দুর্গাপূজার ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকদের ঢল
হোটেল ও রিসোর্টের সব কক্ষ আগাম বুকিং, পরিবহন সংকটে পর্যটক ভোগান্তিতে
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি · বান্দরবান
প্রকাশ:
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির সমন্বয়ে টানা ছুটিতে বান্দরবান জেলায় পর্যটকের ঢল নেমে এসেছে। নীলাচল, মেঘলা, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক ও নীলগিরি সহ জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে গিয়েছেন ভ্রমণপ্রেমীরা, আর হোটেল‑মোটেল‑রিসোর্টের প্রায় সব কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। তবে পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাবে অনেক পর্যটক ভোগান্তিতে পড়ছেন।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকেই বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবার‑পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। কেউ নীলাচলের পাহাড়চূড়া থেকে দৃশ্য দেখছেন, কেউ মেঘলার লেকে কায়াকিং করছেন, আবার কেউ শৈলপ্রপাতের শীতল পানিতে সময় কাটাচ্ছেন।
দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে জেলার আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে বেড়েছে চাপ। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের সব কক্ষ বুকিং হয়ে যাওয়ায় আগাম সংরক্ষণ ছাড়া আসা পর্যটকদের আবাসন খুঁজতে বেগ পেতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, "করোনা মহামারির পর এবারই পর্যটকদের এমন চাপ দেখা যাচ্ছে."
যাতায়াতেও তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। বান্দরবান শহরের চাঁদের গাড়ি, জিপ ও মাইক্রোবাসের স্টেশনগুলোতে সকাল থেকেই ভিড় দেখা দিয়েছে। পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্যমতে, পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য প্রায় ৪২০টি চাঁদের গাড়ি, জিপ ও মাইক্রোবাস রয়েছে, তবে পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এসব যানবাহন দিয়েও চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বান্দরবান হোটেল‑মোটেল‑রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দীন জানান, জেলা শহরসহ রুমা, থানচি, আলীকদম ও লামা উপজেলায় ছোট‑বড় প্রায় ২৫০টি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার পর্যটকের রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতিতে হোটেল‑রিসোর্টের পাশাপাশি পরিবহন, রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান, স্থানীয় পণ্য বিক্রেতা ও পর্যটননির্ভর বিভিন্ন পেশার মানুষ কর্মব্যস্ততায় আছেন। ব্যবসায়িকরা উল্লেখ করছেন, এই আগমন স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জেলা পুলিশ জানায়। বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানান, "ছুটিতে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের যাতায়াত ও ভ্রমণ নির্বিঘ্ন রাখতে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে."