বিদ্যুৎ বিল চেক করার নিয়ম: অনলাইনে ও মোবাইলে বকেয়া বিল দেখুন
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ:
মাসের শুরুতে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ হাতে না এলে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েন, কত টাকা এসেছে, শেষ তারিখ কবে। দেরি হলে বিলম্ব মাশুল গুনতে হয়, বেশি দেরি হলে সংযোগ বিচ্ছিন্নের নোটিশও আসতে পারে। অথচ বিলের কাগজের জন্য অপেক্ষা না করে মোবাইল থেকেই বকেয়া বিল দেখে নেওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
বিদ্যুৎ বিল চেক করার মূল চাবি হলো আপনার হিসাব নম্বর বা গ্রাহক নম্বর। এটি জানা থাকলে বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাপে বিল পরিশোধ অংশে গিয়ে নম্বর দিলেই টাকা দেওয়ার আগে বিলের পরিমাণ দেখা যায়। পাশাপাশি আপনার এলাকার বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা অফিস থেকেও বিল জানা যায়। প্রিপেইড মিটারে আবার বিল নয়, দেখতে হয় অবশিষ্ট ব্যালেন্স।
প্রথমে জানুন আপনার বিদ্যুৎ কোন সংস্থার
দেশে বিদ্যুৎ বিতরণ করে কয়েকটি আলাদা সংস্থা। গ্রামাঞ্চল ও অনেক উপশহরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, ঢাকার বিভিন্ন অংশে ডিপিডিসি ও ডেসকো, খুলনা-বরিশাল অঞ্চলে ওজোপাডিকো, রাজশাহী-রংপুর অঞ্চলে নেসকো, আর অনেক জেলা শহরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। আপনার বিলের কাগজ বা মিটারের গায়ে সংস্থার নাম লেখা থাকে।
কোন সংস্থার গ্রাহক, তা জানা জরুরি, কারণ মোবাইল অ্যাপে বিল দেখার সময় প্রথমেই সংস্থাটি বাছাই করতে হয়। ভুল সংস্থা বাছলে নম্বর মিলবে না, বিলও দেখাবে না। একই সংস্থার মধ্যে আবার পোস্টপেইড ও প্রিপেইড আলাদা অপশন থাকে।
বিজ্ঞাপন
হিসাব নম্বর কোথায় পাবেন
পুরোনো যেকোনো বিলের কাগজের ওপরের দিকে হিসাব নম্বর, গ্রাহক নম্বর বা এসএমএস হিসাব নম্বর লেখা থাকে। পল্লী বিদ্যুতের বিলে সাধারণত একটি এসএমএস হিসাব নম্বর থাকে, যা মোবাইলে বিল দেওয়ার সময় ব্যবহার হয়। প্রিপেইড গ্রাহকদের ক্ষেত্রে মিটার নম্বর বা গ্রাহক নম্বর লাগে, যা মিটারের গায়ে বা মিটারের সঙ্গে দেওয়া কার্ডে থাকে।
পুরোনো বিল হারিয়ে গেলে আগে মোবাইল আর্থিক সেবা দিয়ে বিল দিয়ে থাকলে অ্যাপের লেনদেন ইতিহাসে নম্বরটি পেয়ে যাবেন। তা-ও না পেলে বাড়ির মালিক বা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে মিটার নম্বর বলে জেনে নিতে পারেন। নম্বরটি জানার পর ফোনের নোটে বা অ্যাপে সংরক্ষণ করে রাখুন।
মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপে বিদ্যুৎ বিল কিভাবে দেখব
বিজ্ঞাপন
সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি এটিই, কারণ বেশির ভাগ মানুষের ফোনে কোনো না কোনো মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাপ থাকে।
১. অ্যাপে লগইন: আপনার মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাপ খুলে পিন দিয়ে ঢুকুন।
২. বিল পরিশোধ অংশ: মূল পাতায় পে বিল বা বিল পরিশোধের অপশনে চাপ দিন। সেখানে বিদ্যুৎ বিভাগ বেছে নিন।
৩. সংস্থা বাছাই: তালিকা থেকে আপনার বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা এবং পোস্টপেইড নাকি প্রিপেইড, তা বেছে নিন।
বিজ্ঞাপন
৪. নম্বর ও মাস দিন: হিসাব নম্বর লিখুন। কিছু সংস্থার ক্ষেত্রে বিলের মাসও বাছতে হয়।
৫. বিল দেখা: পরের পাতায় বকেয়া বিলের পরিমাণ, শেষ তারিখ এবং কখনো কখনো গ্রাহকের নাম দেখাবে। এখানে এসে পিন না দিয়ে ফিরে গেলে কোনো টাকা কাটবে না, শুধু বিল দেখা হবে।
গ্রাহকের নাম দেখা গেলে মিলিয়ে নিন, যাতে নিশ্চিত হন নম্বরটি আপনার মিটারেরই। বিল না দেখিয়ে কোনো ত্রুটি বার্তা এলে হয় নম্বর ভুল, নয়তো ওই মাসের বিল এখনো তৈরি হয়নি।
সংস্থার ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা অফিস থেকে বিল দেখার নিয়ম
বিজ্ঞাপন
