সিম বন্ধ করার নিয়ম: হারানো বা অব্যবহৃত সিম নিরাপদে বাতিল করুন
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ:
আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রে নিবন্ধিত প্রতিটি সিমের দায় আইনগতভাবে আপনার। কোনো সিম দিয়ে অপরাধ হলে প্রথমে খোঁজ পড়ে নিবন্ধিত মালিকের কাছে। অথচ অনেকের নামেই এমন সিম আছে যা বহু বছর আগে কেনা, হারিয়ে গেছে বা কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছিল। তাই অপ্রয়োজনীয় সিম ঝুলিয়ে না রেখে নিয়ম মেনে বন্ধ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
বিজ্ঞাপন
সিম বন্ধ করার নিয়ম পরিস্থিতিভেদে দুই রকম। সিম বা ফোন হারিয়ে গেলে প্রথমে অপারেটরের হেল্পলাইনে ফোন করে সিমটি সাময়িকভাবে বন্ধ করাতে হয়, যাতে কেউ অপব্যবহার করতে না পারে। আর কোনো সিম স্থায়ীভাবে বাতিল করতে চাইলে নিবন্ধিত মালিককে মূল জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে সশরীরে অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যেতে হয়। সেখানে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে নিবন্ধন বাতিল করা হয়।
কাজটি শুরু করার আগে জেনে নিন, আপনার নামে আসলে কয়টি সিম চালু আছে।
নিজের নামে কয়টি সিম আছে দেখে নিন
যেকোনো অপারেটরের সিম থেকে *১৬০০১# ডায়াল করলে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা চাওয়া হয়। সেটি দিলে ফিরতি এসএমএসে জানানো হয়, ওই পরিচয়পত্রে কোন কোন নম্বর নিবন্ধিত আছে। এটি বিটিআরসির চালু করা সেবা।
বিজ্ঞাপন
তালিকা হাতে পেয়ে মিলিয়ে দেখুন কোনগুলো আপনি নিজে ব্যবহার করছেন, কোনগুলো পরিবারের কেউ ব্যবহার করছেন এবং কোনগুলো আপনার অজানা। অজানা বা অপ্রয়োজনীয় নম্বরগুলোই বন্ধ করার তালিকায় রাখুন। যদি দেখেন এমন নম্বর আছে যা আপনি কখনো কেনেননি, তাহলে বিষয়টি দ্রুত অপারেটরকে জানান।
হারানো সিম সাময়িকভাবে বন্ধ করার উপায়
ফোন চুরি বা হারানোর পর প্রথম এক-দুই ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ। সিমের সঙ্গে আপনার মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট, ফেসবুক ও ইমেইলের ওটিপি যুক্ত থাকে। তাই দেরি না করে নিচের কাজগুলো করুন।
১. অপারেটরের হেল্পলাইনে ফোন: পরিবারের কারও ফোন থেকে আপনার অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে ফোন করুন। নিজ অপারেটরের সিম থেকে সাধারণত ১২১ নম্বরে ফোন করা যায়, তবে অন্য অপারেটর থেকে ফোন করার নম্বর আলাদা। সেটি অপারেটরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপে দেওয়া থাকে।
বিজ্ঞাপন
২. পরিচয় যাচাই: প্রতিনিধি আপনার নাম, জন্মতারিখ, পরিচয়পত্রের তথ্য বা সাম্প্রতিক রিচার্জ ও কল সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারেন। উত্তর মিললে সিমটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
৩. মোবাইল ব্যাংকিং আটকান: বিকাশ, নগদ বা অন্য যে সেবা ওই নম্বরে চালু ছিল, তাদের হেল্পলাইনে ফোন করে একাউন্টও বন্ধ রাখতে বলুন।
৪. থানায় জিডি: ফোন চুরি হলে বা সিম অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকলে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি করুন। পরে কোনো ঝামেলা হলে এটি আপনার সুরক্ষা।
সাময়িক বন্ধের পর একই নম্বর আবার চালু করতে চাইলে মূল পরিচয়পত্র নিয়ে কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে নতুন সিম কার্ড তুলতে পারেন। এতে নম্বর একই থাকে, শুধু কার্ড বদলায়।
বিজ্ঞাপন
অব্যবহৃত সিম স্থায়ীভাবে বাতিলের নিয়ম
যে নম্বর আর কখনো ব্যবহার করবেন না, সেটি স্থায়ীভাবে বাতিল করাই ভালো। প্রক্রিয়াটি সাধারণত এরকম।
১. সঠিক অপারেটরের সেন্টার খুঁজুন: গ্রামীণফোনের সিম হলে গ্রামীণফোনের কাস্টমার কেয়ার, রবির হলে রবির, এভাবে যে অপারেটরের সিম তাদের সেন্টারে যেতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদিত বড় রিটেইল পয়েন্টেও কাজটি হয়, তবে আগে নিশ্চিত হয়ে নিন।
২. মূল পরিচয়পত্র সঙ্গে নিন: ফটোকপি নয়, মূল কার্ড লাগবে।
বিজ্ঞাপন
৩. নিজে উপস্থিত থাকুন: সিম যাঁর নামে নিবন্ধিত, তাঁর আঙুলের ছাপ নিয়েই বাতিল করা হয়। তাই অন্য কাউকে পাঠিয়ে কাজ হবে না।
