নগদ ব্যালেন্স চেক করার নিয়ম: অ্যাপ ও ডায়াল কোডে মুহূর্তেই
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ:
টাকা পাঠানোর আগে বা কেউ পাঠিয়েছে কি না নিশ্চিত হতে নগদ অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে, তা দেখার দরকার পড়ে বারবার। কাজটি করতে আলাদা কোনো ঝামেলা নেই। স্মার্টফোন থাকলে নগদ অ্যাপ, আর বাটন ফোন হলে ডায়াল কোড, দুই পথেই কয়েক সেকেন্ডে ব্যালেন্স জানা যায়।
বিজ্ঞাপন
অ্যাপে নগদ ব্যালেন্স চেক করতে অ্যাপ খুলে পিন দিয়ে লগইন করুন। হোম স্ক্রিনের ওপরের দিকে ব্যালেন্স দেখার জায়গায় ট্যাপ করলেই বর্তমান ব্যালেন্স ভেসে ওঠে। আর ডায়াল কোডে দেখতে নগদ নিবন্ধিত সিম থেকে *১৬৭# ডায়াল করুন, মেনু থেকে অ্যাকাউন্ট বা ব্যালেন্স-সংক্রান্ত অপশন বেছে নিন, তারপর পিন দিন। স্ক্রিনে বা এসএমএসে ব্যালেন্স জানিয়ে দেওয়া হবে।
নিচে দুটি পদ্ধতিই বিস্তারিত দেওয়া হলো। সঙ্গে আছে লেনদেনের হিসাব দেখা, ব্যালেন্সে গরমিল মনে হলে করণীয় এবং পিন সুরক্ষার কথা।
নগদ অ্যাপে ব্যালেন্স দেখার উপায়
১. অ্যাপ হালনাগাদ রাখুন: প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে নগদের অফিশিয়াল অ্যাপ নামান। পুরোনো সংস্করণে অনেক সময় লগইনে সমস্যা হয়, তাই হালনাগাদ রাখুন।
বিজ্ঞাপন
২. লগইন: অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে নিজের গোপন পিন লিখুন। কিছু ফোনে আঙুলের ছাপ বা মুখ শনাক্তকরণ দিয়েও লগইনের সুবিধা চালু করা যায়।
৩. ব্যালেন্সে ট্যাপ: হোম স্ক্রিনে নিরাপত্তার কারণে ব্যালেন্স সাধারণত লুকানো থাকে। সেই জায়গায় ট্যাপ করলে কয়েক সেকেন্ডের জন্য ব্যালেন্স দেখা যায়, তারপর আবার লুকিয়ে যায়।
৪. বিস্তারিত দেখুন: লেনদেনের ইতিহাস বা স্টেটমেন্ট অংশে গেলে কবে কত টাকা এসেছে, কত গেছে, তার পুরো তালিকা পাওয়া যায়।
অ্যাপের নকশা মাঝে মাঝে বদলায়, তাই বোতামের নাম বা অবস্থান কিছুটা আলাদা হতে পারে। তবে ব্যালেন্স সব সময় হোম স্ক্রিনেই রাখা হয়।
বিজ্ঞাপন
নগদ কিভাবে টাকা দেখে: *১৬৭# ডায়ালে
স্মার্টফোন নেই, ইন্টারনেট নেই বা অ্যাপ খুলছে না, এমন অবস্থায় ডায়াল কোডই ভরসা। এটি যেকোনো সাধারণ বাটন ফোনেও চলে।
১. ডায়াল করুন: যে সিমে নগদ অ্যাকাউন্ট খোলা, সেটি থেকে *১৬৭# ডায়াল করুন। দুই সিমের ফোনে সঠিক সিমটি বেছে নিতে ভুলবেন না।
২. মেনু বেছে নিন: স্ক্রিনে সেবার একটি তালিকা আসবে, প্রতিটির পাশে নম্বর দেওয়া থাকে। এর মধ্যে নিজের অ্যাকাউন্ট বা মাই নগদ জাতীয় অপশনটির নম্বর লিখে পাঠান।
বিজ্ঞাপন
৩. ব্যালেন্স অপশন: পরের মেনুতে ব্যালেন্স জানার অপশন বেছে নিন।
৪. পিন দিন: নিজের গোপন পিন লিখে পাঠান। এরপর স্ক্রিনে বা ফিরতি এসএমএসে বর্তমান ব্যালেন্স জানানো হবে।
মেনুর ক্রম ও নম্বর সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, তাই প্রতিবার স্ক্রিনের লেখা পড়ে সঠিক অপশনটি বেছে নিন। মুখস্থ নম্বরের ওপর ভরসা করে দ্রুত টাইপ করলে অন্য সেবায় ঢুকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
নগদ একাউন্ট দেখার নিয়ম: শুধু ব্যালেন্স নয়, পুরো হিসাব
বিজ্ঞাপন
অনেক সময় শুধু ব্যালেন্স জেনে সন্তুষ্ট থাকা যায় না। কেউ বলছেন টাকা পাঠিয়েছেন, অথচ ব্যালেন্স বাড়েনি, কিংবা ব্যালেন্স প্রত্যাশার চেয়ে কম। তখন লেনদেনের ইতিহাস দেখা জরুরি।
অ্যাপের লেনদেন অংশে প্রতিটি লেনদেনের তারিখ, সময়, অঙ্ক, প্রেরক বা প্রাপকের নম্বর এবং একটি লেনদেন আইডি থাকে। কোনো অভিযোগ করতে হলে এই লেনদেন আইডিটি সবচেয়ে কাজে লাগে, তাই সংরক্ষণ করে রাখুন। ডায়াল কোডের মেনুতেও সাধারণত সাম্প্রতিক কয়েকটি লেনদেনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেখার সুবিধা থাকে।
প্রতিটি লেনদেনের পর নগদ থেকে একটি এসএমএসও আসে। ফোনের মেসেজ থেকে এগুলো মুছে না ফেলে রেখে দিলে পরে মিলিয়ে দেখতে সুবিধা হয়।
বয়স্ক ও নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু পরামর্শ
বিজ্ঞাপন
গ্রামে অনেক বাবা-মা সন্তানের পাঠানো টাকা তোলেন নগদ থেকে, কিন্তু নিজে ব্যালেন্স দেখতে স্বচ্ছন্দ নন। তাঁদের জন্য সবচেয়ে সহজ পথ হলো ডায়াল কোড। একটি কাগজে ধাপগুলো বড় অক্ষরে লিখে দিন: প্রথমে কোড, তারপর কোন অপশন, তারপর পিন। পিনটি অবশ্য ওই কাগজে লিখবেন না, মুখস্থ করিয়ে দিন।
টাকা তুলতে এজেন্টের দোকানে গেলে নিজের ফোন নিজের হাতে রাখুন এবং পিন নিজেই লিখুন। এজেন্টের হাতে ফোন দিয়ে পিন বলে দেওয়ার অভ্যাস অনেক প্রতারণার সূত্রপাত। ক্যাশআউটের আগে ও পরে একবার ব্যালেন্স দেখে নিলে বোঝা যায় ঠিক কত টাকা কাটা হলো।
আর পরিবারের কেউ টাকা পাঠালে তিনি যেন ফোনে জানিয়ে দেন কত টাকা পাঠিয়েছেন। তাহলে ব্যালেন্স দেখে সহজেই মিলিয়ে নেওয়া যায়, কোনো ভুল থাকলে সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে।
যাঁরা দোকান চালান এবং গ্রাহকের কাছ থেকে নগদে পেমেন্ট নেন, তাঁরা গ্রাহকের ফোনের স্ক্রিন দেখে নিশ্চিন্ত হবেন না। নিজের ফোনে নগদ থেকে আসা এসএমএস বা অ্যাপের লেনদেন তালিকায় টাকা ঢুকেছে কি না দেখে তবেই পণ্য দিন। সাধারণ মোবাইল নম্বর থেকে আসা টাকা জমার এসএমএস প্রায় সব সময়ই ভুয়া।
