জামিনে মুক্তি পেয়ে নারী উদ্যোক্তার মন্তব্য: শুধু মনের কষ্ট প্রকাশ করেছি
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশের পর তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি · ভালুকা, ময়মনসিংহ
প্রকাশ:
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ব্যবসায়ী সাথী আক্তার বুধবার বেলা তিনটার দিকে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এর আগে ফেসবুকে লাইভ করে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করায় তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
বিজ্ঞাপন
সাথী আক্তার ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে ‘সাথী বিউটি পার্লার’ নামে একটি ব্যবসা পরিচালনা করেন। তিনি স্থানীয় আমজাদ আলীর মেয়ে। গত রোববার বেলা দুইটার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভে তিনি তার তিনটি শোরুমের এসি ও বিদ্যুতের মিটারের তার চুরির ঘটনার কথা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী’ বলে মন্তব্য করেন।
ভুক্তভোগী সাথী আক্তারের অভিযোগ, ফেসবুক লাইভ দেখার পর বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এসে তাকে গালিগালাজ করেন। সে সময় মুঠোফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। তিনি জানান, চুরির কারণে তার তিনটি শোরুমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং একটি শোরুমে নতুন করে চার কয়েল তার লাগাতে হয়েছে, যার প্রতি কয়েলের দাম ১২ হাজার টাকা।
নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাথী আক্তার দাবি করেন, বিএনপির কোনো পদে তিনি ছিলেন না, তবে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তিনি বলেন, ‘আমি শুধু আমার মনের কষ্ট প্রকাশ করেছি। সরকারবিরোধী কোনো কথা বলিনি। অথচ বিএনপির নেতা–কর্মীরা এসে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। দুর্দিনে দলের পাশে ছিলাম, আর আজ সেই দলের লোকেরাই আমার বুকে লাথি মারছে।’ বর্তমানে তিনি অসুস্থ বোধ করছেন এবং সুস্থ হওয়ার পর আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
ময়মনসিংহ আদালত পুলিশের পরিদর্শক পিএসএম মোস্তাছিনুর রহমান জানান, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালতে সাথী আক্তারের পক্ষে আইনজীবী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ শুনানি করেন। আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় তাকে জামিন দিয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বর আদালত পুলিশ প্রতিবেদন জমার তারিখ নির্ধারণ করেছেন এবং ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছেন।