জিমেইল একাউন্ট খোলার নিয়ম: মোবাইল ও কম্পিউটারে নতুন আইডি তৈরি
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ:
চাকরির আবেদন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি, সরকারি অনলাইন সেবা কিংবা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে অ্যাপ নামানো, সব জায়গাতেই এখন একটি ইমেইল ঠিকানা লাগে। আর সবচেয়ে প্রচলিত ইমেইল সেবা জিমেইল। একটি জিমেইল আইডি খুলতে টাকা লাগে না, সময় লাগে পাঁচ মিনিটের মতো।
বিজ্ঞাপন
জিমেইল একাউন্ট খোলা মানে আসলে একটি গুগল অ্যাকাউন্ট তৈরি করা। একই অ্যাকাউন্ট দিয়ে জিমেইল, প্লে স্টোর, ইউটিউব, গুগল ড্রাইভসহ সব সেবা চলে। নিয়মটি সংক্ষেপে: জিমেইল অ্যাপ, ফোনের সেটিংস বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরির অপশনে যান, নাম ও জন্মতারিখ দিন, পছন্দের ইমেইল ঠিকানা বাছুন, শক্ত পাসওয়ার্ড দিন, মোবাইল নম্বর যাচাই করে শর্তে সম্মতি দিন।
শুরুর আগে ঠিক করুন ঠিকানাটি কেমন হবে
জিমেইল ঠিকানাটি অনেক বছর আপনার পরিচয় বহন করবে। চাকরির আবেদনে বা অফিসের যোগাযোগে অদ্ভুত ঠিকানা খারাপ ধারণা দেয়। তাই নিজের নামের সঙ্গে মিল রেখে সহজ, উচ্চারণযোগ্য একটি ঠিকানা বাছুন। যেমন নামের প্রথম ও শেষ অংশ মিলিয়ে, মাঝে ডট দিয়ে।
জনপ্রিয় নামের ঠিকানা সাধারণত আগেই অন্য কেউ নিয়ে রাখেন। তখন জন্মসাল বা এলাকার নামের একটি অংশ যোগ করতে পারেন। তবে পুরো জন্মতারিখ ঠিকানায় রাখবেন না, এটি নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ। আরেকটি বিষয় জেনে রাখুন, একবার ঠিকানা তৈরি হয়ে গেলে সাধারণত তা বদলানো যায় না, নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়।
বিজ্ঞাপন
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে জিমেইল আইডি কিভাবে খুলবো
১. সেটিংসে যান: ফোনের সেটিংস খুলে অ্যাকাউন্ট, পাসওয়ার্ড ও অ্যাকাউন্ট বা গুগল নামের অংশটি খুঁজুন। ফোনের ব্র্যান্ডভেদে নাম কিছুটা আলাদা হতে পারে।
২. অ্যাকাউন্ট যোগ করুন: অ্যাকাউন্ট যোগ করার অপশনে গিয়ে গুগল বেছে নিন। লগইন পাতার নিচে অ্যাকাউন্ট তৈরি করার লেখায় চাপ দিন এবং নিজের জন্য অপশনটি বাছুন।
৩. নাম দিন: প্রথম ও শেষ নাম লিখুন। এই নাম আপনার পাঠানো ইমেইলে প্রেরকের নাম হিসেবে দেখাবে।
বিজ্ঞাপন
৪. জন্মতারিখ ও লিঙ্গ: সঠিক জন্মতারিখ দিন। বয়স কম দেখালে অ্যাকাউন্টে নানা সীমাবদ্ধতা আসে, আর পরে অ্যাকাউন্ট উদ্ধারের সময় এই তথ্য কাজে লাগতে পারে।
৫. ঠিকানা বাছাই: প্রস্তাবিত ঠিকানাগুলো থেকে একটি নিন অথবা নিজের মতো ঠিকানা লিখুন। ঠিকানাটি খালি না থাকলে অন্য বিকল্প দেখাবে।
৬. পাসওয়ার্ড তৈরি: অন্তত আট অক্ষরের পাসওয়ার্ড দিন, যাতে অক্ষর, সংখ্যা ও চিহ্ন মেশানো থাকে। অন্য কোনো সাইটে ব্যবহার করা পাসওয়ার্ড এখানে দেবেন না।
৭. মোবাইল নম্বর যাচাই: নম্বর দিলে এসএমএসে একটি কোড আসবে, সেটি বসান। অনেক সময় নম্বর যাচাই বাধ্যতামূলক হয়, আবার কখনো বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকে। দিয়ে রাখাই ভালো, পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে এই নম্বরই কাজে লাগবে।
বিজ্ঞাপন
৮. শর্তে সম্মতি: গোপনীয়তা নীতি ও শর্তাবলির সারাংশ দেখে সম্মতি দিন। অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে ফোনে যুক্ত হয়ে যাবে।
জিমেইল অ্যাপ খুলে প্রোফাইল ছবিতে চাপ দিলেও অন্য অ্যাকাউন্ট যোগ করার অপশন পাবেন, সেখান থেকেও একই ধাপে নতুন আইডি খোলা যায়।
আইফোন ও কম্পিউটারে জিমেইল খোলার নিয়ম
আইফোনে অ্যাপ স্টোর থেকে জিমেইল অ্যাপ নামিয়ে লগইন পাতায় অ্যাকাউন্ট তৈরির অপশন বেছে নিন। বাকি ধাপ অ্যান্ড্রয়েডের মতোই।
বিজ্ঞাপন
কম্পিউটারে ব্রাউজার খুলে gmail.com এ যান। লগইন বক্সের নিচে অ্যাকাউন্ট তৈরির লেখায় চাপ দিলে একই ফরম আসবে। কম্পিউটারে খোলার সময় ফোন হাতের কাছে রাখুন, যাচাইয়ের কোড ফোনে আসবে। সাইবার ক্যাফে বা অন্যের কম্পিউটারে খুললে কাজ শেষে অবশ্যই সাইন আউট করুন এবং ব্রাউজারকে পাসওয়ার্ড মনে রাখতে দেবেন না।
অ্যাকাউন্ট খোলার পরপরই যা করবেন
রিকভারি তথ্য যোগ করুন: অ্যাকাউন্ট সেটিংসের নিরাপত্তা অংশে রিকভারি ফোন নম্বর ও বিকল্প ইমেইল যোগ করুন। পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে বা অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে এগুলো দিয়েই ফেরত পাওয়া যায়।
দুই ধাপের যাচাই চালু করুন: টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু থাকলে পাসওয়ার্ড জানলেও কেউ আপনার ফোনের অনুমতি ছাড়া লগইন করতে পারবে না।
বিজ্ঞাপন
পাসওয়ার্ড লিখে রাখুন নিরাপদে: মনে রাখতে না পারলে একটি কাগজে লিখে বাড়ির নিরাপদ জায়গায় রাখুন। ফোনের গ্যালারিতে স্ক্রিনশট হিসেবে রাখবেন না।
একটি পরীক্ষামূলক ইমেইল পাঠান: পরিচিত কাউকে বা নিজের অন্য ঠিকানায় একটি মেইল পাঠিয়ে দেখুন সব ঠিকমতো কাজ করছে কি না।
অ্যাকাউন্ট খুলতে সমস্যা হলে
পছন্দের ঠিকানা পাওয়া যাচ্ছে না: অর্থাৎ সেটি আগেই কেউ নিয়েছেন। নামের আগে-পরে সংখ্যা বা ডট যোগ করে, অথবা নামের ভিন্ন বানান দিয়ে চেষ্টা করুন। জিমেইলে ডট ব্যবহারে ঠিকানা আলাদা হয় না, তাই শুধু ডট বসিয়ে নতুন ঠিকানা পাওয়া যায় না।
বিজ্ঞাপন
যাচাইয়ের কোড আসছে না: নম্বরের আগে দেশের কোড ঠিক আছে কি না দেখুন। সিমে নেটওয়ার্ক আছে কি না, এসএমএস ইনবক্স পূর্ণ কি না যাচাই করুন। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে আবার কোড পাঠানোর অনুরোধ দিন।
