বান্দরবানের সাকা হাফং জয় করলেন গায়িকা মাশা ইসলাম
হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্তে অচেনা অভিযাত্রীদের সঙ্গে চার দিনের ট্রেকিং সম্পন্ন করলেন এই সংগীতশিল্পী
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি · আলীকদম, বান্দরবান
প্রকাশ:
প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসেন সংগীতশিল্পী মাশা ইসলাম, যা তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারীদের কাছে বেশ পরিচিত। জার্মান গণমাধ্যম ডিডব্লিউ ট্রাভেলের বাংলাদেশ নিয়ে সিরিজ ভ্লগে সহ-সঞ্চালক হিসেবে কাজ করার পর, পূজার দীর্ঘ ছুটির আগে আবার ভ্রমণের নেশা চেপে বসে তাঁর মনে। এমন সময় বান্দরবানে ট্রেকিংয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকা এক কাছের বন্ধু জরুরি কাজে আটকা পড়েন। বিকেল পাঁচটার দিকে মাশাকে ফোন করে তিনি জানান, চাইলে মাশা তাঁর পরিবর্তে যেতে পারেন। সন্ধ্যা ছয়টায় একটি মিটিং থাকা সত্ত্বেও সব কাজ গুছিয়ে রাত আটটার বাসে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওনা হন মাশা।
বিজ্ঞাপন
দেশের বেসরকারিভাবে সর্বোচ্চ চূড়া সাকা হাফং জয়ের উদ্দেশ্যে শুরু হয় এই চার দিনের অভিযান। মাশা জানান, বাসের সিট পেছনে পড়ায় রোলার কোস্টারের মতো জার্নি করে সকালে আলীকদম পৌঁছান তাঁরা। সেখান থেকে নাশতা ও শুকনা খাবার নিয়ে শুরু হয় মূল ট্রেকিং। সারাদিন হাঁটার পর রাতে নিকোলাস পাড়ায় অবস্থান করেন তাঁরা। তৃতীয় দিন ভোরে তাঁরা সাকা হাফং চূড়ায় আরোহণ করেন। ছুটির মৌসুমে ভিড় থাকলেও পাহাড় থেকে দেখা ভোরের সূর্যোদয় নিজের স্মৃতিতে গেঁথে রেখেছেন মাশা।
তরুণ এই শিল্পীর কাছে ট্রেকিং মানেই নিজেকে নতুন করে চ্যালেঞ্জ জানানো। প্রতিকূল পরিবেশ, খাবার ও শৌচাগারের অভাব এবং টানা হাঁটার ক্লান্তি সম্পর্কে মাশা বলেন, “ট্রেকিংয়ের চার দিনের মুহূর্তই ছিল চ্যালেঞ্জিং। কারণ, সব সময়ই মনে হয়, আর বুঝি পারব না। তারপরও চলতে হবে। শেষ পর্যন্ত যখন আপনি চূড়ায় উঠবেন, সেই আনন্দের তুলনা নেই। এ ধরনের অভিযান প্রতিটি মুহূর্তে আপনার মানসিক শক্তির পরীক্ষা নেবে।”
এবারের ভ্রমণে সম্পূর্ণ অচেনা এক ট্রাভেল গ্রুপের সঙ্গে সঙ্গী হয়েছিলেন মাশা। তবে সহযাত্রীদের সমর্থন এবং ভক্তদের সান্নিধ্য অভিজ্ঞতাটিকে দারুণ করে তুলেছিল। মাশা বলেন, “গ্রুপে যাঁরা ছিলেন, সবাই খুবই সাপোর্টিভ। চার দিন সুন্দর সময় কেটেছে। ওখানে অনেকই ছিলেন আমার ভক্ত। সবাই গানের আবদার করতেন। আমি এক কলি গাই, তো অন্যরা আরেকটা। দুই দিন পরে বন্ডিংটা আরও গাঢ়। শুধু আমাদের গ্রুপে নয়, ছুটিতে অনেকেই ঘুরতে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে আমার অনেক ভক্ত ছিলেন। অনেকেই আমাকে দেখে অবাক, ‘আপু, আপনিও এসেছেন!’”
পুরো যাত্রায় নেটওয়ার্কের বাইরে থাকাকে মাশা একদিকে আনন্দের মনে করলেও পরিবারের দুশ্চিন্তার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। শেষ পর্যন্ত নিরাপদে ফিরতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট। মাশা মনে করেন, ভ্রমণ শিল্পীসত্তাকে সমৃদ্ধ করে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “ভ্রমণ কিন্তু শিল্পীদের সমৃদ্ধ করে। কত গল্প যে জানা হয়! এসব গল্প প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। ওই গল্প থেকে হয়তো আমরা একটা ভাবনা নিয়ে কিছু একটা তৈরি করতে পারি, তাই না? ভ্রমণ আসলে শিল্পীসত্তাকে সমৃদ্ধ করে।”
বিজ্ঞাপন
ভ্রমণ ও সঞ্চালনার পাশাপাশি গান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মাশা। দুর্গাপূজায় মুক্তি পাওয়া ‘চিরকুট’ সিনেমার ‘চলে যেতে যেতে’ গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বর্তমানে তিনি নতুন অ্যালবাম নিয়ে কাজ করছেন, যার মধ্যে ‘শ্রাবণী রোদ’ গানটি মুক্তি পেয়েছে এবং ‘ফড়িংয়ের ছল’ গানটিও দ্রুতই আসবে। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর পর অভিনয়ের বিষয়ে মাশা জানান, বর্তমান সময়ের বৈচিত্র্যময় সিনেমার কথা ভেবে তিনি ভালো প্রস্তুতির মাধ্যমে দুই মাধ্যমেই কাজ চালিয়ে যেতে চান। এছাড়া নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ভ্রমণবিষয়ক ভ্লগ শুরু করার দীর্ঘদিনের ইচ্ছার কথাও জানান তিনি, যা কাজের চাপে এখনো সম্ভব হয়নি।