কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিতণ্ডার জেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে সাময়িক নিষিদ্ধ করতে পারেন পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিরর-এর বরাত দিয়ে গোলডটকম এ তথ্য জানিয়েছে।
নেশনস লিগে নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ৪-২ গোলের জয়ের ম্যাচে ঘটনাটির সূত্রপাত। কোচ জেসুস রোনালদোকে ওয়ার্ম-আপ করতে বললেও পুরো ম্যাচেই তাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন। বিষয়টিকে অসম্মানজনক মনে করে ক্যাম্প ছেড়ে বেরিয়ে যান সিআরসেভেন। এরপর দীর্ঘ এক বিবৃতিতে ক্ষমা চেয়ে ফেডারেশনকে শাস্তি দেওয়ার অনুরোধও জানান এই ফরোয়ার্ড।
ব্রিটিশ দৈনিক ‘মিরর’-এর খবর অনুযায়ী, ফেডারেশনের নিয়মের কারণেই এই নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়েছে। এখন শৃঙ্খলা কমিটি নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত মেয়াদ নির্ধারণ করবে, যা এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত হতে পারে।
এক মাসের বেশি নিষেধাজ্ঞা পেলে ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে পর্তুগালের পরবর্তী দুটি নেশনস লিগ ম্যাচ মিস করবেন রোনালদো। খেলোয়াড়দের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিসহ সবকিছু বিবেচনায় নেবে শৃঙ্খলা কমিটি। তবে ইএসপিএনের মতে, স্বল্পমেয়াদি শাস্তি হওয়াই সবচেয়ে সম্ভাব্য ফলাফল।
গত মঙ্গলবার এক বক্তব্যে রোনালদো বলেন, ক্যাম্প ছেড়ে আসার জন্য জাতীয় দলের সতীর্থদের কাছেও আমার ক্ষমা চাওয়া উচিত। কোচের কথায় বিশ্বাসের স্পষ্ট বরখেলাপ হওয়ার পরেও- যা সে সময়কার প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করতে পারবেন। তবে আমার ওই কাজ করা উচিত হয়নি।
তিনি আরও যোগ করেন, দায়ভার পুরোপুরি আমার একাই। পর্তুগিজ জনগণের কাছে আমি আবারও ক্ষমা চাইছি, তবে আমার সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ আমার ওপর তীব্র প্রভাব ফেলেছিল। আমি অনুভব করেছি, সেই মুহূর্ত থেকে আমার সেখানে থাকা দলের পরিবেশের ক্ষতিই করত। আর কাজের না থাকলে আমি অতীতেও যেমন ব্যাগ গুছিয়ে চলে আসার কথা বলেছি, এবারও তাই করেছি।
রোনালদো আরও বলেন, এই কাজের পরিণতি মূল্যায়ন করতে হবে এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আমাকে শাস্তি দেওয়া উচিত। আমি সচেতন আছি যে শাস্তির ক্ষেত্রে কোনো নমনীয়তা দেখানো উচিত নয়। আমি সাধারণ কোনো খেলোয়াড় নই, দলের অধিনায়ক। আর এটাই শাস্তির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
তিনি বলেন, আমি ইতোমধ্যেই ক্ষমা চেয়েছি, তবে আমি জানি পরিস্থিতির একটা পরিণতি থাকতেই হয়। ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকেই জানে, ব্যক্তির অবস্থান যাই হোক না কেন, নিয়ম সবার জন্যই সমান।
অন্যদিকে কোচ জর্জ জেসুস বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমি বিবৃতিটি পড়েছি এবং এখন প্রতিদিনের মতো আমার কাজ করে যাচ্ছি। ফেডারেশনে যাচ্ছি দলের কথা ভেবে কাজ করতে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর থেকে পর্তুগালের হয়ে ২৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো, যার মধ্যে রেকর্ড ১৪৬টি গোল করেছেন তিনি।
সূত্র: গোলডটকম।








মন্তব্য