বেশি বিদ্বেষের শিকার আর্জেন্টিনা, এরপর ইংল্যান্ড, স্পেন ও ব্রাজিল

বেশি বিদ্বেষের শিকার আর্জেন্টিনা, এরপর ইংল্যান্ড, স্পেন ও ব্রাজিল

২০২৬ বিশ্বকাপের সময় অনলাইনে দল ও খেলোয়াড়দের ঘিরে ট্রোলিং এবং বিদ্বেষমূলক বার্তা ছড়িয়েছিল ব্যাপক হরে। ফিফা জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সুরক্ষা পরিষেবার (এসএমপিএস) এক গবেষণা…

২০২৬ বিশ্বকাপের সময় অনলাইনে দল ও খেলোয়াড়দের ঘিরে ট্রোলিং এবং বিদ্বেষমূলক বার্তা ছড়িয়েছিল ব্যাপক হরে। ফিফা জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সুরক্ষা পরিষেবার (এসএমপিএস) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ফিফা।

ফিফার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, টুর্নামেন্ট যত গড়িয়েছে, সাইবার বুলিংয়ের মাত্রা ততই বেড়েছে। দলগতভাবে অনলাইন আক্রমণের সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছে আর্জেন্টিনা। স্কালোনির শিষ্যদের পর এই তালিকায় রয়েছে ইংল্যান্ড, স্পেন, ব্রাজিল ও নরওয়ে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকে লক্ষ্য করে প্রচুর বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হয় এবং তাদের দল রেফারিদের কাছ থেকে অন্যায্য সুবিধা পেয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।

তবে ব্যক্তিগতভাবে ফুটবলারদের ওপর আক্রমণের ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার অবস্থান ছিল চতুর্থ। ফুটবলারদের সবচেয়ে বেশি নিশানা করেছে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও পর্তুগালের নেটিজেনরা। এই ব্যক্তিগত আক্রমণগুলোর সিংহভাগই ছিল বর্ণবাদী শ্লেষ, যা বিশেষ করে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করে ছড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে, টুর্নামেন্টজুড়ে সবচেয়ে বেশি অনলাইন হয়রানির শিকার ব্যক্তির নাম গোপন রাখলেও ফিফা জানিয়েছে, ওই একক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১০ হাজারের বেশি আপত্তিকর পোস্ট করা হয়েছে। যার ৪০ শতাংশই ছিল বর্ণবাদী। এছাড়া সমকামিতা বিদ্বেষ, নারীবিদ্বেষ ও ট্রান্সজেন্ডার-বিদ্বেষমূলক বার্তার তীরও গেছে তার দিকে।

– 17 million posts scanned – 477,000 referred for review – 240,000 verified as abusive On the eve of World Mental Health Day, FIFA shares Social Media Protection Service findings relating to this year’s @FIFAWorldCup. https://t.co/FMv2ABtg6K

— FIFA (@FIFAcom) October 9, 2026

পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে গুরুতর ও বিপজ্জনক হুমকির মুখোমুখি হতে হয়েছে ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিদের। ম্যাচ পাতানো ও দুর্নীতির কাল্পনিক অভিযোগ এনে রেফারিদের ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে ফাস করার (ডক্সিং) মতো ঘৃণ্য চেষ্টা চালানো হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণাধীন ১,৬০৬ জন ফুটবলার, কোচ ও কর্মকর্তার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি (৮১২ জন) অন্তত একটি হলেও আপত্তিকর বার্তার মুখোমুখি হয়েছেন। ১ কোটি ৭১ লাখ পোস্ট ও মন্তব্যের বিশাল তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ করে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার পোস্টকে নিশ্চিতভাবে ক্ষতিকর বলে শনাক্ত করা হয়। এর জের ধরে দুই হাজার ৯০৫টি অ্যাকাউন্টের বিষয়ে প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এবং ৭৮৬টি অ্যাকাউন্টের তথ্য আইনি পদক্ষেপের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অঞ্চলভিত্তিক বিচারে এসব সাইবার বিদ্বেষের বড় উৎস ছিল ইউরোপ, এরপরই লাতিন আমেরিকা। তবে মুদ্রার অন্য পিঠও রয়েছে। প্রতিপক্ষকে বর্ণবাদী আক্রমণ ও অপমানজনক বার্তা পাঠানোর ক্ষেত্রে শীর্ষে ছিলেন খোদ আর্জেন্টাইন সমর্থকরাই। বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা স্পষ্ট করে দিয়েছে। মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি ডিজিটাল দুনিয়ায় ফুটবলারদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তারা কোনো ছাড় দেবে না।

মন্তব্য

0 মন্তব্য

আরও পড়ুন