সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী কোচ ডুলি
বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে ২৩ বছরের শিরোপা খরা ঘোচাতে আত্মবিশ্বাসী কোচ টমাস ডুলি
খেলা ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
জাতীয় স্টেডিয়ামের ভিআইপি গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে গানের সুর ও উৎসবের আমেজ। মাঠের এক প্রান্তে শিল্পীরা নাচে ব্যস্ত, অন্য প্রান্তে কর্মীরা বিজ্ঞাপনী বোর্ড লাগানোর কাজে সময় কাটাচ্ছেন। আগামী বৃহস্পতিবার সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, তাই সবুজ ঘাসের মাঠটিকেও নতুন করে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
স্টেডিয়ামের বাইরে ফুটবল নিয়ে তেমন উন্মাদনা না থাকলেও আয়োজক কমিটির প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন ফিফা বিশ্বকাপের টরন্টো পর্ব মাতানো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ডিজে ও সংগীত প্রযোজক সঞ্জয় দেব। সাথে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে থাকছে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন মাঠের লড়াইয়ের দিকে, কারণ বাংলাদেশের সামনে ২৩ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০০৩ সালে শেষবার এই ঢাকায় লাল-সবুজের দল সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, এরপর দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় শুধু হতাশা আর আক্ষেপ সঙ্গী হয়েছে। এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হবে কি না, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা।
প্রতিপক্ষ ভারতও শিরোপা ধরে রাখার প্রত্যয় নিয়ে আজ ঢাকায় পৌঁছেছে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে ভারতীয় কোচ নওশাদ মুসা জানান, 'সবারই লক্ষ্য থাকে ম্যাচ জেতা এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আমরা অবশ্যই শিরোপা ধরে রাখতে চাই।'
ভারতীয় কোচ যখন বিমানবন্দরে কথা বলছিলেন, তখন বাংলাদেশ দল অনুশীলনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিকেল চারটার কিছুক্ষণ আগে টিম বাস পৌঁছায় এবিজি স্পোর্টস সিটির মাঠে এবং সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা ঘাম ঝরানো অনুশীলন করেন খেলোয়াড়রা। একই মাঠে ঘণ্টাখানেক আগে অনুশীলন সম্পন্ন করে সাফে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ ভুটান।
বিজ্ঞাপন
ছয় দলের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ও ভারতকে ফেভারিট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভারত পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে না এলেও তাদের ইতিহাস সমৃদ্ধ, বিশেষ করে ২০০৯ সালে অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়েও তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তবে বাংলাদেশও আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং হামজা-শমিতের মতো তারকারা এখন দলের বড় সম্পদ।
গত বছরের ১৮ নভেম্বর ঢাকার মাঠেই এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ, যা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। ভারতীয় কোচ নওশাদ মুসা বলেন, 'আমার বিবেচনায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। আশা করি, ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হব।'
বাংলাদেশের কোচ টমাস ডুলি প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা জানান। মুঠোফোনে তিনি বলেন, 'ভারত কেমন দল নিয়ে এসেছে, সেটা বড় কথা নয়। নিশ্চয়ই তারা শিরোপা জিততে চাইবে। আমাদেরও একই লক্ষ্য। কেউ এখানে হারতে চাইবে না। সবার প্রতি সম্মান রেখেই বলি, এবার আমাদের জেতা উচিত।'
দুই প্রতিবেশী দেশ কথার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করলেও আসল লড়াইটা হবে মাঠের পারফরম্যান্সে। নওশাদ মুসা ও টমাস ডুলি উভয়েই জানেন যে মাঠের খেলাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে সবকিছুর ফলাফল। এদিকে, টুর্নামেন্ট শুরুর দুদিন বাকি থাকলেও এখনো উদ্বোধনী দিনের ৭৫ শতাংশ টিকিট অবিক্রীত রয়েছে।