নিজের সিম নাম্বার জানার উপায়: সব অপারেটরের সহজ পদ্ধতি
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ:
নতুন সিম কিনেছেন, প্যাকেটটা কোথায় রেখেছেন মনে নেই। কেউ নম্বর চাইছেন, আর আপনি নিজের নম্বরই বলতে পারছেন না। দুই সিমের ফোনে এমন বিভ্রান্তি আরও বেশি হয়। বিব্রত হওয়ার কিছু নেই, নিজের নম্বর জানার অন্তত চার-পাঁচটি সহজ পথ আছে।
বিজ্ঞাপন
সবচেয়ে দ্রুত উপায় হলো অপারেটরের নির্ধারিত ইউএসএসডি কোড ডায়াল করা। কোড ডায়াল করলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পর্দায় বা ফিরতি এসএমএসে আপনার নম্বর ভেসে ওঠে। এর জন্য ব্যালেন্স লাগে না। কোড মনে না থাকলে ফোনের সেটিংস, অপারেটরের নিজস্ব অ্যাপ কিংবা পাশের কারও ফোনে একটা মিসড কল দিয়েও নম্বর জানা যায়।
নিচে প্রতিটি পদ্ধতি আলাদা করে দেওয়া হলো। একটা কথা আগেই বলে রাখি, অপারেটররা মাঝে মাঝে তাদের কোড বদলায়। কোনো কোড কাজ না করলে অপারেটরের হেল্পলাইন বা অ্যাপ থেকে হালনাগাদ কোড জেনে নিন।
অপারেটরভিত্তিক কোড
গ্রামীণফোন: *২# ডায়াল করুন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে পর্দায় আপনার নম্বর দেখাবে।
বিজ্ঞাপন
বাংলালিংক: *৫১১# ডায়াল করুন। নম্বরটি পর্দায় বা এসএমএসে আসবে।
টেলিটক: *৫৫১# ডায়াল করুন।
রবি ও এয়ারটেল: বর্তমানে সাধারণত *২# ডায়াল করলেই নম্বর দেখা যায়। আগে এদের জন্য বড় ও আলাদা কোড প্রচলিত ছিল, যা অনেকের মনে এখনো আছে। *২# কাজ না করলে মাই রবি বা মাই এয়ারটেল অ্যাপ অথবা নিচের অন্য পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করুন।
কোড ডায়াল করার সময় দুই সিমের ফোনে খেয়াল রাখুন, কোন সিম থেকে কল যাচ্ছে। ডায়াল বোতাম চাপার পর ফোন সাধারণত সিম বেছে নিতে বলে। যে সিমের নম্বর জানতে চান, সেটিই বেছে নিন। ভুল সিম থেকে কোড গেলে অন্য নম্বর দেখাবে, আর বাংলালিংকের কোড গ্রামীণফোনের সিমে কাজ করবে না।
বিজ্ঞাপন
কোড ডায়াল করার পর কখনো পর্দায় একটি ছোট বার্তা আসে, আবার কখনো কিছুক্ষণ পর আলাদা এসএমএস আসে। বার্তা না এলে এক-দুই মিনিট অপেক্ষা করুন, তারপর আবার চেষ্টা করুন। নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকলে এমন দেরি স্বাভাবিক।
ফোনের সেটিংস থেকে নম্বর দেখা
অনেক ফোনে নম্বরটি সেটিংসের ভেতরেই সংরক্ষিত থাকে। কোম্পানিভেদে মেনুর নাম কিছুটা আলাদা হলেও পথটা প্রায় একই।
১. অ্যান্ড্রয়েড ফোনে: সেটিংসে গিয়ে সাধারণত "অ্যাবাউট ফোন" বা "ফোন সম্পর্কে" অংশে যান। সেখানে "স্ট্যাটাস" বা "সিম স্ট্যাটাস" অংশে ফোন নম্বর লেখা থাকতে পারে। কিছু ফোনে "সিম কার্ড ও মোবাইল নেটওয়ার্ক" অংশে সিমের নাম চাপলে নম্বর দেখায়।
বিজ্ঞাপন
২. আইফোনে: সেটিংস খুলে "ফোন" অংশে গেলে "মাই নাম্বার" লেখার পাশে নম্বর দেখা যায়। ডুয়াল সিম হলে সেলুলার অংশে আলাদা সিম বেছে দেখতে হয়।
৩. কন্টাক্টসে: কিছু ফোনে কন্টাক্টস অ্যাপের একেবারে ওপরে "মাই প্রোফাইল" বা নিজের নাম থাকে, সেখানে নম্বর থাকতে পারে।
তবে একটা সীমাবদ্ধতা আছে। সব সিম কার্ডে নম্বরটি আগে থেকে লেখা থাকে না। তাই সেটিংসে নম্বরের ঘর ফাঁকা বা "অজানা" দেখাতে পারে। তখন কোড বা অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
অপারেটরের অ্যাপে নম্বর দেখা
বিজ্ঞাপন
মাইজিপি, মাই রবি, মাই এয়ারটেল, মাইবিএল এবং টেলিটকের নিজস্ব অ্যাপে মোবাইল ডেটা চালু রেখে ঢুকলে অনেক সময় নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হয়। অ্যাপের হোম পেজে বা প্রোফাইলে নম্বর, ব্যালেন্স ও প্যাকের তথ্য একসঙ্গে দেখা যায়। ওয়াইফাই দিয়ে ঢুকলে অবশ্য নম্বর লিখে ওটিপি দিতে হয়, তাই এই পদ্ধতিতে মোবাইল ডেটা চালু রাখা দরকার।
আরও কিছু সহজ কৌশল
১. মিসড কল দিন: পাশের কারও ফোনে একটি কল দিন। তাঁর ফোনে যে নম্বর ভেসে উঠবে, সেটিই আপনার নম্বর। সবচেয়ে পুরোনো আর নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
