রাষ্ট্রমালিকানাধীন ছয় ব্যাংকে এমডি পদে খোঁজে, বেসরকারি ব্যাংক নজর
দুই দফায় এমডি মেয়াদ বাতিলের পর নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে
অর্থনীতি ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ও বেসিক—এই ছয়টি রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ ব্যাংকারদেরও বিবেচনা করা হচ্ছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। সরকার এই পদগুলোর জন্য যোগ্য প্রার্থী অনুসন্ধান করছে এবং ব্যাংকগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে দক্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে চাইছে।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে ছয়টি ব্যাংকে কোনো নিয়মিত এমডি নেই; প্রথম দফায় ২ সেপ্টেম্বর অগ্রণী ব্যাংকের এমডি মো. আনোয়ারুল ইসলাম, বেসিক ব্যাংকের এমডি মো. কামরুজ্জামান খান এবং বিডিবিএলের এমডি মো. জসিম উদ্দিনের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়। দ্বিতীয় দফায় ১৯ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের এমডি মো. শওকত আলী খান, জনতা ব্যাংকের এমডি মো. মজিবুর রহমান এবং রূপালী ব্যাংকের এমডি কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের মেয়াদ বাতিল করা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ জানায়, অগ্রণী, বেসিক ও বিডিবিএলের এমডি নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে, আর সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডি নিয়োগের কাজও শুরু হয়েছে। আপাতত এই তিনটি ব্যাংকে বেসরকারি খাতের প্রার্থীদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ করা হচ্ছে।
কেন বেসরকারি খাত থেকে এমডি নিয়োগ দিতে চায় সরকার, তা সম্পর্কে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগে জানা যায় যে, রাজনৈতিক সরকার ব্যাংকগুলোর বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে দক্ষ এমডি নিয়োগের লক্ষ্যে কাজ করছে। ডিএমডি পদে থাকা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে এমডি করা হলে তারা ব্যাংকের সমস্যাগুলো সামলাতে পারবে কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এছাড়াও, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এমডি পদে নিয়োগের জন্য বেশ কয়েকটি ভালো জীবনবৃত্তান্ত পাওয়া গেছে; কিছু প্রার্থীর এমডি বা ডিএমডি হিসেবে অভিজ্ঞতা দুই বছরের কম, ফলে যোগ্যতার শর্তে শিথিলতা আনা হয়েছে।
এ ধরনের বেসরকারি খাতের প্রার্থীকে এমডি পদে নিয়োগের পূর্বে উদাহরণ রয়েছে; অগ্রণী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ পূর্বে সাউথইস্ট এবং প্রাইম ব্যাংকের এমডি ছিলেন এবং ২০০৪ সালে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগ পান। এছাড়া, চলতি বছরের জুনে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি পদে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ডিএমডি আবেদুর রহমান সিকদার নিয়োগ পান। ছয়টি ব্যাংকে একযোগে নিয়মিত এমডি না থাকা ঘটনা এবার দ্বিতীয়বার ঘটেছে; ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ছয়টি ব্যাংকের এমডি মেয়াদ একযোগে বাতিল করা হয়েছিল।