তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার আড়াই মাসের মধ্যে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন তিনি।
শুধু দলবদলই নয়, তৃণমূলের ছেড়ে দেওয়া সেই রাজ্যসভা আসনের উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থীও হয়েছেন এই অভিনেত্রী।
রোববার (৫ অক্টোবর) বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্যসভা উপনির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে কোয়েল মল্লিকের নাম ঘোষণা করে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। সোমবার রাজ্যসভা উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন কোয়েল।
বিজেপিতে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান কোয়েল। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যি সম্মানিত। এটা বিরাট দায়িত্ব। দেশের মানুষের কল্যাণের দায়িত্ব পালন করতে চাই। আমি চাই বাংলার মানুষ আনন্দে থাকুন। কাজ বাড়ুক।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়তে থাকা তিক্ততা নিয়েও কথা বলেন অভিনেত্রী। তার ভাষায়, ‘এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তিক্ততা বাড়ছে। তার কারণ কাজের অভাব। সেটা বুঝতে হবে, মানতে হবে। বাংলায় আরও স্কুল বাড়ার দরকার। প্রতি স্তরের মানুষের জন্য। যারা নিম্নবিত্ত তাদের জন্য আমাদের ভাবতে হবে।’
সক্রিয় রাজনীতিতে ভবিষ্যতে তাকে দেখা যাবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে কোয়েল বলেন, মানুষের সেবা তার কাছে নতুন কিছু নয়। ছোটবেলা থেকেই মানুষের সেবার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় গ্রীষ্মের ছুটিতে সবাই অনেক জায়গায় যেত। আমাকে মা নিয়ে যেতেন মিশনারিজ অব চ্যারিটিতে। আমি ছোট থেকে মানুষের সেবা করেছি। বাইরের পৃথিবীটা ছোট বয়স থেকে জানা, দেখা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার খুব কাজ করতে ইচ্ছা করে। আমি যতটুকু পেরেছি করেছি। আমি সবাইকে পজিটিভ হিসেবে দেখি। আমি জানি যারা নেগেটিভ, তারা আসলে নেগেটিভ নন। নিশ্চয়ই কোনো কারণে নেগেটিভ। আমি মানুষের জীবনে কোনো পার্থক্য করতে পারি, তাহলে ভালো হবে। আমি যেন দেশের মঙ্গলের কাজে লাগতে পারি।’
কোয়েলের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় চলতি বছরেই। ২৭ ফেব্রুয়ারি তাকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে তৃণমূল। মার্চে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ৬ এপ্রিল রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি।
শ্রম, বস্ত্র ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক কমিটির সদস্যও করা হয় তাকে। তবে রাজ্যসভার কোনো অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আগেই ১৬ জুলাই সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন কোয়েল।
দিল্লিতে গিয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এর আগে ১৬ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। সেই বৈঠকের পর থেকেই কোয়েলের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা শুরু হয়।
কোয়েলের আগে রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া তৃণমূলে আরও তিন নেতা- সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইকও বিজেপিতে যোগ দেন। দলবদলের পর তাদের প্রত্যেককেই রাজ্যসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী করে বিজেপি। এবার একই ধারাবাহিকতায় তৃণমূলের কোয়েলকেও রাজ্যসভায় ফের পাঠানোর উদ্যোগ নিল দলটি।
আগামী ১৬ অক্টোবর কোয়েলের ছেড়ে দেওয়া রাজ্যসভার আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। সেই নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়েছে।








মন্তব্য