২. বিশ্বস্ত কাউকে এসএমএস পাঠান: কল দিতে না চাইলে বা ব্যালেন্স কম থাকলে বিশ্বস্ত কাউকে একটি এসএমএস পাঠালে তিনি নম্বরটি জানিয়ে দিতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
৩. সিমের প্যাকেট বা কার্ড: নতুন সিমের প্যাকেটে বা যে প্লাস্টিক কার্ড থেকে সিম ছিঁড়ে নিয়েছেন, সেখানে সাধারণত নম্বর ছাপা থাকে। এগুলো না ফেলে কোথাও রেখে দেওয়া ভালো অভ্যাস।
৪. রিচার্জ বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ইতিহাস: কখনো নিজের নম্বরে মোবাইল ব্যাংকিং থেকে রিচার্জ করে থাকলে লেনদেনের তালিকায় নম্বরটি থাকতে পারে।
নিজের নামে কোন কোন সিম আছে
শুধু হাতের সিমটির নম্বর নয়, আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রে আর কোন কোন নম্বর নিবন্ধিত আছে, সেটিও জানা দরকার। যেকোনো সিম থেকে *১৬০০১# ডায়াল করে পরিচয়পত্র নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা দিলে এসএমএসে নিবন্ধিত নম্বরগুলোর তালিকা আসে। অপরিচিত নম্বর পেলে অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে সেটি বাতিল করাতে পারেন। কারণ আপনার নামে নিবন্ধিত সিম দিয়ে কেউ অপরাধ করলে দায় এসে পড়তে পারে আপনার ওপর।
বিজ্ঞাপন
নম্বর যাতে আর ভুলে না যান
ফোনের কন্টাক্টে "আমার নম্বর" নামে নিজের নম্বর সেভ করে রাখুন। দুই সিম থাকলে দুটি আলাদা নামে রাখুন, যেমন "আমার জিপি" ও "আমার রবি"। চাইলে ফোনের সেটিংসে সিমের নামও বদলে দিতে পারেন, যাতে কল বা এসএমএস পাঠানোর সময় কোন সিম কোনটি তা বোঝা সহজ হয়। পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের জন্য একটি কাগজে নম্বর লিখে ফোনের পাশে রেখে দেওয়াও কাজের।
নম্বর জানাতে গিয়েও কিছু সতর্কতা দরকার। ফোন নম্বর এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এর সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং, সামাজিক মাধ্যম ও নানা অনলাইন সেবার একাউন্ট যুক্ত থাকে। তাই অচেনা কারও কাছে, অনলাইনের খোলা পোস্টে বা কমেন্টে নিজের নম্বর লিখে দেওয়া এড়িয়ে চলুন। নম্বর জেনে কেউ ফোন করে "ভুল করে আপনার নম্বরে কোড চলে গেছে, বলে দিন" বললে কোনো অবস্থাতেই সেই কোড বলবেন না। এটি একাউন্ট দখলের পরিচিত কৌশল।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বিজ্ঞাপন
নম্বর জানার কোড ডায়াল করতে কি টাকা কাটে?
সাধারণত এ ধরনের তথ্যসেবা কোডে টাকা কাটে না এবং শূন্য ব্যালেন্সেও কাজ করে। তবে অপারেটর নিয়ম বদলাতে পারে, তাই অস্বাভাবিক কিছু দেখলে হেল্পলাইনে জানান।
কোড ডায়াল করার পর "ইনভ্যালিড এমএমআই কোড" দেখাচ্ছে কেন?
সম্ভবত কোডটি অন্য অপারেটরের, অথবা ভুল সিম থেকে ডায়াল হয়েছে। নেটওয়ার্ক না থাকলেও এমন দেখাতে পারে। সিম ও নেটওয়ার্ক ঠিক আছে কি না দেখে আবার চেষ্টা করুন।
বিজ্ঞাপন
সিম বন্ধ থাকলে কি নম্বর জানা যায়?
বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় সিমে কোড কাজ করে না। তখন সিমের প্যাকেট, পুরোনো এসএমএস বা *১৬০০১# সেবার তালিকা থেকে নম্বর খুঁজে বের করতে পারেন।
ইসিম ব্যবহার করলে নম্বর কোথায় দেখব?
ইসিমের ক্ষেত্রেও একই কোড কাজ করে, কারণ এটি সাধারণ সিমের মতোই অপারেটরের নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকে। এ ছাড়া ফোনের সেটিংসে সিম বা সেলুলার অংশে ইসিমের প্রোফাইল চাপলে অনেক সময় নম্বর দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
বিদেশে রোমিংয়ে থাকলে কি এই কোড কাজ করে?
রোমিংয়ে অনেক ইউএসএসডি কোড সীমিতভাবে কাজ করে বা খরচ হতে পারে। দেশ ছাড়ার আগেই নিজের নম্বর কন্টাক্টে সেভ করে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
বয়স্ক বাবা-মায়ের ফোনে নম্বর কীভাবে সহজে দেখাব?
তাঁদের ফোনের কন্টাক্টে "আমার নম্বর" নামে নম্বরটি সেভ করে দিন এবং চাইলে ফোনের লক স্ক্রিনের বার্তা অংশে নম্বরটি লিখে রাখুন। এতে ফোন হারালে যিনি পাবেন, তিনিও সহজে যোগাযোগ করতে পারবেন।