প্রায় সব বিতরণ সংস্থারই নিজস্ব ওয়েবসাইট আছে, অনেকের আলাদা মোবাইল অ্যাপও আছে। সেখানে সাধারণত বিল দেখা বা গ্রাহক সেবা অংশে হিসাব নম্বর দিয়ে চলতি ও আগের মাসগুলোর বিল দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে বিলের কপি ডাউনলোডও করা যায়। সংস্থার সঠিক ওয়েবসাইট চিনতে আপনার বিলের কাগজে দেওয়া ঠিকানাটি দেখুন। সরকারি সংস্থার ঠিকানা সাধারণত gov.bd দিয়ে শেষ হয়।
অনলাইনে দেখার সুযোগ না থাকলে নিকটস্থ বিদ্যুৎ অফিস বা অভিযোগ কেন্দ্রে গিয়ে হিসাব নম্বর বললে বিলের তথ্য জানা যায়। বিল নিয়ে আপত্তি থাকলে সেখানেই লিখিত অভিযোগ দিতে পারবেন।
প্রিপেইড মিটারের ব্যালেন্স দেখার উপায়
প্রিপেইড মিটারে মাস শেষে বিল আসে না, আগেই টাকা ভরে রাখতে হয়। তাই এখানে জানতে হয় কত টাকা অবশিষ্ট আছে। বেশির ভাগ মিটারের পর্দায় এমনিতেই অবশিষ্ট টাকা বা ইউনিট ঘুরে ঘুরে দেখায়। না দেখালে মিটারের কি-প্যাডে নির্দিষ্ট একটি কোড চাপতে হয়। এই কোড মিটারের কোম্পানি ও মডেলভেদে আলাদা, যা মিটারের সঙ্গে দেওয়া কার্ড বা নির্দেশিকায় লেখা থাকে।
বিজ্ঞাপন
ব্যালেন্স কমে গেলে মিটার সাধারণত সতর্কসংকেত দেয়। জরুরি অবস্থায় অনেক মিটারে ধার হিসেবে কিছু বিদ্যুৎ নেওয়ার সুবিধা থাকে, যা পরের রিচার্জ থেকে কেটে নেওয়া হয়। মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাপে প্রিপেইড অপশন থেকে রিচার্জ করলে একটি টোকেন নম্বর পাওয়া যায়, যা মিটারে বসাতে হয়।
বিলের কাগজে কী দেখবেন
বিল শুধু টাকার অঙ্ক নয়। কাগজে আগের ও বর্তমান মিটার রিডিং, মোট ব্যবহৃত ইউনিট, ইউনিটপ্রতি মূল্যের ধাপ, ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও ভ্যাট আলাদা করে লেখা থাকে। বর্তমান রিডিং আপনার মিটারের পর্দার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। হঠাৎ অনেক বেশি ইউনিট দেখালে রিডিং ভুল হতে পারে, তখন মিটারের ছবি তুলে রেখে অফিসে অভিযোগ করুন।
শেষ তারিখের পর বিল দিলে বিলম্ব মাশুল যোগ হয়। পরপর কয়েক মাস বকেয়া থাকলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে, আর পুনঃসংযোগে আলাদা ফি লাগে। তাই মোবাইলে বিল দেখার অভ্যাস করলে এসব ঝামেলা এড়ানো সহজ।
বিজ্ঞাপন
একটি ছোট অভ্যাস অনেক কাজে দেয়। প্রতি মাসের একটি নির্দিষ্ট দিনে, ধরুন মাসের দশ তারিখে, মিটারের রিডিংয়ের একটি ছবি তুলে রাখুন। কয়েক মাস পর আপনার হাতেই থাকবে ব্যবহারের নিজস্ব হিসাব। বিল নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এই ছবিগুলোই সবচেয়ে শক্ত প্রমাণ। পাশাপাশি গ্রীষ্মে ফ্যান-এসির কারণে আর শীতে কম ব্যবহারের কারণে বিল ওঠানামা করে, সেটিও বুঝতে পারবেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বিদ্যুৎ বিল জানার উপায় কি হিসাব নম্বর ছাড়া আছে?
হিসাব নম্বর ছাড়া অনলাইনে বিল দেখা সাধারণত সম্ভব নয়। মিটার নম্বর নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গেলে তাঁরা নম্বর ও বিল দুটোই জানাতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
মোবাইল অ্যাপে বিল দেখতে কি টাকা কাটে?
না, শুধু দেখার জন্য টাকা কাটে না। পিন দিয়ে নিশ্চিত করলে তবেই বিল পরিশোধ হয় এবং তখন প্রযোজ্য হলে সামান্য চার্জ লাগতে পারে।
ভাড়াটে হিসেবে কি নিজের মিটারের বিল দেখতে পারব?
হ্যাঁ, মিটারের হিসাব নম্বর জানা থাকলে যে কেউ বিল দেখতে পারেন। বাড়ির মালিকের কাছ থেকে নম্বরটি জেনে নিন।
বিজ্ঞাপন
বিল অস্বাভাবিক বেশি এলে কী করব?
মিটারের বর্তমান রিডিংয়ের ছবি তুলে রাখুন এবং বিলের কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে লিখিত অভিযোগ দিন। প্রয়োজনে মিটার পরীক্ষার আবেদন করা যায়।
বিল পরিশোধ করেছি কিনা কীভাবে নিশ্চিত হব?
মোবাইল আর্থিক সেবায় বিল দিলে ফিরতি এসএমএস ও অ্যাপের লেনদেন তালিকায় রসিদ থাকে। পরের মাসের বিলে আগের বকেয়া শূন্য দেখালে বুঝবেন টাকা ঠিকমতো জমা হয়েছে।