ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার নিয়ম: অনলাইনে স্ট্যাটাস ও আসল-নকল যাচাই
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ:
পরীক্ষায় পাস করে বায়োমেট্রিক দেওয়ার পর মাসের পর মাস অপেক্ষা, স্মার্ট কার্ড কবে হবে? আবার কেউ গাড়িচালক নিয়োগ দেবেন, জানতে চান তাঁর দেখানো লাইসেন্সটি আসল কি না। দুই ধরনের প্রশ্নেরই উত্তর মেলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএর ব্যবস্থা থেকে।
বিজ্ঞাপন
নিজের লাইসেন্সের অবস্থা জানতে বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টাল bsp.brta.gov.bd তে নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সেখানে আবেদনের অগ্রগতি, পরীক্ষার ফল, স্মার্ট কার্ডের অবস্থা দেখা যায়। কার্ড প্রস্তুত হলে সাধারণত নিবন্ধিত মোবাইলে এসএমএসও আসে। আর অন্যের লাইসেন্স আসল কি না জানতে কার্ডের তথ্য বিআরটিএর পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসের রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখাই নির্ভরযোগ্য পথ।
ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক কেন দরকার
লাইসেন্সের আবেদনকারীরা নানা পর্যায়ের অবস্থা জানতে চেক করেন: শিক্ষানবিশ লাইসেন্স অনুমোদিত হয়েছে কি না, পরীক্ষার ফল কী, স্মার্ট কার্ডের ফি জমা হয়েছে কি না, কার্ড ছাপা হয়েছে কি না। নবায়নের আবেদন করলেও একই পদ্ধতিতে অগ্রগতি দেখা যায়।
অন্যদিকে নিয়োগকর্তা, পরিবহন প্রতিষ্ঠান বা গাড়ির মালিকের জন্য চালকের লাইসেন্স যাচাই নিরাপত্তার প্রশ্ন। ভুয়া লাইসেন্সধারী চালক দুর্ঘটনা ঘটালে মালিককেও আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। তাই চালক নিয়োগের আগে লাইসেন্স যাচাই এখন জরুরি অভ্যাস হওয়া উচিত।
বিজ্ঞাপন
অনলাইনে নিজের লাইসেন্সের অবস্থা দেখার নিয়ম
১. পোর্টালে প্রবেশ: ব্রাউজারে bsp.brta.gov.bd লিখে ঢুকুন। ঠিকানাটি ভালো করে মিলিয়ে নিন, কারণ বিআরটিএর নামে ভুয়া ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ আছে।
২. লগইন: আবেদনের সময় যে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন, সেগুলো দিয়ে লগইন করুন। পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে লগইন পাতার পুনরুদ্ধারের অপশন ব্যবহার করুন, মোবাইলে কোড আসবে।
৩. আবেদনের তালিকা দেখুন: ড্যাশবোর্ডে আপনার করা আবেদনগুলোর তালিকা থাকে। প্রতিটির পাশে বর্তমান অবস্থা লেখা থাকে, যেমন প্রক্রিয়াধীন, অনুমোদিত, পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত বা কার্ড মুদ্রণ।
বিজ্ঞাপন
৪. বিস্তারিত তথ্য: আবেদনে চাপ দিলে রেফারেন্স নম্বর, পরীক্ষার তারিখ, ফি পরিশোধের অবস্থা ও পরবর্তী ধাপের নির্দেশনা দেখা যায়।
৫. লাইসেন্সের তথ্য: লাইসেন্স ইস্যু হয়ে গেলে লাইসেন্স নম্বর, শ্রেণি, মেয়াদসহ তথ্য অ্যাকাউন্টে দেখা যায়।
পোর্টালের মেন্যুর নাম ও বিন্যাস হালনাগাদের সঙ্গে বদলাতে পারে। কোনো অপশন খুঁজে না পেলে ড্যাশবোর্ডের আবেদন বা সেবা অংশগুলো ঘুরে দেখুন।
ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখার নিয়ম: স্মার্ট কার্ড প্রস্তুত কি না
বিজ্ঞাপন
বায়োমেট্রিক দেওয়ার দিন বিআরটিএ অফিস থেকে একটি প্রাপ্তিস্বীকারপত্র দেওয়া হয়, যাতে রেফারেন্স নম্বর থাকে। কার্ড ছাপা ও বিতরণের জন্য প্রস্তুত হলে সাধারণত নিবন্ধিত মোবাইলে এসএমএস আসে, যেখানে কোন অফিস থেকে সংগ্রহ করবেন তা জানানো হয়। পোর্টালে লগইন করেও কার্ডের অবস্থা দেখা যায়।
কার্ড ছাপায় অনেক সময় দেরি হয়। এ সময় প্রাপ্তিস্বীকারপত্রটি যত্নে রাখুন এবং সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে এর বৈধতা ও ব্যবহারের নিয়ম জেনে নিন। দীর্ঘদিন একই অবস্থায় আটকে থাকলে রেফারেন্স নম্বর ও এনআইডি নিয়ে সার্কেল অফিসে সরাসরি খোঁজ নিন।
আসল ড্রাইভিং লাইসেন্স চেনার উপায়
শুধু চোখে দেখে আসল-নকল নিশ্চিত হওয়া কঠিন, কারণ জালিয়াতরা দেখতে হুবহু একই রকম কার্ড বানাতে পারে। তবু কয়েকটি বিষয় প্রাথমিকভাবে খেয়াল করা যায়।
বিজ্ঞাপন
কার্ডের গুণমান: বিআরটিএর স্মার্ট কার্ডে ইলেকট্রনিক চিপ ও বিভিন্ন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকে। ছাপা ঝাপসা, রং অসমান বা কার্ড পাতলা ও সহজে বাঁকা হলে সন্দেহ করুন।
