মোবাইলে স্ক্রিনশট নেওয়ার নিয়ম: অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনের সহজ কৌশল
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ:
বিকাশে টাকা পাঠানোর পর লেনদেনের প্রমাণ রাখা, অনলাইনে কেনা টিকিট সংরক্ষণ কিংবা কারও মেসেজের প্রমাণ রাখা, স্ক্রিনশট আমাদের প্রতিদিনের কাজে লাগে। অথচ নতুন ফোন হাতে পেলে অনেকেই খুঁজে পান না কোন বোতাম চাপলে ছবিটা ওঠে।
বিজ্ঞাপন
মূল কৌশল একটাই। প্রায় সব অ্যান্ড্রয়েড ফোনে পাওয়ার বোতাম ও ভলিউম কমানোর বোতাম একসঙ্গে চেপে মুহূর্তের জন্য ধরে রাখলে স্ক্রিনশট হয়। ফেস আইডিওয়ালা আইফোনে চাপতে হয় সাইড বোতাম ও ভলিউম বাড়ানোর বোতাম। আর পুরোনো ধরনের হোম বোতামওয়ালা আইফোনে হোম বোতাম ও সাইড বা ওপরের বোতাম একসঙ্গে।
এর বাইরে আঙুলের ইশারায়, কুইক সেটিংস থেকে বা ফোনের পেছনে টোকা দিয়েও স্ক্রিনশট নেওয়া যায়। লম্বা চ্যাট বা ওয়েবপাতা একটি ছবিতে ধরে রাখার ব্যবস্থাও আছে। কোনটি কোন ফোনে চলে আর স্ক্রিনশট না হলে কী করবেন, নিচে সব একসঙ্গে দেওয়া হলো।
স্ক্রিনশট কিভাবে নিব: বোতামের সঠিক কৌশল
বোতাম চাপার কৌশলেই বেশির ভাগ মানুষ ভুল করেন। দুটি বোতাম ঠিক একই মুহূর্তে চাপতে হবে। একটি আগে চাপলে হয় স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যায়, নয়তো ভলিউম বার ভেসে ওঠে।
বিজ্ঞাপন
১. একসঙ্গে চাপুন: দুই বোতামে আঙুল রেখে একসঙ্গে চাপুন এবং আধা সেকেন্ডের মতো ধরে রাখুন।
২. সংকেত দেখুন: স্ক্রিন একবার ঝলক দেবে বা শাটারের শব্দ হবে। কোণে ছোট একটি প্রিভিউ ভেসে উঠবে।
৩. প্রিভিউ ব্যবহার করুন: প্রিভিউতে ট্যাপ করলে ছবি কেটে ছোট করা, দাগ টানা বা সরাসরি শেয়ার করা যায়। কিছু না করলে ছবিটি নিজে থেকেই গ্যালারিতে জমা হয়।
খুব বেশিক্ষণ চেপে ধরলে অনেক ফোনে বন্ধ বা রিস্টার্টের মেনু চলে আসে। তাই দীর্ঘ চাপ নয়, দৃঢ় কিন্তু সংক্ষিপ্ত চাপ।
বিজ্ঞাপন
অ্যান্ড্রয়েডে স্ক্রিনশট নেওয়ার উপায়: বোতাম ছাড়াও
বিভিন্ন ব্র্যান্ড নিজেদের মতো কিছু সহজ পথ যোগ করেছে। আপনার ফোনে কোনটি আছে, তা সাধারণত সেটিংসের অ্যাডভান্সড ফিচার, জেসচার বা মোশন অংশে পাওয়া যায়।
১. তিন আঙুলে নিচে টানা: অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোনে স্ক্রিনের ওপর তিন আঙুল রেখে নিচের দিকে টানলেই স্ক্রিনশট হয়। ফিচারটি বন্ধ থাকলে সেটিংসে চালু করে নিন।
২. কুইক সেটিংস: স্ক্রিনের ওপর থেকে নোটিফিকেশন প্যানেল টেনে নামালে অনেক ফোনে স্ক্রিনশট নামে একটি বোতাম থাকে। না দেখলে প্যানেল সম্পাদনা করে যোগ করা যায়।
বিজ্ঞাপন
