ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম: মোবাইল দিয়ে চ্যানেল তৈরি ও সাজানো
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ:
ইউটিউবে ভিডিও দেখার জন্য শুধু অ্যাকাউন্ট থাকলেই চলে, কিন্তু নিজের ভিডিও আপলোড করতে হলে লাগে একটি চ্যানেল। ভালো খবর হলো, চ্যানেল খুলতে কম্পিউটার বা টাকা কোনোটিই লাগে না। হাতের স্মার্টফোন আর একটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট থাকলে পাঁচ মিনিটেই কাজটি সেরে ফেলা যায়।
বিজ্ঞাপন
ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম সংক্ষেপে এ রকম: ইউটিউব অ্যাপে আপনার জিমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন, ওপরে বা নিচে থাকা প্রোফাইল ছবিতে ট্যাপ করুন, চ্যানেল তৈরির বিকল্পটি বেছে নিন, তারপর চ্যানেলের নাম ও হ্যান্ডেল দিয়ে নিশ্চিত করুন। এরপর বাকি কাজ হলো চ্যানেলটিকে দেখতে সুন্দর ও বিশ্বাসযোগ্য করে সাজানো।
তবে চ্যানেল খোলার আগে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলে পরে নাম বা বিষয় বদলাতে গিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয় না। সেই প্রস্তুতি থেকেই শুরু করা যাক।
চ্যানেল খোলার আগে যা ঠিক করে নেবেন
১. বিষয় বা নিশ: রান্না, পড়াশোনা, প্রযুক্তি, ভ্রমণ, কৃষি, গেমিং, যেকোনো একটি মূল বিষয় বেছে নিন। একই চ্যানেলে আজ রান্না, কাল গেম আর পরশু গান দিলে দর্শক ধরে রাখা কঠিন হয়।
বিজ্ঞাপন
২. চ্যানেলের নাম: ছোট, উচ্চারণে সহজ এবং বিষয়ের সঙ্গে মিল আছে এমন নাম ভাবুন। অন্য কোনো পরিচিত চ্যানেল বা ব্র্যান্ডের নাম নকল করবেন না।
৩. আলাদা জিমেইল: ব্যক্তিগত ইমেইলের বদলে চ্যানেলের জন্য আলাদা একটি জিমেইল খোলা ভালো। পরে চ্যানেল বড় হলে ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।
৪. বয়স: ইউটিউব অ্যাকাউন্ট খুলতে ন্যূনতম বয়সের শর্ত আছে, সাধারণত ১৩ বছর। আর আয়ের জন্য অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট খুলতে ১৮ বছর পূর্ণ হতে হয়। কম বয়সীরা অভিভাবকের সহায়তা নিন।
ইউটিউব একাউন্ট খোলার উপায়
বিজ্ঞাপন
আপনার ফোনে যদি আগে থেকে জিমেইল চালু থাকে, তাহলে ইউটিউব অ্যাকাউন্ট আসলে তৈরিই আছে। কারণ জিমেইল অ্যাকাউন্টই ইউটিউবের অ্যাকাউন্ট হিসেবে কাজ করে। নতুন অ্যাকাউন্ট চাইলে ফোনের সেটিংসে অ্যাকাউন্ট অংশে গিয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট যোগ করুন, অথবা ইউটিউব অ্যাপে লগইনের সময় নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরির বিকল্প বেছে নিন। নাম, জন্মতারিখ, ইমেইল ঠিকানা ও পাসওয়ার্ড দিলেই অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যায়। অনেকে একে ইউটিউব আইডি খোলার উপায় বলেন, প্রক্রিয়া একই।
মোবাইল দিয়ে চ্যানেল তৈরির ধাপ
