ইমু খোলার নিয়ম: নতুন ইমো আইডি তৈরি ও প্রয়োজনীয় সেটিং
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ:
গ্রামের বাড়িতে মা-বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করা স্বজনের খোঁজ নেওয়া, বাংলাদেশে ইমুর জনপ্রিয়তার বড় কারণ হলো দুর্বল ইন্টারনেটেও এটি মোটামুটি চলে। অ্যাপটির ব্যবহারও সহজ। ইমু খোলার নিয়ম জানা থাকলে বয়স্ক মানুষও কয়েক মিনিটে নিজের আইডি তৈরি করে ফেলতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
সংক্ষেপে প্রক্রিয়াটি এ রকম: প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে imo অ্যাপ নামান, খুলে দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বেছে নিয়ে নিজের মোবাইল নম্বর দিন, নম্বরে আসা যাচাই কোড বসান, তারপর নাম ও প্রোফাইল ছবি দিন। ইমুতে আলাদা পাসওয়ার্ড বা ইমেইল লাগে না, মোবাইল নম্বরটাই আপনার পরিচয়।
তবে আইডি খোলার পরের কাজগুলোই আসল। অচেনা মানুষের কল ঠেকানো, অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখা আর ফোন বদলালে আবার লগইন করা, এসবও এই লেখায় আছে।
ইমু কিভাবে খুলবো: শুরুর প্রস্তুতি
ইমু খুলতে তিনটি জিনিস লাগে। একটি স্মার্টফোন, একটি সচল সিম যেটিতে এসএমএস বা কল আসে, আর ইন্টারনেট সংযোগ। অ্যাপটি বিনা মূল্যে পাওয়া যায়। নামানোর সময় প্রকাশকের নাম এবং ডাউনলোডের সংখ্যা দেখে নিশ্চিত হোন যে আসল অ্যাপটিই নিচ্ছেন। ইমুর একটি হালকা সংস্করণও আছে, যা পুরোনো বা কম জায়গার ফোনের জন্য উপযোগী।
বিজ্ঞাপন
অচেনা ওয়েবসাইট থেকে এপিকে ফাইল নামিয়ে ইমু ইনস্টল করবেন না। পরিবর্তিত অ্যাপের মাধ্যমে আপনার কথোপকথন ও ফোনের তথ্য অন্যের হাতে চলে যেতে পারে।
ইমু আইডি খোলার নিয়ম: ধাপে ধাপে
১. অ্যাপ নামান ও খুলুন: প্লে স্টোরে imo লিখে খুঁজে ইনস্টল করুন, তারপর খুলুন।
২. অনুমতি দিন: অ্যাপ কনট্যাক্ট, মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি চাইবে। কল ও ভিডিও কলের জন্য মাইক্রোফোন ও ক্যামেরার অনুমতি দরকার। কনট্যাক্টের অনুমতি দিলে আপনার পরিচিত যাঁরা ইমু ব্যবহার করেন, তাঁদের তালিকা আপনাআপনি দেখা যাবে।
বিজ্ঞাপন
৩. দেশ ও নম্বর: দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বেছে নিন। +৮৮০ কোড বসে গেলে এরপর নিজের নম্বর লিখুন। নম্বরের শুরুর শূন্য দুবার যেন না পড়ে, খেয়াল রাখুন।
৪. যাচাই কোড: নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে একটি কোড আসবে। অনেক সময় অ্যাপ নিজেই তা পড়ে নেয়। এসএমএস না এলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে কলের মাধ্যমে কোড পাওয়ার বিকল্প বেছে নিতে পারেন।
৫. নাম ও ছবি: নিজের নাম লিখুন। পরিচিতরা যেন সহজে চিনতে পারেন, এমন একটি ছবি দিন। চাইলে পরে বদলাতে পারবেন।
৬. চ্যাট পাতা: এবার মূল পাতায় চলে যাবেন। এখানে আপনার পরিচিত ইমু ব্যবহারকারীদের তালিকা ও চ্যাট দেখা যাবে।
বিজ্ঞাপন
প্রথম কল ও মেসেজ
কনট্যাক্ট তালিকা থেকে কারও নামে ট্যাপ করলে চ্যাট খুলবে। ওপরের দিকে থাকা ফোন আইকনে অডিও কল এবং ক্যামেরা আইকনে ভিডিও কল করা যায়। ইমুতে একসঙ্গে কয়েকজনকে নিয়ে গ্রুপ কলও করা যায়, পরিবারের সবাই মিলে কথা বলার জন্য যা বেশ কাজের।
যাঁর নম্বর ফোনে সেভ নেই, তাঁকে খুঁজতে প্রথমে ফোনের কনট্যাক্টে নম্বরটি সংরক্ষণ করুন। তিনি ইমু ব্যবহার করলে কিছুক্ষণের মধ্যে তালিকায় চলে আসবেন।
চ্যাটের ভেতরে লেখা মেসেজের পাশাপাশি ভয়েস মেসেজ, ছবি, ভিডিও ও স্টিকার পাঠানো যায়। মাইক্রোফোনের আইকন চেপে ধরে কথা বললে তা রেকর্ড হয়ে চলে যায়, যাঁরা লিখতে স্বচ্ছন্দ নন তাঁদের জন্য এটি বেশ সুবিধার। পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটি গ্রুপ খুলে রাখলে একসঙ্গে খবর দেওয়া ও গ্রুপ কল করা সহজ হয়। গ্রুপ খোলার বিকল্প সাধারণত চ্যাট পাতার ওপরের দিকের প্লাস বা নতুন চ্যাটের মেনুতে থাকে।
বিজ্ঞাপন
ভিডিও কলে ছবি বারবার আটকে গেলে ফোনের সামনের ক্যামেরা পরিষ্কার করুন, আলোর দিকে মুখ করে বসুন এবং ওয়াইফাই থাকলে সেটি ব্যবহার করুন। দুর্বল নেটওয়ার্কে ভিডিওর মান ইমু নিজেই কিছুটা কমিয়ে দেয়, যাতে কল কেটে না যায়।
ইমু কিভাবে লগইন করে: নতুন ফোনে বা অ্যাপ মুছে ফেলার পর
ফোন বদলালে বা অ্যাপ আনইনস্টল করে আবার নামালে ইমুতে আবার ঢোকার প্রক্রিয়া আসলে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার মতোই। অ্যাপ খুলে একই নম্বর দিন, কোড বসান, তাহলেই আগের আইডি ফিরে আসবে। আপনার কনট্যাক্ট তালিকা ঠিক থাকে, তবে পুরোনো চ্যাট ফিরে পাবেন কি না, তা নির্ভর করে চ্যাট ব্যাকআপ করা ছিল কি না তার ওপর।
এ কারণে সেটিংসে চ্যাট ইতিহাস ব্যাকআপের বিকল্প থাকলে তা চালু রাখা ভালো। কিছু ক্ষেত্রে নতুন ডিভাইসে লগইনের সময় ইমু অতিরিক্ত যাচাই চাইতে পারে, যেমন আপনার পরিচিত কনট্যাক্ট শনাক্ত করা। পুরোনো সিমটি হারিয়ে গেলে আগে অপারেটরের গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকে একই নম্বরের সিম তুলে নিন, তারপর লগইন করুন।
বিজ্ঞাপন
প্রয়োজনীয় সেটিং: যেগুলো আজই ঠিক করুন
ইমুর সেটিংস সাধারণত প্রোফাইল ছবি বা ওপরের কোণের আইকনে ট্যাপ করে পাওয়া যায়। হালনাগাদের সঙ্গে নাম ও অবস্থান কিছুটা বদলাতে পারে, তবে মূল বিকল্পগুলো একই থাকে।
১. প্রাইভেসি: কারা আপনাকে কল করতে পারবে, কারা আপনার প্রোফাইল ছবি ও অনলাইন থাকার অবস্থা দেখবে, তা নির্ধারণ করুন। শুধু কনট্যাক্টে থাকা মানুষদের জন্য সীমিত রাখলে অচেনা কল অনেক কমে।
২. ব্লক: কেউ বিরক্ত করলে তাঁর চ্যাট খুলে প্রোফাইলে গিয়ে ব্লক করুন। প্রয়োজনে রিপোর্টও করা যায়।
বিজ্ঞাপন
৩. অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তা: যাচাই কোড বা নিরাপত্তা পিনের মতো সুবিধা থাকলে চালু রাখুন। কোনো অবস্থায় এসএমএসে আসা কোড অন্য কাউকে বলবেন না।
৪. স্টোরেজ ও ডেটা: ছবি ও ভিডিও নিজে থেকে নামানোর সেটিং বন্ধ রাখলে ফোনের জায়গা ও ডেটা বাঁচবে। মাঝে মাঝে ক্যাশ পরিষ্কারের বিকল্পও ব্যবহার করতে পারেন।
৫. নোটিফিকেশন: কল ও মেসেজের শব্দ, কম্পন এবং গ্রুপের নোটিফিকেশন নিজের সুবিধামতো ঠিক করুন।
বয়স্ক ও প্রবাসী স্বজনদের জন্য কিছু পরামর্শ
বিজ্ঞাপন
বাবা-মায়ের ফোনে ইমু খুলে দিলে তাঁদের প্রাইভেসি সেটিং এমনভাবে রাখুন, যাতে শুধু পরিচিতরাই কল করতে পারেন। অচেনা নম্বর থেকে ভিডিও কল এলে না ধরার পরামর্শ দিন, কারণ এ ধরনের কল রেকর্ড করে প্রতারণার ঘটনা ঘটে। প্রবাসী স্বজন নম্বর বদলালে নতুন নম্বরটি আপনার ফোনে সংরক্ষণ করুন, তবেই তাঁকে ইমুতে খুঁজে পাবেন।
আর কম ইন্টারনেট গতির এলাকায় ভিডিও কল আটকে গেলে অডিও কলে চলে যান। ছবি ছাড়া কথা অনেক বেশি পরিষ্কার শোনা যায়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
এক নম্বরে কি দুটি ইমু আইডি খোলা যায়?
বিজ্ঞাপন
না, একটি মোবাইল নম্বরে একটিই ইমু অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। আলাদা আইডি চাইলে আরেকটি নম্বর লাগবে।
ইমু চালাতে কি সিম ফোনে রাখতেই হবে?
যাচাইয়ের সময় কোড পেতে সিম সচল থাকতে হয়। একবার চালু হয়ে গেলে ইন্টারনেট থাকলেই চলে, তবে পরে আবার লগইনের জন্য সিমটি হাতছাড়া করবেন না।
ইমু অ্যাকাউন্ট কীভাবে মুছব?
বিজ্ঞাপন
সেটিংসের অ্যাকাউন্ট অংশে সাধারণত অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার বিকল্প থাকে। মুছে ফেললে চ্যাট ও কনট্যাক্ট তথ্য স্থায়ীভাবে হারিয়ে যেতে পারে।
ইমুতে কোড আসছে না, কী করব?
নম্বর ঠিক আছে কি না দেখুন, নেটওয়ার্ক ভালো জায়গায় যান এবং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে কলের মাধ্যমে কোড নেওয়ার চেষ্টা করুন। বারবার কোড চাইলে কিছুক্ষণের জন্য নতুন কোড পাঠানো বন্ধ থাকতে পারে, তখন অপেক্ষা করাই সমাধান।