কক্সবাজার সৈকতে ১২ 'বর্জ্যমানব' সেজে সচেতনতার বার্তা
সাগরদূষণ রোধে পর্যটকদের প্লাস্টিক বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি · কক্সবাজার
প্রকাশ:
বুধবার সকাল আটটার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ১২ জন ‘বর্জ্যমানব’কে দেখা গেছে। তাঁদের শরীরের পুরোটা প্লাস্টিকের বোতল, মগ, ছোট বালতি, থালা এবং ইলেকট্রনিক বর্জ্য দিয়ে ঢাকা ছিল। এই ব্যতিক্রমী রূপ দেখে সৈকতে উপস্থিত পর্যটকেরা ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা সাগর থেকে কুড়িয়ে আনা বর্জ্য দিয়ে এই সাজ তৈরি করেছেন।
বিজ্ঞাপন
সকালবেলা সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়, যেখানে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। শোভাযাত্রার ১২ জন ‘বর্জ্যমানব’ সৈকতে দৌড়ে পর্যটকদের উদ্দেশে বলতে থাকেন ‘সৈকত আমাদের অমূল্য সম্পদ, সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করুন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলবেন না, প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতন হোন’
শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেওয়া জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, গত ১০ দিনে অন্তত ১০ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন এবং এখনো লাখো পর্যটক রয়েছেন। তিনি বলেন, “শোভাযাত্রায় থাকা ১২ ‘বর্জ্যমানব’ পর্যটকদের উদ্দেশে সচেতনতামূলক বার্তা দিতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।”
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সৈকত ভ্রমণে আসা মানুষজনের অনেকে বালুচরে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখেন। বিশেষ করে প্লাস্টিক। এসব সমুদ্রের পানিতে ছড়িয়ে দূষণ সৃষ্টি করছে। বালুচরে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য অসংখ্য ডাস্টবিন রাখা হলেও অনেকের সেদিকে নজর থাকে না। প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, তা দেখাতে ১২ জন নারী-পুরুষ বর্জ্যমানব সেজেছেন।’
এর আগে ১২ অক্টোবর সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্মিত ৫০ ফুট উচ্চতার একটি বর্জ্য ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভাস্কর্যটি দেখছেন।