শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক স্খলনের ঘটনায় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক শাস্তির দাবি হেফাজতের
শিক্ষার্থী নিপীড়ন রোধে সব মাদ্রাসায় সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আল-হাইআতুল উলয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক · ঢাকা
প্রকাশ:
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ওঠা নৈতিক পদস্খলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, নৈতিক স্খলনের দায়ে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত—উভয় ধরনের শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা বা আপস করা চলবে না। শনিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এই দাবি জানান।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেকোনো অনৈতিক আচরণ বা শিশু নিপীড়ন গ্রহণযোগ্য নয়, তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও সমর্থনযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন সংগঠনটির নেতারা।
শিক্ষার্থী নিপীড়ন রোধে গত ১৯ সেপ্টেম্বর কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠন বা সচল রাখা বাধ্যতামূলক। যেকোনো অভিযোগের তদন্ত করে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডগুলোকে শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন এবং অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হেফাজতের নেতারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি না থাকলে বা কোনো অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্কুল ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নীতিমালা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন সংগঠনটির নেতারা।