৩. হাতের তালু দিয়ে টানা: স্যামসাংয়ের কিছু ফোনে হাতের তালুর কিনারা স্ক্রিনের এক পাশ থেকে আরেক পাশে টেনে নিলেও স্ক্রিনশট হয়।
৪. ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট: ফোনের ভয়েস সহকারীকে মুখে বললেও অনেক ফোনে স্ক্রিনশট নেওয়া যায়।
৫. অ্যাক্সেসিবিলিটি মেনু: যাঁদের বোতাম চাপতে কষ্ট হয় বা বোতাম নষ্ট, তাঁরা সেটিংসের অ্যাক্সেসিবিলিটি অংশ থেকে ভাসমান মেনু চালু করতে পারেন, যেখানে স্ক্রিনশটের বোতাম থাকে।
আইফোনে স্ক্রিনশট
বিজ্ঞাপন
আইফোনে বোতামের নিয়ম মডেলভেদে দুই রকম, যা শুরুতেই বলা হয়েছে। এর বাইরে দুটি কাজের কৌশল আছে।
১. ব্যাক ট্যাপ: সেটিংসের অ্যাক্সেসিবিলিটি থেকে টাচ অংশে গিয়ে ব্যাক ট্যাপ চালু করুন। এরপর ফোনের পেছনে দুবার বা তিনবার টোকা দিলে স্ক্রিনশট হবে। নতুন সংস্করণের আইওএসে এটি পাওয়া যায়।
২. অ্যাসিস্টিভ টাচ: স্ক্রিনে একটি ভাসমান বোতাম রাখে। এর মেনুতে স্ক্রিনশট যোগ করে নিলে এক ট্যাপেই ছবি নেওয়া যায়।
আইফোনের স্ক্রিনশট ফটোস অ্যাপে জমা হয় এবং অ্যালবামের তালিকায় স্ক্রিনশট নামে আলাদা ফোল্ডারে পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
স্ক্রিনশট নেওয়ার পর সম্পাদনার সুবিধাও কাজে লাগাতে পারেন। প্রিভিউতে ট্যাপ করলে বা গ্যালারি থেকে ছবিটি খুলে সম্পাদনার বিকল্পে গেলে অপ্রয়োজনীয় অংশ কেটে ফেলা, কোনো লেখার নিচে দাগ টানা কিংবা তীরচিহ্ন দিয়ে নির্দিষ্ট জায়গা দেখানো যায়। কাউকে মোবাইলের কোনো সেটিং বোঝাতে গেলে এভাবে চিহ্নিত স্ক্রিনশট অনেক বেশি কাজে দেয়। একাধিক স্ক্রিনশট জমে গেলে নিয়মিত পুরোনোগুলো মুছে ফেলুন, নইলে অজান্তেই ফোনের অনেকটা জায়গা দখল হয়ে যায়।
লম্বা বা স্ক্রল স্ক্রিনশট
পুরো একটি চ্যাট, রসিদ বা লম্বা ওয়েবপাতা একটি ছবিতে রাখতে চাইলে স্ক্রল স্ক্রিনশট কাজে লাগে। অ্যান্ড্রয়েডে সাধারণ স্ক্রিনশট নেওয়ার পর প্রিভিউর পাশে আরও ধরুন, স্ক্রল বা নিচের দিকে তীরচিহ্ন জাতীয় একটি বোতাম দেখা যায়। সেটি চাপলে স্ক্রিন নিজে নিচে নামতে থাকে, আপনি যেখানে থামাবেন সেখানে ছবি শেষ হবে।
আইফোনে সাফারি ব্রাউজারে স্ক্রিনশট নিয়ে প্রিভিউ খুললে ওপরে পুরো পাতা নামে একটি বিকল্প আসে। এভাবে পুরো ওয়েবপাতা সংরক্ষণ করা যায়, যা সাধারণত পিডিএফ আকারে থাকে।
বিজ্ঞাপন
স্ক্রিনশট হচ্ছে না কেন
বোতাম ঠিকঠাক চাপার পরও যদি স্ক্রিনশট না হয়, তাহলে কারণ সাধারণত নিচের কোনো একটি।
১. অ্যাপের নিরাপত্তা নিষেধ: ব্যাংকিং ও মোবাইল আর্থিক সেবার অনেক অ্যাপ, পাসওয়ার্ড লেখার পাতা এবং কিছু ভিডিও স্ট্রিমিং অ্যাপ ইচ্ছা করেই স্ক্রিনশট আটকে রাখে। তখন বার্তা আসে যে এই অ্যাপ বা প্রতিষ্ঠান স্ক্রিনশট নিতে দেয় না। এটি ফোনের ত্রুটি নয়, নিরাপত্তাব্যবস্থা। লেনদেনের প্রমাণ দরকার হলে অ্যাপের ভেতরের রসিদ বা স্টেটমেন্ট শেয়ার বা ডাউনলোডের বিকল্প ব্যবহার করুন।
