ফেসবুক প্রোফাইল লক করার নিয়ম ও প্রাইভেসি সেটিং সাজানোর উপায়
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ:
অচেনা কেউ আপনার প্রোফাইল ছবি নামিয়ে ভুয়া আইডি খুলছে, পুরোনো ছবি ঘেঁটে মন্তব্য করছে, কিংবা বন্ধু তালিকা দেখে আত্মীয়দের কাছে মেসেজ পাঠাচ্ছে, এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়েছে। বিশেষ করে নারী ব্যবহারকারীদের জন্য এটি নিত্যদিনের দুশ্চিন্তা। ফেসবুক প্রোফাইল লক করা এই ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে দ্রুত উপায়।
বিজ্ঞাপন
প্রোফাইল লক করলে যাঁরা আপনার ফেসবুক বন্ধু নন, তাঁরা আপনার পোস্ট, প্রোফাইল ও কভার ছবির বড় সংস্করণ, স্টোরি ও নতুন ছবি দেখতে পারেন না। তাঁরা শুধু আপনার নাম, প্রোফাইল ছবির ছোট সংস্করণ ও সামান্য কিছু তথ্য দেখেন। প্রোফাইলে একটি লকের চিহ্নও দেখা যায়, যা দেখে তাঁরা বোঝেন প্রোফাইলটি সুরক্ষিত।
লক করার মূল ধাপ হলো: ফেসবুক অ্যাপে নিজের প্রোফাইলে যান, প্রোফাইল সম্পাদনার বোতামের পাশে থাকা তিন বিন্দুর মেনুতে ট্যাপ করুন, সেখান থেকে লক প্রোফাইল বেছে নিয়ে নিশ্চিত করুন। তবে এই সুবিধা বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট কিছু দেশে চালু, আর ফেসবুক মাঝে মাঝে মেনুর নাম ও জায়গা বদলায়। তাই বিকল্পটি না পেলে কী করবেন, সেটিও নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো।
ফেসবুক লক করার নিয়ম: ধাপে ধাপে
১. অ্যাপ হালনাগাদ করুন: পুরোনো সংস্করণে অনেক সময় বিকল্পটি দেখা যায় না। প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ফেসবুক অ্যাপ হালনাগাদ করে নিন।
বিজ্ঞাপন
২. প্রোফাইলে যান: নিজের ছবি বা নামে ট্যাপ করে প্রোফাইল পাতা খুলুন।
৩. তিন বিন্দুর মেনু: প্রোফাইল সম্পাদনা বা গল্প যোগ করার বোতামের পাশে তিন বিন্দু থাকে। সেখানে ট্যাপ করুন।
৪. লক প্রোফাইল: তালিকায় লক প্রোফাইল লেখা বিকল্পটি বেছে নিন। পরের পাতায় লক করলে কী কী বদলাবে, তা দেখানো হবে।
৫. নিশ্চিত করুন: আপনার প্রোফাইল লক করুন বোতামে চাপ দিন। প্রোফাইল এখন লক হয়ে গেছে।
বিজ্ঞাপন
ব্রাউজারে ফেসবুক চালালেও প্রোফাইলের একই ধরনের মেনু থেকে কাজটি করা যায়। লক খুলতে চাইলে একই পথে গিয়ে আনলক প্রোফাইল বেছে নিন।
ফেসবুক কিভাবে লক করবো, যদি বিকল্পটি না থাকে
ফেসবুক সব অ্যাকাউন্টে সব সময় একই সুবিধা দেয় না। পেশাদার মোড চালু থাকলে বা কিছু ধরনের অ্যাকাউন্টে লক বিকল্পটি না-ও থাকতে পারে। তখন প্রাইভেসি সেটিং আলাদা আলাদা করে সাজিয়ে প্রায় একই সুরক্ষা পাওয়া যায়। সেটিংসে যেতে মেনু থেকে সেটিংস ও প্রাইভেসি, তারপর সেটিংস খুলুন। সেখানে সাধারণত দর্শক ও দৃশ্যমানতা নামে একটি অংশ থাকে, প্রয়োজনীয় প্রায় সব বিকল্প সেখানেই।
