হানিফ সংকেতের ‘ইত্যাদি’তে আজ ২৩ বছর পুরোনো গান ফিরে আসছে
সংকলনে কুমার বিশ্বজিৎ‑চিশতী বাউলের দ্বি-গান, সান্টুর পুরোনো পারফরম্যান্স ও পাঁচটি মানবিক প্রতিবেদন
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি · সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ:
সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক বড় সর্দারবাড়ির সামনে নির্মিত মঞ্চে কয়েক হাজার দর্শকের সামনে দুই ভিন্ন ধারার শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ ও চিশতী বাউল গেয়েছেন। অনুষ্ঠানটি সোনারগাঁয়ের ইতিহাস‑ঐতিহ্য, মানুষের জীবনসংগ্রাম ও সমাজের নানা অসংগতি নিয়ে বিশেষভাবে পরিকল্পিত ছিল। ২০২১ সালের অক্টোবরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ধারণ করা জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র ঐ পর্বের নির্বাচিত অংশ আজ শুক্রবার রাত আটটায় বাংলা সংবাদের পর বিটিভি-তে প্রচার হবে, এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
‘ইত্যাদি’ রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত; সংকলিত পর্বে সেই সোনারগাঁর পর্বের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে প্রচারিত আরও কয়েকটি পর্বের নির্বাচিত অংশ রাখা হয়েছে। এতে গান, নাচ, মানবিক প্রতিবেদন, সামাজিক সচেতনতামূলক আয়োজন ও ব্যঙ্গাত্মক নাট্যাংশ একসঙ্গে সাজানো হয়েছে।
একসময় বাংলার রাজধানী বলে পরিচিত সোনারগাঁ ইতিহাস, স্থাপত্য ও লোক‑ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত। প্রাচ্যের ড্যান্ডি নামে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ জেলার এই ঐতিহাসিক জনপদে ২০২১ সালের অক্টোবরে ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব ধারণ করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণের ঐতিহাসিক বড় সর্দারবাড়ির সামনে অনুষ্ঠানটির নান্দনিক মঞ্চ নির্মাণ করা হয়। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত ‘সংগ্রাম’ চিত্রকর্মের আদলে তৈরি ভাস্কর্যকে ঘিরে দর্শকদের জন্য বসার ব্যবস্থা করা হয়।
কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠানটি ধারণ করা হয়। সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক স্থাপনা, লোকজ ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ও এই আয়োজনে উঠে আসে।
বিজ্ঞাপন
সংকলিত পর্বে তিনটি গান রয়েছে। একটি গানে আধুনিক গানের জনপ্রিয় শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ ও লোকসংগীতশিল্পী চিশতী বাউল একসঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন, যা নিজের শিকড় ও অস্তিত্বের সন্ধানের বিষয় তুলে ধরে। গানটি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান লিখেছেন, সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন ইব্রার টিপু।
সোনারগাঁয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে আরেকটি পরিচিতিমূলক গান রয়েছে। এই গানের শব্দ লিখেছেন মনিরুজ্জামান পলাশ, এবং স্থানীয় অর্ধশতাধিক নৃত্যশিল্পী নৃত্য পরিবেশন করেছেন। গান ও নৃত্যের মাধ্যমে সোনারগাঁয়ের সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়াও ২০০৩ সালের জুনে প্রচারিত ‘ইত্যাদি’র একটি পর্ব থেকে নেওয়া একটি গান অন্তর্ভুক্ত আছে, যা শিল্পী সান্টু গেয়েছেন। গানটির লিরিক্স লিখেছেন রিন্টু, এবং সান্টু ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সংকলিত পর্বে পাঁচটি বিশেষ প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথম দুটি প্রতিবেদন নারায়ণগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ের ইতিহাস‑ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনকে কেন্দ্র করে, যেখানে ঐতিহাসিক জনপদের পরিচয়, স্থাপত্য ও লোকশিল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
একটি প্রতিবেদনে সোনারগাঁয়ের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়ানোর উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে; এতে আত্মপ্রত্যয়ী তরুণ শাহেদ কায়েসের কাজ এবং অবহেলিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করার তার প্রচেষ্টা উপস্থাপিত হয়েছে।
পরিবেশসচেতনতার অংশ হিসেবে একটি প্রতিবেদনে বৃক্ষপ্রেমী ও বৃক্ষসেবক খাইরুল আলমের কার্যক্রমের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে, যেখানে গাছের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও বৃক্ষ পরিচর্যার কাজ তুলে ধরা হয়েছে।
২০১৯ সালের অক্টোবরে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নির্মিত একটি ব্যতিক্রমী বিদ্যালয়ের ফলোআপ প্রতিবেদনেও স্থান পেয়েছে; এতে হাওরের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে নেওয়া উদ্যোগের বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
আরেকটি মানবিক প্রতিবেদনে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় দুর্গম গাবুরা ইউনিয়নের মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে; উপকূলীয় এই অঞ্চলের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন এবং নিরাপদ পানির জন্য তাদের দৈনন্দিন কষ্টের চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
‘ইত্যাদি’র দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তার অন্যতম অংশ সামাজিক অসংগতি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক নাট্যাংশ। সংকলিত পর্বেও বিভিন্ন সময়ে প্রচারিত কয়েকটি নাট্যাংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে সমাজের অনিয়ম ও সমসাময়িক ঘটনাগুলি হাস্যরসের মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে। এই অংশগুলো দর্শকদের সঙ্গে প্রোগ্রামের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে।
প্রোগ্রামের পরিচিত দর্শক পর্ব, নানি‑নাতি, মামা‑ভাগনে ও চিঠিপত্র বিভাগও সংকলনে রয়েছে।
১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে যাত্রা শুরু করা ‘ইত্যাদি’ শুরুর থেকেই হাস্যরস, ব্যঙ্গ, গান, অভিনয়, তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বয়ে নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলেছে। হানিফ সংকেতের উপস্থাপনে অনুষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরার জন্যও পরিচিত।
স্টুডিওর বাইরে দেশের ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অনুষ্ঠান ধারণের ধারাও ‘ইত্যাদি’র অন্যতম বৈশিষ্ট্য; এই ধারাবাহিকতায় সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক বড় সর্দারবাড়ির সামনে ২০২১ সালের পর্বটি ধারণ করা হয়েছিল।