তরঙ্গের দাম সাশ্রয়ী হলে টেলিযোগাযোগে বিনিয়োগ বাড়বে, বললেন ভিওনের সিইও কান তেরজিওগ্লো
সরকারকে তরঙ্গকে রাজস্বের উৎস না ভেবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অর্থনীতি ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
টেলিযোগাযোগ খাতের প্রসারে তরঙ্গের দাম সাশ্রয়ী ও যৌক্তিক হওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বৈশ্বিক ডিজিটাল অপারেটর ভিওনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা জানান, তরঙ্গের দাম কমলে মোবাইল ইন্টারনেটের মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি গতিশীল হবে। ভিওনের বাংলাদেশি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বাংলালিংক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেখানে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
ভিওন গ্রুপের সিইও ও বোর্ড সদস্য কান তেরজিওগ্লো বলেন, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া ও কাজাখস্তানের মতো দেশগুলো তরঙ্গ ব্যবহারে নামমাত্র ফি নেয় বা অনেক ক্ষেত্রে বিনা মূল্যে ব্যবহারের সুযোগ দেয়। তিনি আরও বলেন, ‘লক্ষ্য হওয়া উচিত তরঙ্গের প্রাচুর্য নিশ্চিত করা। পর্যাপ্ত তরঙ্গ কাজে লাগানো গেলে সেবার মান বাড়বে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়বে এবং ডিজিটালাইজেশনও ত্বরান্বিত হবে।’ বর্তমানে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের হাতে থাকা ৯০০, ১ হাজার ৮০০ ও ২ হাজার ১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গের মেয়াদ আগামী ১০ নভেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে, যা নবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বাংলালিংকের সিইও ইওহান বুসে বলেন, তরঙ্গকে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বাড়ানোর অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। পাকিস্তানের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, পর্যাপ্ত তরঙ্গ ও ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের ফলে সেখানে টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ভিওনের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড চেয়ারম্যান অগি কে ফাবেলা এবং বোর্ড সদস্য আন্দ্রেই গুসেভ, স্যার ব্র্যান্ডন লুইস, ডানকান পেরি ও মিশেল সোয়েটিং উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলালিংকের বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম অপারেটর হিসেবে তারা স্টারলিংক-চালিত ডিরেক্ট-টু-সেল সেবা চালু করেছে। এছাড়া তাদের বিনোদন প্ল্যাটফর্ম 'টফি'-র মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ৭০ লাখ এবং এআইনির্ভর লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড 'রাইজ', পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম 'মুক্ত পে' ও ডিভাইস ব্র্যান্ড 'টেকভ্যান' নিয়েও আলোচনা করা হয়।