এই নম্বর যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে না: একই নম্বর দিয়ে অল্প সময়ে অনেক অ্যাকাউন্ট খোলা হলে এমন বার্তা আসে। পরিবারের অন্য কারও নম্বর ব্যবহার না করে কিছুদিন পর নিজের নম্বর দিয়েই চেষ্টা করুন।
বয়সের কারণে অ্যাকাউন্ট খোলা যাচ্ছে না: জন্মতারিখ অনুযায়ী বয়স ন্যূনতম সীমার নিচে হলে সাধারণ অ্যাকাউন্ট খোলা যায় না। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে খোলার ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হয়। মিথ্যা বয়স দিয়ে খুললে পরে অ্যাকাউন্ট আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বিনা মূল্যের জায়গা ও কয়েকটি দরকারি তথ্য
বিজ্ঞাপন
প্রতিটি গুগল অ্যাকাউন্টে বিনা মূল্যে ১৫ জিবি জায়গা থাকে, যা জিমেইল, গুগল ড্রাইভ ও গুগল ফটোজ মিলে ব্যবহার হয়। ফোনের ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাকআপ হলে জায়গা দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে, তখন নতুন মেইল আসা বন্ধ হয়ে যায়। মাঝে মাঝে বড় সংযুক্তিওয়ালা পুরোনো মেইল ও অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে জায়গা খালি রাখুন।
একজন মানুষ একাধিক জিমেইল অ্যাকাউন্ট রাখতে পারেন। অনেকে ব্যক্তিগত কাজ আর চাকরি বা ব্যবসার জন্য আলাদা অ্যাকাউন্ট রাখেন। শিশুদের জন্য অভিভাবক-নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টের ব্যবস্থাও আছে, যেখানে মা-বাবা ব্যবহার তদারকি করতে পারেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
মোবাইল নম্বর ছাড়া কি জিমেইল খোলার নিয়ম আছে?
বিজ্ঞাপন
কখনো কখনো নম্বর যাচাই বাদ দেওয়ার সুযোগ দেখায়, তবে তা সবসময় নিশ্চিত নয়। নিরাপত্তার জন্য নম্বর দিয়ে খোলাই ভালো।
এক মোবাইল নম্বর দিয়ে কয়টি জিমেইল খোলা যায়?
একই নম্বর দিয়ে কয়েকটি অ্যাকাউন্ট যাচাই করা যায়, তবে সংখ্যাটি সীমিত। নির্দিষ্ট সীমা সময়ে সময়ে বদলাতে পারে।
গুগল একাউন্ট খোলার নিয়ম কি জিমেইলের চেয়ে আলাদা?
বিজ্ঞাপন
না, জিমেইল খুললেই গুগল অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়। চাইলে অন্য ইমেইল ঠিকানা দিয়েও গুগল অ্যাকাউন্ট খোলা যায়, সে ক্ষেত্রে জিমেইল ঠিকানা তৈরি হয় না।
জিমেইলের ঠিকানা কি পরে বদলানো যায়?
সাধারণত না। নতুন ঠিকানা চাইলে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে পুরোনো অ্যাকাউন্টের মেইল নতুনটিতে ফরোয়ার্ড করার ব্যবস্থা করা যায়।
অনেক দিন ব্যবহার না করলে কি অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়?
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ সময় একেবারে নিষ্ক্রিয় থাকা অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার নীতি আছে। মাঝে মাঝে লগইন করে একটি মেইল পড়লে বা পাঠালেই অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকে।