পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলি বসতিতে তৈরি বা উৎপাদিত পণ্যের ওপর নেদারল্যান্ডসের নিষেধাজ্ঞার জেরে দেশটির কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল। রামাল্লায় কর্মরত ডাচ কূটনীতিকদের ইসরায়েলের দেওয়া কূটনৈতিক পরিচয়পত্র সাত দিনের মধ্যে ফেরত দিতে বলা হয়েছে।
রোববার ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’আর এ ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, সাত দিন পর ওই কূটনীতিকদের ইসরায়েলের দেওয়া বিশেষ সুবিধা ও দায়মুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।
সা’আর বলেন, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সম্পর্ক ও স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব নেদারল্যান্ডস চাইলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে করতে পারে, ইসরায়েলের ভূখণ্ড থেকে নয়।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের ক্ষতি করে এমন পদক্ষেপ ইসরায়েল উপেক্ষা করবে না। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একতরফা ও বৈরী পদক্ষেপ নেওয়া হলে সে দেশ অঞ্চলটিতে তার প্রভাব হারাবে।
ইসরায়েলের এই পদক্ষেপে ডাচ কূটনৈতিক মিশন বন্ধ হয়ে যাবে না। তবে কূটনীতিকদের পশ্চিম তীরে অবাধ চলাচলের সুযোগ সীমিত হতে পারে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত বলে ইসরায়েল যাদের দাবি করে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কূটনীতিকরা আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
এর কয়েক দিন আগে পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর নেদারল্যান্ডসের নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই নীতিতে ইসরায়েলি বসতিতে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে তৈরি পণ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞা শুধু বাণিজ্যিক আমদানির ক্ষেত্রে নয়। ব্যক্তিগত ভ্রমণকারীরা উপহার বা স্মারক হিসেবে সঙ্গে আনা পণ্যের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইসরায়েলি সীমারেখার মধ্যে তৈরি বা কেনা পণ্য এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না বলে জানিয়েছে ডাচ কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি তেল আবিব থেকে আমস্টারডামে যাওয়া এল আলের একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজে পশ্চিম তীরের বসতি বা গোলান মালভূমি থেকে আনা পণ্য আছে কি না, ডাচ কাস্টমস কর্মকর্তারা তা পরীক্ষা করেছেন বলে কয়েকজন যাত্রী জানিয়েছেন।
নেদারল্যান্ডসের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি এ ঘটনাকে ‘উন্মাদনাপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন।
তবে হাকাবির একটি উদাহরণ নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেথলেহেম থেকে কেনা যিশুর জন্মদৃশ্যের কোনো স্মারক এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ার কথা নয়। কারণ বেথলেহেম ফিলিস্তিনি শহর, ইসরায়েলি বসতি নয়। নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় বছরের কারাদণ্ডের যে কথা হাকাবি উল্লেখ করেছেন, সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের সর্বোচ্চ শাস্তি; পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত শাস্তি নয়।
ডাচ নীতির বিরুদ্ধে ইসরায়েলের এটি প্রথম পদক্ষেপ নয়। এর আগে আগস্টের শেষ দিকে ইসরায়েল গাজা সমন্বয়কেন্দ্র থেকে ডাচ প্রতিনিধিদের বহিষ্কার করেছিল। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তখন নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন ‘ইসরায়েলবিরোধী’ পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
এদিকে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।
এরপর যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার নেতারা যৌথ বিবৃতিতে বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ এবং বসতি সম্প্রসারণে সহায়তা বা সেখান থেকে লাভবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।
তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল








মন্তব্য