম্বর ও ইমেইল দুটোই লাগে?
না, যেকোনো একটি এবং পাসওয়ার্ড হলেই চলে। তবে পুনরুদ্ধারের সুবিধার জন্য দুটোই যুক্ত রাখা ভালো।