শেরপুরে বসতঘরের বারান্দায় এক বৃদ্ধের দাফন
উপযুক্ত কবরস্থানের অভাবে বাধ্য হয়ে ঘরের বারান্দায় সমাহিত করা হয় কৃষক আবদুল করিমকে
শেরপুর জেলা প্রতিনিধি · শ্রীবরদী, শেরপুর
প্রকাশ:
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার শালমারা গ্রামে আবদুল করিম (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে তাঁর বসতঘরের বারান্দায় দাফন করা হয়েছে। সোমবার অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। নিজস্ব জমি বা এলাকায় কোনো সামাজিক কবরস্থান না থাকায় পরিবার এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, পেশায় কৃষক আবদুল করিমের বসতভিটা ছাড়া আর কোনো জমি নেই। শালমারা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থান থাকলেও সবার জন্য উন্মুক্ত কোনো সামাজিক কবরস্থান নেই। ফলে যাদের নিজস্ব জায়গা নেই, তারা স্বজনদের দাফন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন।
আবদুল করিমের মেয়ে রিক্তা পারভীন বলেন, ‘আমগর বাড়িভিটা ছাড়া আর তো কুনো জমিজমা নাই। আমগর পাড়ায় কোনো গোরস্তানও নাই। তাই আর কোনো উপায় না থাহুনের (থাকার) ঘরেই বাবারে মাটি দিতে হইছে। এই পাড়ার অসহায় ও গরিব মানুষের লাইগা অন্তত একটা গোরস্তান থাহুন দরকার।’
গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ মিয়া জানান, গ্রামে একটি গণকবরস্থান তৈরির জন্য দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের কাছে দাবি জানানো হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। এমন পরিস্থিতির কারণেই মৃতদেহ ঘরে দাফন করতে হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
মঙ্গলবার তাতিহাটী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুর রউফ পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পাশের ষাইটকাকড়া গণকবরস্থানে আবদুল করিমকে দাফনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন। শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদ জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পাশের ওয়ার্ডের সামাজিক কবরস্থানে তাঁকে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘খবরটি জানার পরই ইউএনওকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। পাশের কবরস্থানে তাঁকে দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।’