ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস ধর্মমন্ত্রীর
আগামী চার বছরের মধ্যে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতাদের সরকারি সম্মানী কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা
নিজস্ব প্রতিবেদক · ঢাকা
প্রকাশ:
শনিবার সকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন ও জাতীয় ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাকর বলে উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কিছুটা লক্ষ করেছি। আমি তো চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে ছিলাম। ওখান থেকে কিছুটা লক্ষ করেছি, দেশে এসেও লক্ষ করেছি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাকর এবং আশা করি ভবিষ্যতে এ জিনিসটা ঘটবে না বলে আমি বিশ্বাস করি। আমরা সে ব্যাপারে যা করা প্রয়োজন, তাই করব।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন এবং তিনি এ থেকে উত্তরণের নির্দেশনা দিয়েছেন।
ইমামদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, জুমার খুতবার মাধ্যমে সমাজ থেকে মাদক, ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, জিনা ও অন্যায়-অবিচার দূর করতে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইমামদের কথা মানুষ পরম আস্থার সঙ্গে শোনে, তাই সমাজের অনৈতিকতা দূর করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সম্মেলনে ধর্মীয় নেতাদের আর্থিক সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা জানান ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় নেতাদের পর্যায়ক্রমে সরকারি সম্মানী কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হুরায়রার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামাল, বিএনপির চেয়ারপারসনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহিল বাকী নদভী।