ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আরও আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৩২ ডলার বা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৭০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ৯৩ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান একটি শান্তি প্রস্তাব দেয়। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় তেহরান।
ইরানের প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসানের কথা বলা হয়েছে। তবে শনিবার ট্রাম্প জানান, তিনি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। রোববার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকেরা ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা করবেন।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহ এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এএনজেডের বিশ্লেষকেরা বলেছেন, ইরান ও ইয়েমেনের হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকায় আঞ্চলিক তেল সরবরাহব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে।
শনিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। এসব হামলা সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।
এদিকে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট তেলের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে ওঠার পর দেশটি ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করতে পারে- এমন আশঙ্কায় ডব্লিউটিআইয়ের দামে চাপ তৈরি হয়েছে।
এএনজেডের বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি সীমিত করলে দেশটির বাইরে জ্বালানির সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে। এর প্রভাব ইউরোপের বাজারেও পড়তে পারে।
তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি সেপ্টেম্বরে আবার বেড়েছে। জ্বালানি তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ মাসে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান উৎপাদক দেশগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর এটিই সর্বোচ্চ।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত রপ্তানি বাড়ানোর কারণে এ সরবরাহ বেড়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনও বেড়েছে। চলতি মাসে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হতে পারে বলে কেপলারের তথ্য বলছে।
সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলার পর দেশটি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে কিছু তেল রপ্তানি পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা বন্দরে সরিয়ে নিয়েছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল পরিবহন আবারও বেড়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স








মন্তব্য