মোবাইল ফাস্ট করার উপায়: ফোন হ্যাং করলে যে কৌশলগুলো কাজ করে
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ:
ক্যামেরা চালু করতেই কয়েক সেকেন্ড আটকে থাকে, মেসেঞ্জারে লিখতে গেলে অক্ষর আসে দেরিতে, কল এলে স্ক্রিন জমে যায়। কেনার সময় যে ফোন ঝড়ের গতিতে চলত, বছর দুয়েক পরে সেটিই যেন ক্লান্ত। নতুন ফোন কেনার কথা ভাবার আগে কয়েকটি কাজ করে দেখুন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফোনের গতি অনেকটাই ফিরে আসে।
বিজ্ঞাপন
মোবাইল ফাস্ট করার মূল উপায়গুলো হলো স্টোরেজে পর্যাপ্ত জায়গা খালি রাখা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেলা, বড় অ্যাপের ক্যাশ পরিষ্কার করা, সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখা এবং সপ্তাহে অন্তত একবার ফোন রিস্টার্ট করা। ফোন হ্যাং হওয়ার কারণ বুঝতে পারলে সমাধানও সহজ হয়, তাই আগে কারণগুলো দেখে নেওয়া যাক।
মোবাইল কেন হ্যাং করে
স্টোরেজ প্রায় ভরা: ফোনের অভ্যন্তরীণ মেমোরি পূর্ণ হয়ে এলে অপারেটিং সিস্টেম অস্থায়ী ফাইল রাখার জায়গা পায় না। তখন প্রায় সব কাজই ধীর হয়ে যায়। ভিডিও, হোয়াটসঅ্যাপের ছবি আর বড় গেম এর প্রধান কারণ।
র্যামের ওপর চাপ: একসঙ্গে অনেক অ্যাপ খোলা থাকলে বা কিছু অ্যাপ পেছনে সারাক্ষণ চলতে থাকলে র্যাম ফুরিয়ে যায়। বিশেষ করে কম র্যামের ফোনে ফেসবুক, ভিডিও অ্যাপ আর গেম একসঙ্গে চালালে ফোন আটকে যায়।
বিজ্ঞাপন
অ্যাপের সংখ্যা ও মান: অনেক অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়, নোটিফিকেশন পাঠায়, তথ্য হালনাগাদ করে। কিছু অ্যাপ খারাপভাবে তৈরি, যা অকারণে বেশি শক্তি খরচ করে।
পুরোনো সফটওয়্যার: হালনাগাদ না করলে ত্রুটিগুলো থেকে যায়। আবার নতুন অ্যাপগুলো নতুন সফটওয়্যারের জন্য তৈরি হওয়ায় পুরোনো সিস্টেমে ভালো চলে না।
ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকর অ্যাপ: অজানা উৎস থেকে নামানো অ্যাপ পেছনে বিজ্ঞাপন চালাতে বা তথ্য পাঠাতে পারে, যা ফোনকে ধীর করে।
গরম হয়ে যাওয়া ও বয়স: ফোন অতিরিক্ত গরম হলে প্রসেসর নিজেকে রক্ষা করতে গতি কমিয়ে দেয়। আর কয়েক বছরের পুরোনো ফোনের যন্ত্রাংশ স্বাভাবিকভাবেই নতুন অ্যাপের চাহিদা সামলাতে পারে না।
বিজ্ঞাপন
স্টোরেজ খালি করুন: সবচেয়ে কার্যকর সমাধান
সেটিংসের স্টোরেজ অংশে গেলে কোন ধরনের ফাইল কত জায়গা নিয়েছে, তা দেখা যায়। একটি সাধারণ নিয়ম হলো, মোট জায়গার অন্তত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ খালি রাখা।
১. হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মিডিয়া: গ্রুপে আসা ছবি-ভিডিও নিজের অজান্তেই ফোনে জমা হয়। হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংসে স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা অংশ থেকে বড় ফাইল আর বারবার ফরোয়ার্ড হওয়া মিডিয়া মুছুন। স্বয়ংক্রিয় ডাউনলোড বন্ধ করে দিন।
২. ছবি ও ভিডিওর ব্যাকআপ: দরকারি ছবি কম্পিউটারে বা ক্লাউড স্টোরেজে রেখে ফোন থেকে মুছে দিন। একই দৃশ্যের দশটি ছবির মধ্যে সবচেয়ে ভালোটি রেখে বাকিগুলো মুছে ফেলুন।
বিজ্ঞাপন
৩. ডাউনলোড ফোল্ডার: পুরোনো পিডিএফ, অ্যাপের ইনস্টল ফাইল আর অপ্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এখানে জমে থাকে।
৪. মেমোরি কার্ড ব্যবহার: ফোনে মেমোরি কার্ডের সুবিধা থাকলে ছবি, ভিডিও ও গান কার্ডে রাখুন। তবে অ্যাপ অভ্যন্তরীণ মেমোরিতে রাখাই ভালো, ধীরগতির কার্ডে অ্যাপ আরও ধীর চলে।
অ্যাপ ছাঁটাই ও ক্যাশ পরিষ্কার
সেটিংসের অ্যাপ তালিকায় গিয়ে দেখুন কোন অ্যাপ মাসের পর মাস খোলেননি। সেগুলো আনইনস্টল করুন। ফোনের সঙ্গে আসা যেসব অ্যাপ মোছা যায় না, সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে রাখা যায়।
বিজ্ঞাপন
ফেসবুক, ইউটিউব, ব্রাউজারের মতো অ্যাপ ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ক্যাশ ফাইল জমায়, যা কখনো কয়েক জিবি পর্যন্ত হয়। অ্যাপের তথ্য পাতায় স্টোরেজ অংশে ক্যাশ মোছার অপশন আছে। ক্যাশ মুছলে আপনার লগইন বা ব্যক্তিগত তথ্য মোছে না, তবে ডেটা মুছলে অ্যাপ নতুনের মতো হয়ে যায় এবং আবার লগইন করতে হয়।
কম র্যামের ফোনে ফেসবুক, মেসেঞ্জারের মতো অ্যাপের লাইট সংস্করণ ব্যবহার করলে পার্থক্য স্পষ্ট বোঝা যায়। অনেক সেবা ব্রাউজারেও ভালো চলে, তাই সব কাজের জন্য আলাদা অ্যাপ রাখার দরকার নেই।
ফোন ফাস্ট করার আরও কিছু উপায়
সফটওয়্যার হালনাগাদ: সেটিংসের সিস্টেম বা সফটওয়্যার আপডেট অংশে নতুন সংস্করণ আছে কি না দেখুন। অ্যাপগুলোও প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে হালনাগাদ রাখুন।
বিজ্ঞাপন
নিয়মিত রিস্টার্ট: সপ্তাহে একবার ফোন বন্ধ করে চালু করলে র্যাম পরিষ্কার হয় এবং আটকে থাকা প্রক্রিয়াগুলো বন্ধ হয়।
লাইভ ওয়ালপেপার ও উইজেট কমান: চলমান ওয়ালপেপার আর হোম স্ক্রিনভর্তি উইজেট পেছনে সারাক্ষণ শক্তি খরচ করে।
অ্যানিমেশন কমানো: অ্যান্ড্রয়েডে ডেভেলপার অপশনে অ্যানিমেশনের গতি কমিয়ে দিলে ফোন দ্রুত মনে হয়। তবে ডেভেলপার অপশনের অন্য কোনো সেটিং না বুঝে বদলাবেন না।
ক্লিনার ও বুস্টার অ্যাপ এড়িয়ে চলুন: ফোন দ্রুত করার দাবি করা অনেক অ্যাপ নিজেই পেছনে চলে, বিজ্ঞাপন দেখায় এবং ফোনকে আরও ধীর করে। আধুনিক ফোনের নিজস্ব ব্যবস্থাই যথেষ্ট।
