সাঈদীর মামলার সাক্ষীর দাফন ঘিরে উত্তেজনা
গার্ড অব অনার প্রদানের পর মরদেহ পুলিশ লাইনসে রাখা হয়েছে
পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি · পিরোজপুর
প্রকাশ:
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে পিরোজপুরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং গত দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ জানায়, দুপুর ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা মানিক পশারীর মরদেহ নিয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদে আসেন। এরপর মরদেহ পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নেওয়া হলে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। তবে স্থানীয় কিছু লোক তাঁকে পিরোজপুরে দাফন না করার দাবি তোলায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।
পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করছি, যাতে কেউ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে জামায়াতের ওপর দায় চাপাতে না পারে। একজন মানুষ মারা গেছেন, তাঁর দাফনের বিষয়ে আমাদের কোনো বাধা নেই।’ তবে তিনি দাবি করেন, মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা নন এবং তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম রাত সাড়ে নয়টার দিকে জানান, গার্ড অব অনার দেওয়ার পর মরদেহটি বর্তমানে পুলিশ লাইনসের ভেতরে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে পিরোজপুরেই দাফন করতে চাইছেন। পরিস্থিতি শান্ত হলে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।