২. ব্রাউজারের ছদ্ম মোড: অনেক ব্রাউজারে ইনকগনিটো বা প্রাইভেট ট্যাবে স্ক্রিনশট বন্ধ থাকে।
বিজ্ঞাপন
৩. ফোনে জায়গা নেই: স্টোরেজ পুরো ভরে গেলে স্ক্রিনশট সংরক্ষণ হয় না। কিছু ফাইল মুছে জায়গা করুন।
৪. অফিস বা স্কুলের নিয়ন্ত্রণ: প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ফোন বা ওয়ার্ক প্রোফাইলে নীতিমালার কারণে স্ক্রিনশট বন্ধ থাকতে পারে।
৫. বোতামের সমস্যা: ভলিউম বা পাওয়ার বোতাম ঠিকমতো কাজ না করলে উপরের বিকল্প পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করুন এবং বোতাম মেরামত করিয়ে নিন।
৬. সাময়িক সফটওয়্যার জটিলতা: একবার ফোন রিস্টার্ট করুন। তাতেও কাজ না হলে সফটওয়্যার হালনাগাদ আছে কি না দেখুন।
বিজ্ঞাপন
স্ক্রিনশট শেয়ারের আগে সাবধানতা
স্ক্রিনশটে প্রায়ই এমন তথ্য থেকে যায়, যা আমরা খেয়াল করি না। ওপরের স্ট্যাটাস বারে সময় ও ব্যাটারি তো থাকেই, অনেক সময় অন্যের নাম, ফোন নম্বর, অ্যাকাউন্ট নম্বর বা লেনদেনের আইডিও থাকে। শেয়ারের আগে সম্পাদনার বিকল্পে গিয়ে এসব অংশ কেটে ফেলুন বা ঢেকে দিন। অন্যের ব্যক্তিগত কথোপকথনের স্ক্রিনশট অনুমতি ছাড়া ছড়িয়ে দেওয়া নৈতিকভাবে যেমন ঠিক নয়, তেমনি আইনি ঝামেলাও ডেকে আনতে পারে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
স্ক্রিনশট ফোনের কোথায় জমা হয়?
বিজ্ঞাপন
অ্যান্ড্রয়েডে গ্যালারি বা ফটোস অ্যাপের স্ক্রিনশট ফোল্ডারে, আর আইফোনে ফটোস অ্যাপের স্ক্রিনশট অ্যালবামে।
ভিডিওর মতো স্ক্রিন রেকর্ড করা যায়?
হ্যাঁ, এখনকার বেশির ভাগ অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে কুইক সেটিংস বা কন্ট্রোল সেন্টারে স্ক্রিন রেকর্ডারের বোতাম থাকে।
অন্য কেউ কি জানতে পারেন আমি তাঁর চ্যাটের স্ক্রিনশট নিয়েছি?
বিজ্ঞাপন
সাধারণ চ্যাটে বেশির ভাগ অ্যাপ জানায় না। তবে কিছু অ্যাপ নির্দিষ্ট ধরনের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া মেসেজ বা ছবির ক্ষেত্রে স্ক্রিনশট আটকে দেয় বা জানিয়ে দেয়।
বোতাম নষ্ট হলে কীভাবে স্ক্রিনশট নেব?
তিন আঙুলের ইশারা, কুইক সেটিংসের বোতাম, অ্যাক্সেসিবিলিটি মেনু বা আইফোনের অ্যাসিস্টিভ টাচ ব্যবহার করুন।
কম্পিউটারে স্ক্রিনশট কীভাবে নেব?
বিজ্ঞাপন
উইন্ডোজ কম্পিউটারে কিবোর্ডের প্রিন্ট স্ক্রিন বোতাম চাপলে পুরো স্ক্রিনের ছবি কপি হয়। উইন্ডোজ কি, শিফট ও এস একসঙ্গে চাপলে পছন্দমতো অংশ বেছে নেওয়া যায়।