বিজ্ঞাপন
ফোন ঠান্ডা রাখুন: চার্জে রেখে ভারী গেম না খেলা, রোদে ফোন না রাখা এবং মোটা কভারে গরম আটকে না রাখা গতি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা কয়েকটি পরামর্শ
আইফোনেও স্টোরেজ ভরে গেলে গতি কমে। সেটিংসের সাধারণ অংশে আইফোন স্টোরেজে গেলে কোন অ্যাপ কত জায়গা নিয়েছে দেখা যায়, সঙ্গে কিছু সুপারিশও থাকে। অব্যবহৃত অ্যাপ অফলোড করার সুবিধা চালু করলে দীর্ঘদিন না খোলা অ্যাপ সরে যায়, কিন্তু তার তথ্য থেকে যায়, পরে আবার নামালে আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
পেছনে অ্যাপ রিফ্রেশের সেটিং থেকে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের পেছনের হালনাগাদ বন্ধ রাখতে পারেন। ব্যাটারির স্বাস্থ্য অংশে ব্যাটারির সর্বোচ্চ ক্ষমতা অনেক কমে গেছে দেখালে ফোন কখনো কখনো ইচ্ছা করে গতি কমায়, যাতে হঠাৎ বন্ধ না হয়। সে ক্ষেত্রে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে ব্যাটারি বদলালে গতি ফিরতে পারে।
বিজ্ঞাপন
শেষ উপায়: ফ্যাক্টরি রিসেট
সব চেষ্টার পরও ফোন অসহনীয় ধীর থাকলে ফ্যাক্টরি রিসেট বিবেচনা করা যায়। এতে ফোন কেনার সময়ের অবস্থায় ফিরে যায়, সব অ্যাপ, ছবি ও তথ্য মুছে যায়। তাই রিসেটের আগে অবশ্যই ছবি, পরিচিতি, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও দরকারি ফাইলের ব্যাকআপ নিন এবং ফোনে যুক্ত অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড নিশ্চিতভাবে জেনে রাখুন। রিসেটের পরও সমস্যা থাকলে সেটি যন্ত্রাংশের সমস্যা হতে পারে, তখন অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে দেখান।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ফোন কেন হ্যাং করে, র্যাম বেশি হলে কি সমস্যা থাকে না?
বিজ্ঞাপন
বেশি র্যাম সাহায্য করে, কিন্তু স্টোরেজ ভরা থাকলে বা ক্ষতিকর অ্যাপ থাকলে বেশি র্যামের ফোনও ধীর হয়।
টাস্ক ম্যানেজার থেকে বারবার সব অ্যাপ বন্ধ করা কি ভালো?
সবসময় নয়। বারবার বন্ধ করলে পরে অ্যাপ আবার শুরু থেকে চালু হতে বেশি শক্তি লাগে। শুধু যে অ্যাপ আটকে গেছে বা অনেকক্ষণ ব্যবহার করবেন না, সেটি বন্ধ করুন।
ফোন ফাস্ট করার উপায় হিসেবে কি মেমোরি কার্ড বদলালে কাজ হয়?
বিজ্ঞাপন
কার্ডে অ্যাপ রাখলে বা কার্ড খুব ধীরগতির হলে সমস্যা হয়। ভালো মানের কার্ড ব্যবহার করুন এবং অ্যাপ অভ্যন্তরীণ মেমোরিতে রাখুন।
নতুন ফোনও কেন মাঝে মাঝে হ্যাং করে?
প্রথম দিকে পুরোনো ফোনের তথ্য স্থানান্তর ও হালনাগাদের কাজ পেছনে চলে। কয়েক দিন পর সাধারণত ঠিক হয়ে যায়। না হলে বিক্রেতা বা সার্ভিস সেন্টারে দেখান।