সাভারে শ্রমিক বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ; ২০০ কারখানা বন্ধ
নূন্যতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটায় সাভার ও আশুলিয়ায় নূন্যতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ও অন্যান্য দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভে প্রায় ২০০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়। এই তথ্য আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ‑১ এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞাপন
মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, "আজ (মঙ্গলবার) সকালে সাভার ও আশুলিয়ায় অধিকাংশ কারখানায় শান্তিপূর্ণভাবে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানায় অবস্থান করছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে কিছু কারখানা ছুটি ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরে শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে বিভিন্ন সময় আরও প্রায় ২০০ কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়।"
মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া আরও জানান, "গত কয়েক দিনের আন্দোলনে দায়িত্ব পালন করার সময় শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।"
আজ সকাল থেকে আবদুল্লাহপুর‑বাইপাইল সড়কের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে ৪০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়, আর সকাল সাড়ে আটটায় নরসিংহপুরে হা‑মীম গ্রুপের একটি কারখানার সামনের সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভের সময়ও একই রকম ধাওয়া ও গ্যাস শেল ব্যবহার করা হয়েছে। সকাল দশটায় আবদুল্লাহপুর‑বাইপাইল সড়কের ইউনিক এলাকায় শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যায়।
দুপুরে হেমায়েতপুর থেকে সিঙ্গাইর সড়কের পদ্মার মোড়ে স্থানীয় কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা জড়ো হন; পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর সাঁড়ে তিনটায় হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা‑আরিচা মহাসড়ক অবরোধে বিক্ষোভ শুরু হয়, আবার পুলিশ গ্যাস শেল ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় শ্রমিকেরা অবশেষে সড়ক থেকে সরে যান এবং যানবাহনের চলাচল পুনরায় শুরু হয়।