১. ভবিষ্যতের পোস্ট: পোস্ট অংশে ভবিষ্যতে কারা আপনার পোস্ট দেখবেন, তা বন্ধুরা হিসেবে ঠিক করুন।
বিজ্ঞাপন
২. পুরোনো পোস্ট সীমিত করুন: একই অংশে পুরোনো পোস্টের দর্শক সীমিত করার বিকল্প আছে। এটি চালু করলে আগে পাবলিক বা বন্ধুর বন্ধুদের জন্য দেওয়া সব পোস্ট একসঙ্গে শুধু বন্ধুদের জন্য হয়ে যায়।
৩. প্রোফাইলের তথ্য: জন্মতারিখ, ফোন নম্বর, ইমেইল, ঠিকানা, কর্মস্থল ও সম্পর্কের অবস্থা কারা দেখবেন, প্রতিটির পাশে আলাদা করে ঠিক করুন। ফোন নম্বর ও ইমেইল শুধু নিজের জন্য রাখাই নিরাপদ।
৪. বন্ধু তালিকা: বন্ধু তালিকা কারা দেখবেন, তা শুধু আমি বা বন্ধুরা করে দিন। এতে প্রতারকেরা আপনার আত্মীয়দের খুঁজে পায় না।
৫. ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট: কারা আপনাকে বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠাতে পারবেন, তা বন্ধুর বন্ধু করে দিন। এতে সম্পূর্ণ অচেনা মানুষের অনুরোধ অনেক কমে।
বিজ্ঞাপন
৬. ফোন ও ইমেইল দিয়ে খোঁজা: আপনার নম্বর বা ইমেইল দিয়ে কেউ আপনাকে খুঁজে পাবেন কি না, তা শুধু আমি বা বন্ধুরা করে দিন।
৭. ফলোয়ার: পাবলিক পোস্ট কারা ফলো করতে পারবেন, সেটিও বন্ধুদের মধ্যে সীমিত রাখা যায়।
ফেসবুক প্রাইভেসি সেটিং: ছবি, ট্যাগ ও স্টোরি
প্রোফাইল ছবি ও কভার ছবি সাধারণত সবার জন্য দৃশ্যমান থাকে। তবে প্রতিটি পুরোনো ছবিতে গিয়ে দর্শক বদলানো যায়। পুরোনো প্রোফাইল ছবিগুলোর অ্যালবাম খুলে প্রতিটির দর্শক শুধু আমি বা বন্ধুরা করে দিন। অনেক ভুয়া আইডি এই পুরোনো ছবিগুলো থেকেই তৈরি হয়।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কেউ আপনাকে কোনো ছবি বা পোস্টে ট্যাগ করলে তা আপনার প্রোফাইলে আসার আগে আপনি অনুমোদন দেবেন, এমন পর্যালোচনার বিকল্প চালু রাখুন। এতে অপ্রত্যাশিত বা অস্বস্তিকর কোনো পোস্ট আপনার প্রোফাইলে চলে আসে না।
স্টোরির জন্য আলাদা সেটিং আছে। স্টোরি দেওয়ার সময় বা স্টোরির সেটিংসে গিয়ে ঠিক করুন কারা দেখবেন। চাইলে নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে স্টোরি থেকে লুকিয়ে রাখতে পারেন।
প্রাইভেসি চেকআপ: এক জায়গায় সব
ফেসবুকের প্রাইভেসি চেকআপ নামে একটি নির্দেশিত ব্যবস্থা আছে, যা সেটিংস ও প্রাইভেসি মেনু থেকে খোলা যায়। এটি কয়েকটি বিষয়ভিত্তিক ধাপে আপনাকে নিয়ে যায়: কারা আপনার তথ্য দেখতে পাবেন, কীভাবে অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখবেন, কারা আপনাকে খুঁজে পাবেন ইত্যাদি। যাঁরা প্রতিটি সেটিং আলাদা করে খুঁজতে চান না, তাঁদের জন্য এটি সবচেয়ে সহজ পথ। বছরে অন্তত একবার এটি চালিয়ে দেখুন, কারণ নতুন সুবিধা যোগ হলে নতুন সেটিংও আসে।