কীভাবে ইউটিউব চ্যানেল খুলব, এই প্রশ্নের উত্তর এখানে ধাপে ধাপে দেওয়া হলো। অ্যাপের নকশা মাঝে মাঝে বদলায়, তাই বোতামের নাম বা জায়গা সামান্য আলাদা হতে পারে।
১. অ্যাপ হালনাগাদ করুন: প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ইউটিউব অ্যাপের সর্বশেষ সংস্করণ নিন।
বিজ্ঞাপন
২. লগইন করুন: যে জিমেইল দিয়ে চ্যানেল খুলতে চান, সেটি দিয়ে অ্যাপে লগইন করুন।
৩. প্রোফাইলে যান: সাধারণত নিচের ডান কোণে বা ওপরে আপনার প্রোফাইল ছবি বা নামের আদ্যক্ষর থাকে। সেখানে ট্যাপ করুন।
৪. চ্যানেল তৈরির বিকল্প: আপনার কোনো চ্যানেল না থাকলে সেখানে চ্যানেল তৈরির বোতাম দেখা যাবে। ট্যাপ করুন।
৫. নাম ও হ্যান্ডেল দিন: চ্যানেলের নাম লিখুন। হ্যান্ডেল হলো @ চিহ্ন দিয়ে শুরু হওয়া একটি ইউনিক নাম, যা দিয়ে মানুষ আপনাকে খুঁজে পাবে। ইউটিউব নিজে একটি হ্যান্ডেল প্রস্তাব করে, চাইলে বদলাতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
৬. নিশ্চিত করুন: চ্যানেল তৈরির বোতামে চাপ দিলেই চ্যানেল প্রস্তুত।
চ্যানেল সাজানো: প্রথম দেখাতেই আস্থা
খালি চ্যানেল দেখে কেউ সাবস্ক্রাইব করতে চান না। চ্যানেলের পাতায় গিয়ে সম্পাদনার পেনসিল চিহ্নে ট্যাপ করলে নিচের জিনিসগুলো যোগ করতে পারবেন।
১. প্রোফাইল ছবি: বর্গাকার ছবি দিন, যা ছোট আকারেও পরিষ্কার বোঝা যায়। ৮০০ বাই ৮০০ পিক্সেলের ছবি ভালো কাজ করে। নিজের মুখ বা সরল একটি লোগো দিন।
বিজ্ঞাপন
২. ব্যানার বা কভার: এর প্রস্তাবিত আকার ২০৪৮ বাই ১১৫২ পিক্সেল। মোবাইলে শুধু মাঝখানের অংশ দেখা যায়, তাই লেখা বা মুখ মাঝখানে রাখুন। মোবাইলের যেকোনো ছবি সম্পাদনার অ্যাপ দিয়েও ব্যানার বানানো যায়।
৩. বিবরণ: দুই-তিন লাইনে লিখুন চ্যানেলটি কী নিয়ে, কত দিন পরপর ভিডিও আসে এবং কারা উপকৃত হবেন। যে শব্দ লিখে মানুষ আপনার বিষয় খোঁজে, সেগুলো স্বাভাবিকভাবে রাখুন।
৪. যোগাযোগ ও লিংক: ব্যবসায়িক যোগাযোগের ইমেইল এবং ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইট থাকলে সেগুলোর লিংক যোগ করুন।
ইউটিউব স্টুডিও ও ফোন যাচাই
বিজ্ঞাপন
চ্যানেল পরিচালনার আসল কাজ হয় ইউটিউব স্টুডিও অ্যাপে। এখানে ভিডিওর শিরোনাম ও বিবরণ সম্পাদনা, মন্তব্যের উত্তর, কত মানুষ দেখছেন তার হিসাব, সবই পাওয়া যায়। অ্যাপটি আলাদাভাবে নামিয়ে নিন।
আরেকটি জরুরি কাজ হলো ফোন নম্বর দিয়ে চ্যানেল যাচাই করা। যাচাই না করলে নিজের বানানো থাম্বনেইল দেওয়া এবং ১৫ মিনিটের বেশি দীর্ঘ ভিডিও আপলোডের মতো সুবিধা পাওয়া যায় না। সাধারণত ইউটিউবের সেটিংস বা স্টুডিওর মাধ্যমে নম্বর দিলে এসএমএসে একটি কোড আসে, সেটি বসালেই কাজ শেষ।
