জিমেইল একাউন্ট রিকভারি: পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে আইডি ফিরিয়ে আনুন
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ:
বহু বছর আগে খোলা জিমেইল, ফোন বদলানোর পর আর পাসওয়ার্ড মনে নেই। অথচ সেই আইডিতেই চাকরির আবেদন, ব্যাংকের বিবরণী, ফেসবুকের লগইন, ফোনের সব ছবির ব্যাকআপ। জিমেইল হারানো মানে অনেক সময় পুরো ডিজিটাল জীবনের চাবি হারানো। ভালো খবর হলো, সঠিক পথে চেষ্টা করলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
জিমেইল একাউন্ট রিকভারির মূল কথা হলো প্রমাণ করা যে আপনিই মালিক। লগইন পাতায় ইমেইল ঠিকানা দেওয়ার পর পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন অপশনে চাপ দিলে গুগল কয়েকটি উপায়ে পরিচয় যাচাই করে: আগে লগইন করা ফোনে নোটিফিকেশন পাঠিয়ে, রিকভারি মোবাইল নম্বরে এসএমএস কোড পাঠিয়ে, অথবা রিকভারি ইমেইলে কোড পাঠিয়ে। যাচাই সফল হলে নতুন পাসওয়ার্ড ঠিক করে আইডিতে ঢোকা যায়।
শুরু করার আগে সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তুতি
গুগলের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা দেখে আপনি পরিচিত পরিবেশ থেকে চেষ্টা করছেন কি না। তাই কয়েকটি প্রস্তুতি সফলতার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়।
পরিচিত ডিভাইস ব্যবহার করুন: যে ফোন বা কম্পিউটারে আগে নিয়মিত এই অ্যাকাউন্টে লগইন করতেন, সেটি দিয়েই চেষ্টা করুন।
বিজ্ঞাপন
পরিচিত জায়গা ও ইন্টারনেট: বাড়ি বা অফিসের যে ওয়াইফাইয়ে আগে ব্যবহার করতেন, সেখান থেকে চেষ্টা করলে ভালো।
রিকভারি নম্বরের সিম হাতে রাখুন: অ্যাকাউন্টে যে নম্বর যুক্ত ছিল, সেই সিম সচল আছে কি না দেখুন। বন্ধ থাকলে অপারেটরের কাছ থেকে সিম তুলে নেওয়ার চেষ্টা করুন, এটিই সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে।
তাড়াহুড়া করবেন না: অল্প সময়ে বারবার ব্যর্থ চেষ্টা করলে সাময়িকভাবে চেষ্টার সুযোগ বন্ধ হতে পারে। একবার ব্যর্থ হলে কিছু সময় বিরতি দিন।
জিমেইল রিকভার করার নিয়ম: ধাপে ধাপে
বিজ্ঞাপন
১. লগইন পাতায় যান: জিমেইল অ্যাপ বা ব্রাউজারে gmail.com খুলে আপনার ইমেইল ঠিকানা লিখুন এবং পরের ধাপে যান।
২. পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন: পাসওয়ার্ডের ঘরের নিচে পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন লেখায় চাপ দিন।
৩. মনে থাকা শেষ পাসওয়ার্ড: অনেক সময় প্রথমে জানতে চাওয়া হয় মনে থাকা শেষ পাসওয়ার্ড কী ছিল। আন্দাজে হলেও কাছাকাছি একটি পাসওয়ার্ড দিন, না জানলে অন্য উপায় বেছে নিন।
৪. ফোনে নোটিফিকেশন: যদি অন্য কোনো ফোনে অ্যাকাউন্টটি এখনো লগইন করা থাকে, সেখানে একটি বার্তা যাবে, আপনি কি লগইন করার চেষ্টা করছেন। সেই ফোনে হ্যাঁ চাপুন। কখনো পর্দায় দেখানো একটি সংখ্যা ফোনে মিলিয়ে বাছতে হয়।
বিজ্ঞাপন
৫. এসএমএস কোড: রিকভারি নম্বর যুক্ত থাকলে সেখানে ছয় সংখ্যার কোড পাঠানোর প্রস্তাব আসবে। কোড এলে বসিয়ে দিন।
৬. রিকভারি ইমেইল: বিকল্প ইমেইল যুক্ত থাকলে সেখানে কোড পাঠানো হয়। সেই ইমেইল খুলে কোডটি এনে বসান।
৭. নতুন পাসওয়ার্ড: যাচাই সফল হলে নতুন পাসওয়ার্ড ঠিক করতে বলা হবে। আগের পাসওয়ার্ড বা সহজে আন্দাজযোগ্য কিছু দেবেন না।
এরপর গুগল নিরাপত্তা পর্যালোচনার প্রস্তাব দিতে পারে, যেখানে রিকভারি তথ্য ঠিক আছে কি না দেখানো হয়। এই সুযোগে সব তথ্য হালনাগাদ করে নিন।
বিজ্ঞাপন
ফোন নম্বর বা রিকভারি ইমেইল না থাকলে
এটিই সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি। রিকভারি নম্বর বা ইমেইল যুক্ত না থাকলে বা সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারালে গুগল অন্য প্রশ্ন করে নিশ্চিত হতে চায়। যেমন অ্যাকাউন্ট কবে খোলা হয়েছিল, কোন মাস ও বছর। আপনি যে ইমেইল ঠিকানাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন। কখনো আপনার নাগালের অন্য একটি ইমেইল ঠিকানা চাওয়া হয়, যেখানে পরে যোগাযোগ করা হবে।
যতটা সম্ভব নির্ভুল উত্তর দিন, অনুমান করলেও কাছাকাছি সময় বলুন। একবারে না হলে অন্য দিন পরিচিত ডিভাইস থেকে আবার চেষ্টা করুন। তবে সত্যি কথা হলো, কোনো যাচাই তথ্য না থাকলে সফলতার নিশ্চয়তা নেই। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য গুগলের সরাসরি ফোন সহায়তা নেই, তাই কেউ টাকার বিনিময়ে অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বললে বুঝবেন সেটি প্রতারণা, তাঁরা উল্টো আপনার তথ্য চুরি করতে পারেন।
জিমেইল পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে কিভাবে দেখবো
বিজ্ঞাপন
অনেকেই পাসওয়ার্ড বদলানোর আগে জানতে চান আগের পাসওয়ার্ডটি কোথাও সংরক্ষিত আছে কি না। যদি কোনো ডিভাইসে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট এখনো লগইন করা থাকে এবং ব্রাউজার বা ফোন পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করে রাখে, তাহলে গুগলের পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে সংরক্ষিত পাসওয়ার্ডের তালিকা দেখা যায়। অ্যান্ড্রয়েডে সাধারণত সেটিংসের গুগল অংশ থেকে গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনায় গিয়ে নিরাপত্তা বা পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অংশে এটি পাওয়া যায়। দেখার আগে ফোনের স্ক্রিন লক বা আঙুলের ছাপ দিয়ে নিশ্চিত করতে হয়।
তবে জিমেইলের নিজের পাসওয়ার্ড সাধারণত সেখানে আলাদা করে থাকে না, অন্য সাইটের পাসওয়ার্ড থাকে। কম্পিউটারের ব্রাউজারে কখনো জিমেইলের পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করে থাকলে ব্রাউজারের পাসওয়ার্ড অংশে পাওয়া যেতে পারে। এই পদ্ধতি শুধু নিজের অ্যাকাউন্ট ও নিজের ডিভাইসের জন্য। কোথাও না পেলে উপরের নিয়মে নতুন পাসওয়ার্ড ঠিক করাই সমাধান।
অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার পর যা অবশ্যই করবেন
রিকভারি তথ্য হালনাগাদ: বর্তমান মোবাইল নম্বর ও একটি সচল বিকল্প ইমেইল যুক্ত করুন। এটিই ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
বিজ্ঞাপন
দুই ধাপের যাচাই চালু: টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করলে পাসওয়ার্ড ফাঁস হলেও অন্য কেউ ঢুকতে পারবে না। ব্যাকআপ কোড প্রিন্ট করে নিরাপদে রাখুন।
অপরিচিত ডিভাইস সরিয়ে দিন: নিরাপত্তা অংশে কোন কোন ডিভাইসে অ্যাকাউন্ট লগইন আছে দেখুন। অচেনা কিছু থাকলে সেখান থেকে সাইন আউট করুন।
হ্যাক হয়েছিল কি না যাচাই: পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া নয়, অন্য কেউ বদলে দিয়েছিল মনে হলে জিমেইলের সেটিংসে ফরোয়ার্ডিং, ফিল্টার আর স্বয়ংক্রিয় উত্তরের অংশ দেখুন। হ্যাকাররা প্রায়ই গোপনে মেইল অন্য ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করে রাখে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বিজ্ঞাপন
জিমেইল ফিরিয়ে আনার উপায় কি পুরোনো নম্বর বন্ধ থাকলেও আছে?
আছে, তবে কঠিন। পরিচিত ডিভাইস, রিকভারি ইমেইল বা অ্যাকাউন্টের তথ্য দিয়ে চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে অপারেটরের কাছ থেকে পুরোনো নম্বরের সিম তুলে নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর।
রিকভারির চেষ্টা কতবার করা যায়?
নির্দিষ্ট সংখ্যা ঘোষিত নয়। তবে অল্প সময়ে বারবার চেষ্টা করলে সাময়িক বাধা আসে, তাই বিরতি দিয়ে চেষ্টা করুন। প্রতিবার একই পরিচিত ডিভাইস ও একই জায়গা থেকে চেষ্টা করলে গুগলের কাছে আপনার পরিচয় আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়।
বিজ্ঞাপন
মুছে যাওয়া জিমেইল কি ফেরত আনা যায়?
নিজে মুছে ফেললে অল্প কিছু সময়ের মধ্যে রিকভারির চেষ্টা করলে ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। দীর্ঘদিন পরে আর সম্ভব হয় না।
রিকভারির পর কি পুরোনো সব মেইল ও ফাইল থাকবে?
হ্যাঁ, পাসওয়ার্ড বদলালে মেইল, ছবি বা ড্রাইভের ফাইল মুছে যায় না। অ্যাকাউন্ট আগের মতোই থাকে।
বিজ্ঞাপন
নতুন পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর অন্য ফোনগুলো থেকে কি লগআউট হয়ে যাবে?
সাধারণত পাসওয়ার্ড বদলালে অন্যান্য ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্ট সাইন আউট হয়ে যায়। নিজের প্রতিটি ডিভাইসে নতুন পাসওয়ার্ড দিয়ে আবার লগইন করে নিন। কোনো ডিভাইস না চিনলে সেখানে আর লগইন করবেন না।