স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি মন্তব্য
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি · ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম
প্রকাশ:
আজ শুক্রবার জুমা নামাজের আগে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়িতে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। মহাসম্মেলনের দ্বিতীয় দিনটি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বিষয়ে আমরা একমত, যারা গণহত্যা চালিয়েছে, দীর্ঘ ১৬ বছর আলেম-ওলাদের রক্ত নিয়েছে এবং মসজিদকে রক্তাক্ত করেছে, এ দেশের মানুষ তাদের আর কখনো রাজনীতি করতে দেবে না। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি থেকে দেশকে বের করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাষ্ট্রের পূর্ববর্তী নীতিগুলোর পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাই। সংবিধানের প্রস্তাবনায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিতে মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি পুনরায় ধারণ করব।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমরা ইসলামবিদ্বেষী শক্তির হাত থেকে মুক্ত হয়েছি।
বিগত ১৬-১৭ বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষ গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমিও তাঁদের একজন ছিলাম। মানুষ বিভিন্নভাবে অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
আমরা সেই হারানো সম্মান পুনরুদ্ধার করতে চাই।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যোগ করেন, ‘ধর্মের নাম বিক্রি করে যারা রাজনীতি করছে, তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা শুধু দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। ইসলামি মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা উচিত।’ তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘অন্যায়, অবিচার, দুঃশাসন ও দুর্নীতির কারণে দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ভোগান্তির শিকার হয়েছে। এমনকি খালেদা জিয়ার মতো একজন মানুষকেও বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে।’ এছাড়া জুলাই গণ‑অভ্যুত্থান ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, গঠনমূলক সমালোচনা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আলেম‑ওলামা, কওমি লাইনের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নের কথা তিনি তুলে ধরেন।