স্টুডিওর সেটিংসে আরও দুটি জিনিস একবার দেখে নিন। একটি হলো চ্যানেলের দেশ, যেখানে বাংলাদেশ নির্বাচন করা থাকা উচিত। অন্যটি আপলোডের ডিফল্ট সেটিং। এখানে প্রতিটি ভিডিওর বিবরণে যে লেখা বারবার দিতে হয়, যেমন চ্যানেলের পরিচয় বা যোগাযোগের ঠিকানা, তা একবার লিখে রাখলে প্রতিবার নতুন করে টাইপ করতে হয় না। ভিডিওর ভাষা হিসেবে বাংলা বেছে রাখাও ভালো, এতে বাংলাভাষী দর্শকের কাছে ভিডিও পৌঁছাতে সুবিধা হয়।
প্রথম ভিডিও আপলোড
বিজ্ঞাপন
অ্যাপের নিচের দিকের প্লাস চিহ্নে ট্যাপ করে ভিডিও আপলোডের বিকল্প বেছে নিন। গ্যালারি থেকে ভিডিও নির্বাচন করে শিরোনাম, বিবরণ ও দর্শক নির্ধারণ করুন। ভিডিওটি শিশুদের জন্য বানানো কি না, এই প্রশ্নের সৎ উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক। এরপর পাবলিক, আনলিস্টেড বা প্রাইভেট, কোনটি হবে ঠিক করে প্রকাশ করুন। প্রথম কয়েকটি ভিডিও আনলিস্টেড রেখে পরীক্ষা করে নিতে পারেন।
শুরুতে যে ভুলগুলো এড়াবেন
১. অন্যের ভিডিও বা গান ব্যবহার: অনুমতি ছাড়া অন্যের ভিডিও, সিনেমার অংশ বা গান ব্যবহার করলে কপিরাইট দাবি ও স্ট্রাইক আসতে পারে। তিনটি স্ট্রাইক হলে চ্যানেল মুছে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
২. সাবস্ক্রাইবার কেনা: টাকা দিয়ে ভুয়া সাবস্ক্রাইবার বা ভিউ কিনলে চ্যানেলের ক্ষতি হয় এবং নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
৩. অনিয়মিত আপলোড: একসঙ্গে দশটি ভিডিও দিয়ে তিন মাস চুপ থাকার চেয়ে সপ্তাহে একটি করে নিয়মিত দেওয়া ভালো।
৪. দুর্বল শব্দ: ছবির চেয়ে শব্দের মান দর্শক বেশি খেয়াল করেন। কম দামের একটি ক্লিপ মাইক্রোফোনও বড় পার্থক্য আনে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
একটি জিমেইল দিয়ে কি একাধিক ইউটিউব চ্যানেল খোলা যায়?
বিজ্ঞাপন
হ্যাঁ, ব্র্যান্ড অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে একই জিমেইলের অধীনে একাধিক চ্যানেল খোলা যায়। এগুলো সাধারণত সেটিংসের চ্যানেল যোগ বা পরিচালনার অংশ থেকে তৈরি হয়।
চ্যানেলের নাম পরে বদলানো যাবে?
যাবে, তবে ঘন ঘন বদলানো যায় না, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কয়েকবারের সীমা থাকে। তাই শুরুতেই ভেবে নাম ঠিক করুন।
চ্যানেল খুলতে কি টাকা লাগে?
বিজ্ঞাপন
না, চ্যানেল খোলা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে। ইন্টারনেট খরচ ছাড়া আর কিছু লাগে না।
মোবাইল দিয়ে কি ভালো চ্যানেল চালানো সম্ভব?
সম্ভব। এখনকার মাঝারি দামের ফোনের ক্যামেরাই যথেষ্ট। পর্যাপ্ত আলো, স্থির হাত বা ট্রাইপড আর পরিষ্কার শব্দ থাকলেই মানসম্মত ভিডিও হয়।
চ্যানেল খুললেই কি আয় শুরু হয়?
বিজ্ঞাপন
না। আয়ের জন্য ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হতে হয়, যার জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক সাবস্ক্রাইবার ও দেখার সময় পূরণ করতে হয়। শুরুতে মানসম্মত ভিডিও ও নিয়মিত আপলোডে মনোযোগ দিন।