বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া ভুক্তভোগী নারী কারাগারে
পুলিশ ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি · ভালুকা, ময়মনসিংহ
প্রকাশ:
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় রোববার রাতে ফেসবুক লাইভে সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশের পর স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মী ও কর্মীরা প্রথমে নারী ব্যবসায়ী সাথী আক্তারকে ঘেরাও করেন। আজ সোমবার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
বিজ্ঞাপন
সাথী আক্তার, বয়স ৩০, ভালুকা উপজেলার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে অবস্থিত একটি বিউটি পারলারের মালিক; পারলারের নাম সাথী বিউটি পারলার এবং তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলীর মেয়ে।
রোববার বেলা দুইটার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে সাথী আক্তার দুটি লাইভ করেন; প্রথমটি ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড, দ্বিতীয়টি ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ড দীর্ঘ। লাইভে তিনি বলেন, “বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী” এবং জানান তিনি প্রায় ১৪ বছর ধরে ব্যবসা করছেন, তবে এই বছর ধারাবাহিক চুরি ঘটনার ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
লাইভ ভিডিওতে তিনি বলেন গত মাসে তার দোকান থেকে এসির তার চুরি হয়েছে, আর রোববার রাতে দুটি শোরুমের বিদ্যুতের তার এবং একটি শোরুমের এসির তার কেটে নেওয়া হয়েছে, এছাড়া আশপাশের কয়েকটি দোকানের তারও চুরি হয়েছে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা তার ব্যবসা ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন; সেখানে ভালুকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইব্রাহিম খলিল উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, “বিএনপিকে নিয়ে কটূক্তি করায় এলাকার দলীয় নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারীকে প্রতিহত করতে চেয়েছিলেন।”
বিজ্ঞাপন
বিএনপি নেতা-কর্মীরা জড়ো হওয়ার পর রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ সাথী আক্তারকে হেফাজতে নেয়। ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে জানায়, “ওই নারীর ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও তিনি চারবার পর্যালোচনা করেছেন। সেখানে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পাননি। এ ধরনের বক্তব্য তাঁর বাক্স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে। পুরো ভিডিও না দেখে গুজব থেকে ঘটনার (রোববার রাত) সূত্রপাত হয়েছে।”
ওসি আরও বলেন, “ভিডিও প্রচারের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী কথা বলতে গেলে তাঁদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন ওই নারী। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ কারণে ওই নারীকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।”
ময়মনসিংহ আদালতে পুলিশের পরিদর্শক পি.এস. এম. মোস্তাছিনুর রহমান জানান, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালতে আজ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শুনানি হয়। আসামিরপক্ষে কোনো আইনজীবী জামিনের আবেদন করেননি এবং পরে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।