সিটি গ্রুপকে ঋণখেলাপি না করার পরামর্শ বাংলাদেশ ব্যাংকের
২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ পরিশোধে শিল্পগোষ্ঠীটিকে সহায়তা দিতে ব্যাংকগুলোর জোট গঠনের উদ্যোগ
অর্থনীতি ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপের ঋণ এখনই খেলাপি হিসেবে নথিভুক্ত না করতে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদ ও সরোয়ার হোসেন, সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান এবং ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংক সিটি গ্রুপের ঋণকে খেলাপি হিসেবে দেখিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। এর আগে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রুপটির ২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি না করার নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ায় কিছু ব্যাংক নতুন করে খেলাপি তালিকাভুক্ত করে, যা গ্রুপটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে সংকটে ফেলেছে। তাই ব্যবসা সচল রাখতে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃ তফসিলের সুবিধা দিতে বলা হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ব্যাংক এশিয়ার এমডি সোহেল আর কে হুসেইন, ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি তারেক রেফাত উল্লাহ খান, প্রাইম ব্যাংকের এমডি ফয়সাল রহমান, ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি হাসান ও. রশিদ, পূবালী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ আলী এবং সাউথইস্ট ব্যাংকের এমডি খালিদ মাহমুদ খানসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “সিটি গ্রুপ আগে কখনো খেলাপি হয়নি। এ ছাড়া গ্রুপটির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও নেই। এ জন্য সবাই চায় গ্রুপটি সমস্যা কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াক। সব ব্যাংকই গ্রুপটিকে সহায়তা দিতে আগ্রহী। বাংলাদেশ ব্যাংকও বলেছে, ব্যাংকগুলোকে এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে, যাতে গ্রুপটি আরও খারাপ হয়ে যায়। সহায়তা পেলে গ্রুপটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।”
পূবালী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ আলী জানান, গ্রুপটির ব্যবসা যাতে সচল থাকে, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলো সচেষ্ট রয়েছে। এদিকে সাউথইস্ট ব্যাংকের এমডি খালিদ মাহমুদ খান বলেন, “চলতি মাসের মধ্যে গ্রুপটির ঋণ নিয়মিত করতে এককালীন কিছু টাকা জমা দেবে সিটি গ্রুপ। এরপর আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রস্তাব পাঠাব। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমোদন দিলে গ্রুপটি ভালো অবস্থায় পৌঁছাবে।” বর্তমানে ৪৭টি দেশি-বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সিটি গ্রুপের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা।