চা বানাতে গিয়ে রান্নাঘরে ফোঁস ফোঁস করা কিং কোবরা দেখা
সাপের দৈর্ঘ্য ২০ ফুট, ওজন ৭ কেজি; বন বিভাগের হস্তক্ষেপে সাপটি বস্তায় ভরে দূরে অবমুক্ত করা হয়
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি · টেকনাফ, কক্সবাজার
প্রকাশ:
বুধবার ভোরের আজানের পর, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া গ্রামে শবে মেরাজ রান্নাঘরে চা বানাতে গিয়ে ফোঁস ফোঁস শব্দ শুনে বিশাল সাপ দেখতে পান। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা দ্রুত এসে সাপটি মেরে ফেলতে চায়।
বিজ্ঞাপন
পাশ্ববর্তী রাজারছড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদ, কমিউনিটি প্যাট্রল গ্রুপের সদস্য, প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নূর মোহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, শবে মেরাজের ছেলে ছৈয়দুল আমিন ভোরে তাকে জানায় যে তাদের বাড়িতে সাপ ঢুকে আছে। তিনি জানান, সেখানে প্রায় ১০০ মানুষ জড়ো হয়েছে সাপটিকে খুঁজে বের করে মেরে ফেলতে।
নূর মোহাম্মদ জড়ো হওয়া লোকজনকে বন্য প্রাণী আইন সম্পর্কে সতর্ক করেন, এই সাপ হত্যা করা আইনে অপরাধ। এরপর তিনি বন বিভাগকে খবর দেন এবং বন বিভাগের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
বন বিভাগের উপস্থিতিতে সাপটি বস্তায় ভরে নূর মোহাম্মদ তা নিয়ে যান। সাপের দৈর্ঘ্য ২০ ফুট ও ওজন ৭ কেজি বলে নূর মোহাম্মদ জানান। এক কিলোমিটার দূরে শিখলালীর জাহাজপুরা গর্জন বনে সাপটি অবমুক্ত করা হয়।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের শিলখালীর রেঞ্জ কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সাপটি ‘কিং কোবরা’ প্রজাতির এবং পরিবেশের জন্য খুব উপকারী। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে অনেক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে সাপটি মেরে ফেলতে জড়ো হয়েছিল, তবে কর্মীরা সাপটিকে রক্ষা করে অবমুক্ত করেন।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘদিন সাপ নিয়ে কাজ করা সর্প‑বিশেষজ্ঞ মো. আবু সাঈদ বলেন, বাংলাদেশে মোট ১০৭ প্রজাতির সাপ রয়েছে, যার মধ্যে ৩২ প্রজাতি বিষধর। কিং কোবরা সর্ববৃহৎ বিষধর সাপ, যা ৪৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা বিষধর সাপ হিসেবে পরিচিত।
বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা)–২০২৬ এর ৪১ এর ৩ ধারায় কিং কোবরা প্রথমবার হত্যায় সর্বোচ্চ তিন বছর জেল অথবা তিন লাখ টাকা জরিমানা, পুনরাবৃত্তিতে পাঁচ বছর জেল অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা নির্ধারিত। আইইউসিএনের তালিকায় কিং কোবরা ‘ভালনারেবল’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত, এবং বন উজাড়ের ফলে তার আবাসহীনতা বাড়ছে।