বিজ্ঞাপন
ব্যালেন্সে গরমিল মনে হলে করণীয়
১. লেনদেনের ইতিহাস মিলিয়ে নিন: ক্যাশআউট চার্জ, বিল পরিশোধ বা স্বয়ংক্রিয় কোনো কাটা আছে কি না দেখুন। অনেক সময় চার্জ হিসাব না করায় ব্যালেন্স কম মনে হয়।
২. প্রেরকের কাছ থেকে আইডি নিন: কেউ টাকা পাঠিয়েছেন বললে তাঁর কাছ থেকে লেনদেন আইডি ও সময় জেনে নিন। ভুল নম্বরে চলে গেছে কি না, এতে বোঝা যায়।
৩. দ্রুত অভিযোগ করুন: সত্যিই অচেনা লেনদেন থাকলে দেরি না করে নগদের অফিশিয়াল অ্যাপের সহায়তা অংশ, হেল্পলাইন বা গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে জানান এবং পিন বদলে ফেলুন।
বিজ্ঞাপন
৪. ভুল নম্বরে টাকা গেলে: যত দ্রুত সম্ভব নগদকে জানান। প্রাপকের অ্যাকাউন্টে টাকা তখনো থাকলে প্রক্রিয়া মেনে ফেরতের চেষ্টা করা হয়, তবে নিশ্চয়তা নেই।
পিন ও অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা
নগদের কোনো কর্মকর্তা কখনো ফোন করে পিন বা যাচাই কোড চান না। কেউ নিজেকে নগদের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে বা পুরস্কার জিতেছেন বলে পিন চাইলে বুঝবেন সেটি প্রতারণা। পিন হিসেবে জন্মসাল, ১২৩৪ বা একই অঙ্ক চারবার দেবেন না। জনসমক্ষে ব্যালেন্স দেখার সময় খেয়াল রাখুন কেউ পেছন থেকে পিন দেখছে কি না। ফোন হারালে অপারেটরের মাধ্যমে সিম বন্ধ করুন এবং নগদকে জানিয়ে অ্যাকাউন্ট সাময়িক বন্ধ রাখার অনুরোধ করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বিজ্ঞাপন
নগদ ব্যালেন্স দেখতে কি টাকা কাটে?
অ্যাপে ব্যালেন্স দেখা বিনা মূল্যে, শুধু সামান্য ইন্টারনেট ডেটা খরচ হয়। ডায়াল কোডে চার্জ আছে কি না, তা সময়ভেদে বদলাতে পারে, তাই নগদের অফিশিয়াল তথ্য দেখে নিন।
অন্য সিম থেকে কি নিজের নগদ ব্যালেন্স দেখা যায়?
ডায়াল কোডে দেখতে হলে নগদ নিবন্ধিত সিম থেকেই ডায়াল করতে হয়। অ্যাপে অবশ্য অ্যাকাউন্ট নম্বর ও পিন দিয়ে লগইন করা যায়, তবে নতুন ডিভাইসে যাচাই কোড সেই নম্বরেই যায়।
বিজ্ঞাপন
পিন ভুলে গেলে ব্যালেন্স দেখব কীভাবে?
আগে পিন পুনরুদ্ধার করতে হবে। অ্যাপে পিন ভুলে যাওয়ার অপশন বা নগদের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করে নতুন পিন ঠিক করা যায়।
অ্যাপে ব্যালেন্স দেখাচ্ছে না কেন?
ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল হলে বা অ্যাপের পুরোনো সংস্করণ থাকলে এমন হয়। সংযোগ ঠিক করে অ্যাপ হালনাগাদ করুন, তাতেও না হলে *১৬৭# ডায়াল করে দেখুন।