যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে ১৩ জন নিরস্ত্র সেনাকে গুলি করে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
শুক্রবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এটিই প্রথম প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হেগসেথ বলেন, ‘মানুষ যাতে এটি দেখতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। এটি হবে প্রকাশ্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের বোঝা প্রয়োজন, এ ধরনের কাজের গুরুতর পরিণতি রয়েছে।’
রক্ষণশীল টেলিভিশন চ্যানেল রিয়েল আমেরিকা’স ভয়েসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেগসেথ বলেন, হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবেন সেনাদের একটি ফায়ারিং স্কোয়াড। তার ভাষায়, ‘এভাবেই হওয়া উচিত।’
হাসানের কোনো শেষ অনুরোধ রয়েছে কি না কিংবা তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, ‘এসব নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। ৩ ডিসেম্বর তার সঙ্গে দেখা হবে।’
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে পেন্টাগন জানায়, ছয় দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো কোনো মার্কিন সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল সোমবার জানিয়েছিলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুপারিশ করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাতে অনুমোদন দিয়েছেন।
তবে মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়ে ট্রাম্পের সমর্থন রয়েছে কি না, তা জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি।
এ সিদ্ধান্তের আইনি দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের নিয়ে কাজ করা আইনজীবী জন মিলস বলেছেন, সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত আধুনিক যুগে নজিরবিহীন এবং এর আইনি ভিত্তি অনিশ্চিত।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বের ১৭টি দেশে ২ হাজার ৭০০-এর বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তবে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটেছে মাত্র দুটি দেশে। ২০২৫ সালে ইরানে ১১টি এবং আফগানিস্তানে ছয়টি প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
ফোর্ট হুডের ওই হামলায় ১৩ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও বহু মানুষ আহত হয়েছিলেন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত প্রাণঘাতী হামলা ছিল।
সূত্র: বিবিসি








মন্তব্য