বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম সেশনে বেশ রান খরচ হলেও নিজেদের পরিকল্পনায় অনড় ছিল আফগানিস্তান। দ্বিতীয় সেশনে এক লাইন ধরে বোলিং করে তার সুফল মিলেছে বলে জানিয়েছেন আফগান পেসার ইয়ামিন আহমাদজাই।
তানজিদ হাসান তামিমের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে প্রথম সেশনে চালকের আসনে ছিল বাংলাদেশ। তবে তিনি আউট হওয়ার পরপরই দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে স্বাগতিকরা। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর মুশফিকুর রহিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ উইকেটসহ দ্রুত তিন উইকেট তুলে নেয় তারা। শর্ট বলের সংমিশ্রণে এক লাইন ধরে টানা বোলিং করে বাংলাদেশের পতন হওয়া ৮টি উইকেটের ৭টিই ভাগাভাগি করে নেন আফগানিস্তানের পেস ত্রয়ী মোহাম্মদ সলিম, ইয়ামিন আহমাদজাই ও ইসমাত আলম।
দ্বিতীয় সেশনে মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমকে ফেরানো আহমাদজাই ফুলার লেংথে নিখুঁত বোলিংয়ে আফগান আক্রমণের নেতৃত্ব দেন। সেই সঙ্গে কাঠফাটা গরমে রিভার্স সুইংও আদায় করে নেন এই পেসার।
আহমাদজাই বলেন, প্রথম সেশনের পর আমাদের পরিকল্পনা ছিল যে, তারা কিছুটা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলছিল। আমরা কেবল একটি নির্দিষ্ট চ্যানেলে বল করার চেষ্টা করেছি এবং তাদেরকে তাদের মতো শট খেলতে দিয়েছি, তবে আমরা আমাদের পরিকল্পনা থেকে সরিনি। এমন উইকেটে প্রথমে ব্যাট করা ভালো, তবে দিন শেষে আমাদের জন্য দিনটি ভালোই গেছে।
দিনের শেষভাগে বাউন্ডারি লাইনে লিটন কুমার দাসের চমৎকার এক ক্যাচ লুফে নিয়ে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের আশায় জল ঢেলে দেন আহমাদজাই। সেই ক্যাচ নিয়ে তিনি বলেন, আমি অনেক ক্যাচ ধরেছি, তবে এটি সত্যিই দারুণ একটি ক্যাচ ছিল। দিনের একদম শেষভাগে কষ্ট করে চেষ্টা চালিয়েছি এবং আলহামদুলিল্লাহ্, ক্যাচটি নিতে পেরেছি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সেট আপ করে মুশফিককে আউট করতে পেরে খুশি এই আফগান পেসার। রিভার্স সুইং রপ্ত করতে যে নিজের কবজির পজিশন নিয়ে অনেক কাজ করেছেন, তা জানিয়ে তিনি বলেন, মুশফিককে আউট করার বলটির আগে আমি একাধিক বল পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্টাম্পে রেখেছিলাম এবং তাকে আমার লাইনে খেলানোর চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু সে তা করছিল না। হঠাৎ আমি সিদ্ধান্ত নিই একটু সোজা বল করার, আর সেটি কিছুটা রিভার্স সুইং করে এবং তার উইকেটটি পেয়ে যাই।
তিনি আরও বলেন, হ্যাঁ, রিভার্স সুইং পাওয়ার জন্য আমি আমার রিস্ট পজিশন নিয়ে কাজ করছিলাম। আফগানিস্তানের উইকেট বোলারদের জন্য খুব একটা সুবিধা জনক নয়, তাই প্রতিবারই নতুন কিছু চেষ্টা করতে হয়। দেশের কোচদের সঙ্গে ক্রিজের কিছুটা চওড়া ব্যবহার করে এই অ্যাঙ্গেল তৈরির কাজ করেছি। অধিকাংশ বোলার সেই অ্যাঙ্গেল থেকে বল ভেতরে আনে, তবে আমি তা ব্যাটারের থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি।
নিজের উন্নতির পথ নিয়ে আহমাদজাই বলেন, আমি কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাসী এবং গত ১৮ বছর ধরে তা করে যাচ্ছি। দেশে যে পরিশ্রম করি, তার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। আমার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কেবলই কঠোর পরিশ্রম।








মন্তব্য