ভারতের বৃন্দাবনে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যাওয়ার বিনিময়ে ৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেওয়ার দাবি পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে কোহলির মুখপাত্র এ অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট ও তথ্যগতভাবে ভুল’ বলে দাবি করেন। তিনি জানান, কোনো আর্থিক সুবিধার জন্য নয়, ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও গভীর শ্রদ্ধা থেকেই কোহলি ওই আধ্যাত্মিক সাধকের আশ্রমে যান।
সম্প্রতি শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি সংঘর্ষ ন্যাসের সভাপতি দীনেশ শর্মা, যিনি ফলাহারী মহারাজ নামে পরিচিত দাবি করেন, প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে বিরাট কোহলিকে নিয়ে আসার জন্য ৫ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। তার দাবি, রাজস্থানভিত্তিক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা একটি রিয়েল এস্টেট গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা মহারাজের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কোহলির এই সফরের আয়োজন ও অর্থায়ন করেছিলেন।
তবে ওই দাবির পক্ষে কোনো আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড, চুক্তি বা বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হলে কোহলির প্রতিনিধি দল এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয়।
বিবৃতিতে মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানাতে চাই যে, ফলাহারী মহারাজ দীনেশ শর্মার তোলা এই দাবিগুলো পুরোপুরি অসত্য, বানোয়াট ও তথ্যগতভাবে ভ্রান্ত।’
তিনি আরও বলেন, বিরাট কোহলি কেবল প্রেমানন্দ মহারাজ জির প্রতি গভীর বিশ্বাস ও পরম ভক্তি থেকেই তার আশ্রমে যান। একই সঙ্গে কোনো ভিত্তিহীন দাবি প্রচারের আগে গণমাধ্যমকে তথ্যের সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়।
বিরাট কোহলি ও তার স্ত্রী বলিউড অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা নিয়মিতই বৃন্দাবনে প্রেমানন্দ মহারাজের ‘রাধা কেলি কুঞ্জ’ আশ্রমে যান। ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো সেখানে গিয়েছিলেন এই তারকা দম্পতি। এরপর বিভিন্ন সময়ে তারা একাধিকবার মহারাজ জির আশীর্বাদ নিতে ওই আশ্রমে গেছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রম ভবনের চারতলা থেকে পড়ে রসিক দুলারি নামের এক ভক্তের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর তদন্ত শুরু করেছে মথুরা পুলিশ। ওই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আশ্রমে নজরদারি ও আলোচনা চলার মধ্যেই কোহলিকে ঘিরে কোটি রুপির আর্থিক লেনদেনের এই দাবি ছড়িয়ে পড়ে।








মন্তব্য