কোটি রুপি পারিশ্রমিক থেকে প্রযোজককে দিয়ে বাসন মাজার ঘটনা

কোটি রুপি পারিশ্রমিক থেকে প্রযোজককে দিয়ে বাসন মাজার ঘটনা

প্রচলিত নায়ক-নির্ভর বলিউডের হিসাবের বাইরে গিয়ে নিজের অভিনয় ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন প্রয়াত অভিনেতা নানা পাটেকর। তার সহশিল্পী পরেশ রাওয়াল একবার জানিয়েছিলেন, এমন এক সময়েও নানা একটি সিনেমার জন্য ১ কোটি রুপি পারিশ্রমিক চেয়েছিলেন, যখন অনেক প্রতিষ্ঠিত…

প্রচলিত নায়ক-নির্ভর বলিউডের হিসাবের বাইরে গিয়ে নিজের অভিনয় ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন প্রয়াত অভিনেতা নানা পাটেকর। তার সহশিল্পী পরেশ রাওয়াল একবার জানিয়েছিলেন, এমন এক সময়েও নানা একটি সিনেমার জন্য ১ কোটি রুপি পারিশ্রমিক চেয়েছিলেন, যখন অনেক প্রতিষ্ঠিত নায়কও এত পারিশ্রমিক চাইতে দ্বিধা করতেন। শুধু তাই নয়, নিজের বাড়িতে মাটন খাওয়ানোর পর এক প্রযোজককে বাসন পরিষ্কার করতেও বলেছিলেন তিনি।

২০২৫ সালে দ্য লাল্লানটপ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নানার ভিন্নধর্মী ব্যক্তিত্বের একটি মজার ঘটনা তুলে ধরেন পরেশ রাওয়াল।

পরেশ জানান, একসময় নানা পাটেকর একটি সিনেমার জন্য ১ কোটি রুপি পারিশ্রমিক চেয়েছিলেন। তখনকার সময়ে এমনকি অনেক শীর্ষস্থানীয় নায়কও এই অঙ্কের পারিশ্রমিক চাইতে দ্বিধা করতেন। কিন্তু চরিত্রাভিনেতা হিসেবে কাজ করা নানা নিজের পারিশ্রমিক নিয়ে কোনো আপস করেননি। শেষ পর্যন্ত তিনি সেই ১ কোটি রুপিই পেয়েছিলেন। পরেশের ভাষায়, তিনি ১ কোটি রুপি নিয়েছিলেন। তখন এ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছিল। নায়কেরাও এত টাকা চাইতেন না। নানা পাটেকর চেয়েছিলেন এবং পেয়েছিলেন।

নানার স্বভাব বোঝাতে এরপর আরও মজার একটি ঘটনা শোনান পরেশ। তিনি জানান, এক প্রযোজককে নিজের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করেছিলেন নানা। পরেশের ভাষায়, একজন প্রযোজক ছিলেন, তার নাম বলব না। নানা তাকে বাড়িতে আসতে বলেছিলেন। এরপর জিজ্ঞেস করেন, মাটন খান? তিনি মাটন খেলেন। খাওয়া শেষে নানা বললেন, খেয়েছেন তো? এবার বাসনগুলো পরিষ্কার করুন। এই ঘটনার পর নানার ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে পরেশ বলেন, এই হলেন নানা পাটেকর। তিনি কিংবদন্তি। তিনি একেবারেই আলাদা মানুষ। তার মাটিই আলাদা।

১৯৭৮ সালে গমন সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় নানার। চার দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে সালাম বম্বে!, পরিন্দা, ক্রান্তিবীর, অগ্নিসাক্ষী, আব তক ছাপ্পান, অপহরণ, ওয়েলকাম ও ওয়েলকাম ব্যাক-এর মতো সিনেমায় ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। পরিন্দা সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার সম্মান পান নানা। পরে ক্রান্তিবীর সিনেমায় সেরা অভিনেতার জাতীয় পুরস্কারও অর্জন করেন। নায়ক হিসেবে প্রচলিত সংজ্ঞায় নিজেকে আটকে না রেখে শক্তিশালী অভিনয়ের মাধ্যমে পর্দায় প্রভাব তৈরি করেছিলেন নানা পাটেকর। তার অভিনয়জীবনের মতো ব্যক্তিত্বও ছিল ব্যতিক্রমী, যার নানা দিক সহকর্মীদের স্মৃতিচারণে বারবার উঠে আসছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

মন্তব্য

0 মন্তব্য

আরও পড়ুন