পিরোজপুরে ট্রলারডুবি: গৃহবধূ রীনা বেপারীর মরদেহ উদ্ধার
প্রায় ৫০ যাত্রীর ট্রলারে ডুবে যাওয়া দুর্ঘটনায় ৮ বছর বয়সী অদ্রিতা বেপারীর মরদেহ রাতেই উদ্ধার, রীনা বেপারীর দেহ বুধবার সকাল ৯টায় মধুরাবাধে পাওয়া যায়
পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি · নাজিরপুর, পিরোজপুর
প্রকাশ:
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টায় পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা মধুরাবাধ এলাকা থেকে রীনা বেপারীর (৩৯) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রীনা নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠি গ্রামের বাসিন্দা এবং শংকর বেপারীর স্ত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনা ঘটেছে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে শ্রীরামকাঠী ফেরিঘাট এলাকায়, যেখানে স্বামী ও সন্তানসহ ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলারে আনুমানিক ৫০ জন যাত্রী ছিল, অন্যরা সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও রীনা ও তার মেয়ে পানিতে তলিয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
দুর্ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর, রাত ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অদ্রিতা বেপারীর (৮) মরদেহ উদ্ধার করে। রীনা বেপারীর দেহ তখন পর্যন্ত নিখোঁজ থাকলেও, বুধবার সকালে মধুরাবাধ এলাকায় একটি দেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানায়। উদ্ধারকর্মীরা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহটি উদ্ধার করে এবং মৃতের পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়।
পিরোজপুর জেলা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক রায়হানুর আশরাফ জানান, দুর্ঘটনার দিনই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, তবে গৃহবধূ রীনা বেপারী নিখোঁজ ছিলেন। বুধবার সকালে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় রীনা বেপারীর দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মধুরাবাধ এলাকা থেকে দেহটি শনাক্ত করা হয়।
নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা মন্তব্য করেন, ট্রলারডুবি ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঘাট ইজারাদার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবহেলা প্রমাণিত হলে ঘাটের ইজারা বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা গৃহীত হবে।
দুর্ঘটনা সম্পর্কিত সকল তথ্য স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার জানায়, এবং মামলাটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হবে।