বিজ্ঞাপন
লক করেও যে ঝুঁকি থেকে যায়
প্রোফাইল লক বা কঠোর প্রাইভেসি সেটিং আপনাকে অচেনা মানুষ থেকে রক্ষা করে, কিন্তু বন্ধু তালিকায় থাকা মানুষ থেকে নয়। বন্ধুরা আপনার ছবি দেখতে পান এবং চাইলে স্ক্রিনশট নিতে পারেন। তাই বন্ধু তালিকা মাঝে মাঝে পর্যালোচনা করুন। যাঁদের চেনেন না বা যাঁদের নিয়ে অস্বস্তি আছে, তাঁদের বাদ দিন বা সীমিত তালিকায় রাখুন। সীমিত তালিকায় থাকা বন্ধুরা শুধু আপনার পাবলিক পোস্ট দেখতে পান।
এর পাশাপাশি অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তাও জরুরি। শক্ত পাসওয়ার্ড ও টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু না থাকলে কেউ অ্যাকাউন্টে ঢুকে গেলে লকের কোনো মূল্য থাকে না।
আরেকটি বিষয় মনে রাখুন, আপনি অন্যের পোস্টে বা পাবলিক গ্রুপে যে মন্তব্য করেন, তা সেই পোস্টের দর্শক অনুযায়ী অনেকে দেখতে পান। প্রোফাইল লক সেখানে কাজ করে না। তাই পাবলিক জায়গায় ফোন নম্বর, ঠিকানা বা ব্যক্তিগত তথ্য লিখবেন না।
বিজ্ঞাপন
হয়রানির শিকার হলে
কেউ ভুয়া আইডি খুলে আপনার ছবি ব্যবহার করলে সেই আইডির প্রোফাইলে গিয়ে তিন বিন্দুর মেনু থেকে রিপোর্ট করুন এবং ছদ্মবেশ ধারণের কারণ বেছে নিন। বন্ধুদেরও রিপোর্ট করতে বলুন। হুমকি, ব্ল্যাকমেইল বা ব্যক্তিগত ছবি ছড়ানোর ঘটনা ঘটলে প্রমাণ সংরক্ষণ করে নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করুন। পুলিশের সাইবার সহায়তা ইউনিটগুলোও এ ধরনের অভিযোগ নেয়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রোফাইল লক করলে বন্ধুরা কি সব দেখতে পান?
বিজ্ঞাপন
হ্যাঁ, বন্ধুরা আগের মতোই আপনার পোস্ট ও ছবি দেখতে পান। লক শুধু বন্ধু নন এমন মানুষদের জন্য।
লক করা প্রোফাইলে কি কেউ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতে পারবেন?
আপনার সেটিং অনুযায়ী পারবেন। কারা অনুরোধ পাঠাতে পারবেন, তা প্রাইভেসি সেটিং থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
প্রোফাইল লক অপশন পাচ্ছি না কেন?
বিজ্ঞাপন
অ্যাপের পুরোনো সংস্করণ, পেশাদার মোড চালু থাকা বা আপনার অঞ্চলে সুবিধাটি না থাকার কারণে এমন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রাইভেসি সেটিং আলাদা করে সাজান।
লক করলে কি প্রোফাইল ছবি লুকিয়ে যায়?
পুরোপুরি নয়। ছোট আকারের প্রোফাইল ছবি দেখা যায়, তবে বড় করে দেখা বা নামানোর সুযোগ সীমিত হয়।