আন্দোলনকারীদের ৯০% শ্রমিক নয়
মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু দাবি করেছেন, পাঁচ শতাধিক গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির মধ্যে মাত্র ১২–১৩টিতে সমস্যার প্রতিবেদন
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি · রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ:
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি মিয়নায়তনে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও চেম্বার সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বক্তব্য রাখেন। তিনি জানিয়ে জানান, দেশের পোশাক শিল্পকে ধ্বংস করতে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার প্রচেষ্টা চলছে।
বিজ্ঞাপন
মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জে পাঁচ শতাধিক পোশাক কারখানার মধ্যে মাত্র ১২–১৩টি কারখানায় সমস্যার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৯০ শতাংশই কোনো কারখানার শ্রমিক নয়। তিনি শ্রমিকদের উসকানিতে পা না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনা করে নির্দিষ্ট স্থানে সড়ক অবরোধের মাধ্যমে অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে, তবে নারায়ণগঞ্জের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকায় পরিস্থিতি অবনতি হয়নি। শ্রমিকদের যথাযথ সম্মান ও মজুরি নিশ্চিত করতে সরকার ও মজুরি বোর্ডের নির্ধারিত মজুরি প্রদান মালিকদের প্রস্তুত রয়েছে, এ কথা তিনি জোর দিয়ে বললেন।
প্রশাসন, পুলিশ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা তিনি প্রশংসা করেন, তবে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন এবং দেশের শিল্প ও অর্থনীতির স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের ক্ষতি হলে শ্রমিক ও ব্যবসায়ী উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সভায় মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান বলেন, চলমান শ্রমিক অসন্তোষে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ভূমিকা ব্যবসায়ীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ, রহস্যজনক ও হতাশাজনক মনে হয়েছে। তিনি যোগ করে বলেন, ‘মজুরি বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেবে, তা আমরা সবাই মিলে মেনে নেব। অতীতেও ব্যবসায়ীরা মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেননি।’
বিজ্ঞাপন
সভায় চেম্বারের সহসভাপতি ও বিকেএমইএর সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, পরিচালক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, সোহেল আক্তার, গোলাম সারোয়ার সাঈদ, আহমেদুর রহমান, মজিবুর রহমান, নিতাইগঞ্জ পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি শংকর সাহা সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এই উপস্থিতি শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর মতবিনিময়কে শক্তিশালী করেছে।
গত কয়েক দিন ধরে ফতুল্লায় ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও, নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকরা উসকানিতে সাড়া না দিয়ে কাজে ফিরে গেছেন, এ জন্য তিনি তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।