৪. নম্বর জানান ও আবেদন করুন: কোন নম্বর বাতিল করবেন তা জানান। কর্মী বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের পর নিবন্ধন বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
৫. নিশ্চিত হয়ে ফিরুন: কাজ শেষে কিছুদিন পর আবার *১৬০০১# ডায়াল করে দেখুন নম্বরটি তালিকা থেকে সরে গেছে কি না।
সিম কার্ড আপনার হাতে না থাকলেও নিবন্ধিত মালিক হিসেবে আপনি সেটি বাতিল করাতে পারেন। আবার অন্য কেউ যদি সিমটি ব্যবহার করতে থাকেন, বাতিলের আগে তাঁকে জানিয়ে দেওয়া ভদ্রতা, কারণ ওই নম্বরে তাঁর মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য সেবা যুক্ত থাকতে পারে।
বিজ্ঞাপন
বন্ধের আগে যা সরিয়ে নেবেন
সিম বাতিলের পর ওই নম্বরে আর কোনো এসএমএস বা ওটিপি আসবে না। তাই আগে নিচের বিষয়গুলো দেখে নিন।
১. মোবাইল ব্যাংকিং ব্যালেন্স: ওই নম্বরে বিকাশ, নগদ বা অন্য একাউন্টে টাকা থাকলে আগে তুলে নিন বা অন্য একাউন্টে পাঠান।
২. ব্যাংক ও অনলাইন একাউন্ট: ব্যাংক, ফেসবুক, ইমেইল, সরকারি সেবা পোর্টাল বা অন্য কোনো অ্যাপে নম্বরটি দেওয়া থাকলে সেখানে নতুন নম্বর বসান।
বিজ্ঞাপন
৩. পরিচিতদের জানান: গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ও প্রতিষ্ঠানকে নতুন নম্বর জানিয়ে দিন।
৪. অবশিষ্ট ব্যালেন্স ও প্যাক: সিমে টাকা বা ইন্টারনেট প্যাক থাকলে তা সাধারণত বাতিলের সঙ্গে হারিয়ে যায়।
না ব্যবহার করলে কি সিম নিজে থেকে বন্ধ হয়
হ্যাঁ, দীর্ঘদিন কোনো রিচার্জ, কল, এসএমএস বা ইন্টারনেট ব্যবহার না হলে অপারেটর নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী সিম নিষ্ক্রিয় করে দেয় এবং পরে নম্বরটি অন্য গ্রাহককে দেওয়া হতে পারে। কত দিন পর এমন হবে, তা অপারেটরভেদে আলাদা এবং নিয়মও বদলায়। তবে এর ওপর পুরোপুরি ভরসা করা ঠিক নয়। নিষ্ক্রিয় হওয়ার আগে পর্যন্ত সিমটি আপনার নামেই থাকে, আর অনেক সময় নিষ্ক্রিয় সিমও নিবন্ধন তালিকায় দেখা যায়। নিশ্চিন্ত থাকতে চাইলে নিজে গিয়ে বাতিল করানোই নিরাপদ।
বিজ্ঞাপন
আরেকটি বিষয় অনেকে খেয়াল করেন না। নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া নম্বর পরে নতুন কোনো গ্রাহক পেলে আপনার পুরোনো ফেসবুক, ইমেইল বা অন্য কোনো অ্যাপের ওটিপি তাঁর ফোনে যেতে পারে, যদি আপনি ওসব জায়গা থেকে নম্বরটি সরিয়ে না থাকেন। তাই কোনো সিম ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলে, সেটি নিজে বাতিল করান বা নিজে থেকেই নিষ্ক্রিয় হতে দিন, দুই ক্ষেত্রেই আগে সব অনলাইন একাউন্ট থেকে নম্বরটি সরিয়ে নতুন নম্বর বসিয়ে নিন। এই একটি সতর্কতা ভবিষ্যতের অনেক ঝামেলা এড়িয়ে দেয়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
মারা যাওয়া আত্মীয়ের নামে নিবন্ধিত সিম কীভাবে বন্ধ করব?
এ ক্ষেত্রে সাধারণত মৃত্যু সনদ, মৃত ব্যক্তির পরিচয়পত্রের কপি এবং আবেদনকারীর নিজের পরিচয়পত্র নিয়ে অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে যেতে হয়। প্রয়োজনীয় কাগজ অপারেটরভেদে আলাদা হতে পারে, তাই আগে হেল্পলাইনে জেনে নিন।
বিজ্ঞাপন
অনলাইনে কি সিম বাতিল করা যায়?
সাময়িকভাবে বন্ধের অনুরোধ হেল্পলাইনে করা যায়, কিন্তু নিবন্ধন স্থায়ীভাবে বাতিল করতে সাধারণত বায়োমেট্রিক যাচাই লাগে। তাই সেন্টারে যেতে হয়।
সিম বাতিল করতে কি টাকা লাগে?
সাধারণত নিবন্ধন বাতিলে ফি নেওয়া হয় না। তবে একই নম্বরের নতুন সিম কার্ড তুলতে অপারেটর নির্ধারিত মূল্য দিতে হয়, যা সময়ের সঙ্গে বদলায়।
বিজ্ঞাপন
বাতিল করা নম্বর কি আবার ফেরত পাওয়া যায়?
বাতিলের পর নম্বরটি অপারেটরের কাছে ফিরে যায় এবং একসময় অন্য কাউকে দেওয়া হতে পারে। তাই প্রিয় বা পুরোনো নম্বর হলে বাতিলের আগে ভালো করে ভেবে নিন।
নিজের নামে অচেনা সিম পেলে কি শুধু বাতিল করলেই চলবে?
বাতিল করানো প্রথম কাজ। তবে ওই নম্বর দিয়ে কোনো অপরাধ বা প্রতারণা হয়ে থাকতে পারে, এমন আশঙ্কা থাকলে অপারেটরের কাছে লিখিতভাবে জানান এবং প্রয়োজনে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি করে রাখুন। ভবিষ্যতে কোনো তদন্তে এটি প্রমাণ করবে যে নম্বরটি আপনি ব্যবহার করেননি।