এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন কী, যেভাবে কাজ করে
ডিজিটাল যোগাযোগে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তির কার্যপদ্ধতি
প্রযুক্তি ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রযুক্তি। আইবিএম ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রেরকের ডিভাইস থেকে পাঠানো বার্তা সংকেতবদ্ধ অবস্থায় প্রাপকের ডিভাইসে পৌঁছায়। ফলে বার্তা আদান-প্রদানের প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত বার্তার মূল বিষয়বস্তু পড়তে সক্ষম হয় না। হোয়াটসঅ্যাপের মতো অ্যাপগুলোতে ব্যবহারকারীদের কথোপকথনের গোপনীয়তা বজায় রাখতে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।
বিজ্ঞাপন
এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন হলো এমন একটি নিরাপত্তাপদ্ধতি, যেখানে প্রেরকের যন্ত্রেই বার্তাকে সংকেতবদ্ধ করা হয়। এরপর ইন্টারনেট বা অন্য কোনো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বার্তাটি প্রাপকের যন্ত্রে পাঠানো হয় এবং পুরো প্রক্রিয়ায় এটি সংকেতবদ্ধ থাকে। প্রাপকের যন্ত্রে পৌঁছানোর পর উপযুক্ত ডিক্রিপশন কি ব্যবহার করে বার্তাটিকে পুনরায় পাঠযোগ্য করে তোলা হয়।
এনক্রিপশন প্রক্রিয়ায় ক্রিপ্টোগ্রাফি প্রযুক্তির সাহায্যে পাঠযোগ্য তথ্যকে দুর্বোধ্য সংকেতে রূপান্তর করা হয়, যাকে সাইফারটেক্সট বলা হয়। নির্দিষ্ট ডিক্রিপশন কি ছাড়া সাধারণত এই তথ্যের মূল বক্তব্য উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। এর ফলে অননুমোদিত কেউ বার্তার নাগাল পেলেও সহজে সেটি পড়ে বুঝতে পারেন না।
এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, বার্তা আদান-প্রদানের মধ্যবর্তী পর্যায়ে থাকা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানও সাধারণত বার্তার বিষয়বস্তু পড়তে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, হোয়াটসঅ্যাপে এই সুবিধা চালু থাকলে ব্যক্তিগত কথোপকথনের বার্তা প্রেরকের যন্ত্রেই এনক্রিপ্ট করা হয় এবং প্রাপকের যন্ত্রে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত সেগুলো সংকেতবদ্ধ থাকে। ফলে হোয়াটসঅ্যাপের মতো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানও সাধারণত বার্তার মূল বিষয়বস্তু দেখতে পারে না।
তবে সব ধরনের এনক্রিপশন একইভাবে কাজ করে না। ট্রান্সপোর্ট লেয়ার সিকিউরিটি বা টিএলএস প্রটোকল ব্যবহারকারী ও সার্ভারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সময় সেটিকে সুরক্ষিত রাখলেও, সার্ভারে পৌঁছানোর পর তথ্যটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠযোগ্য হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ব্যক্তিগত কথোপকথন, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই প্রযুক্তি সব ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে না। প্রেরক বা প্রাপকের ডিভাইস হ্যাক হলে কিংবা তাতে ক্ষতিকর সফটওয়্যার থাকলে বার্তা অন্যের হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।