তথ্যের মিল: কার্ডের ছবি সামনে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে মেলে কি না, নাম ও জন্মতারিখ তাঁর এনআইডির সঙ্গে মেলে কি না দেখুন।
শ্রেণি ও মেয়াদ: যে যান চালাবেন, লাইসেন্সে সেই শ্রেণি উল্লেখ আছে কি না, আর মেয়াদ পেরিয়ে গেছে কি না দেখুন। মোটরসাইকেলের লাইসেন্স দিয়ে বাস চালানো বৈধ নয়, আবার পেশাদার চালক হিসেবে কাজের জন্য পেশাদার লাইসেন্স লাগে।
বিআরটিএর রেকর্ডে যাচাই: নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় হলো লাইসেন্স নম্বরসহ তথ্য বিআরটিএর রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা। বিআরটিএর পোর্টালে লাইসেন্সের তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকলে সেটি ব্যবহার করুন, অথবা লাইসেন্স যে সার্কেল অফিস থেকে ইস্যু হয়েছে সেখানে যোগাযোগ করুন। চালককে সঙ্গে নিয়ে গেলে কাজ সহজ হয়।
বিজ্ঞাপন
চালক নিয়োগের আগে যাচাইয়ের সহজ তালিকা
ব্যক্তিগত গাড়ি, অফিসের মাইক্রোবাস বা পণ্য পরিবহনের জন্য চালক রাখার আগে কয়েকটি ধাপ মেনে চলুন।
১. মূল কার্ড দেখুন: ফটোকপি বা মোবাইলের ছবি নয়, মূল স্মার্ট কার্ড হাতে নিয়ে দেখুন। কার্ডের নম্বর, নাম ও মেয়াদ লিখে রাখুন।
২. এনআইডি মিলিয়ে নিন: চালকের জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে লাইসেন্সের নাম, জন্মতারিখ ও ছবি মেলে কি না দেখুন।
বিজ্ঞাপন
৩. শ্রেণি ও ধরন যাচাই: যে গাড়ি চালাবেন, লাইসেন্সে সেই শ্রেণি আছে কি না এবং লাইসেন্সটি পেশাদার কি না দেখুন। বেতনভুক্ত চালকের অপেশাদার লাইসেন্স গ্রহণযোগ্য নয়।
৪. বিআরটিএতে নিশ্চিত হোন: সন্দেহ থাকলে চালককে সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে তথ্য মিলিয়ে নিন।
৫. আগের কর্মস্থলের খোঁজ: আগে যেখানে কাজ করেছেন, সেখানে তাঁর আচরণ ও চালনার রেকর্ড সম্পর্কে জেনে নিন।
এই কয়েকটি কাজে আধা দিন সময় লাগলেও দুর্ঘটনা, গাড়ি চুরি বা আইনি জটিলতার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। নিয়োগের পর চালকের লাইসেন্স ও এনআইডির একটি করে ফটোকপি নিজের কাছে রেখে দিন, আর মেয়াদ শেষের তারিখটি টুকে রাখুন যাতে সময়মতো নবায়ন করাতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
লাইসেন্সে সমস্যা পেলে করণীয়
নিজের লাইসেন্সে নাম, জন্মতারিখ বা শ্রেণিতে ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে সংশোধনের আবেদন করুন। লাইসেন্স হারিয়ে গেলে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি করে তার কপিসহ পোর্টালে ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের আবেদন করা যায়।
কেউ ভুয়া লাইসেন্স দেখাচ্ছেন বলে নিশ্চিত হলে তাঁকে গাড়ি চালাতে দেবেন না। জাল লাইসেন্স তৈরি ও ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা বিআরটিএকে জানাতে পারেন। আর কেউ টাকার বিনিময়ে পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স করে দেওয়ার প্রস্তাব দিলে বুঝবেন সেটি হয় প্রতারণা, নয়তো অবৈধ কাজ, দুটোরই দায় শেষ পর্যন্ত আপনার ঘাড়েই পড়বে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বিজ্ঞাপন
ড্রাইভিং লাইসেন্স কিভাবে চেক করব, পোর্টালের পাসওয়ার্ড মনে নেই?
লগইন পাতায় পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধারের অপশন আছে। নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে কোড এনে নতুন পাসওয়ার্ড ঠিক করে নিন।
অনলাইনে চেক করতে কি টাকা লাগে?
না, পোর্টালে লগইন করে নিজের আবেদনের অবস্থা দেখা বিনা মূল্যে।
বিজ্ঞাপন
ট্রাফিক পুলিশ কীভাবে লাইসেন্স যাচাই করে?
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে লাইসেন্স যাচাইয়ের নিজস্ব ব্যবস্থা থাকে। তাই নকল লাইসেন্স সড়কে ধরা পড়ার ঝুঁকি বেশি।
পুরোনো হাতে লেখা লাইসেন্সের তথ্য কি অনলাইনে পাওয়া যাবে?
অনেক পুরোনো লাইসেন্স ডিজিটাল ব্যবস্থায় হালনাগাদ হয়েছে, সব হয়নি। নবায়নের সময় সাধারণত স্মার্ট কার্ডে রূপান্তর হয়, বিস্তারিত সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে জেনে নিন।
বিজ্ঞাপন
এসএমএস আসেনি, কিন্তু অনেক দিন হয়ে গেছে, কী করব?
নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর বদলে গেলে বা নেটওয়ার্ক সমস্যায় এসএমএস না-ও আসতে পারে। পোর্টালে লগইন করে অবস্থা দেখুন, প্রয়োজনে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র নিয়ে সার্কেল অফিসে খোঁজ নিন।