দীর্ঘ আট বছরের দীর্ঘ বিরতি ও ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি জয় করে অলৌকিকভাবে টেস্ট দলে ফিরেই ওপেনিংয়ের দায়িত্ব পেলেন নিক ম্যাডিনসন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডারবানের কিংসমিডে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে একাদশে সুযোগ পেয়েই উদ্বোধনী ব্যাটার হিসেবে মাঠে নেমেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই বাঁহাতি।
রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় কিংসমিডের উইকেটে ম্যাচ গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্পিনাররা সুবিধা পাবেন- এমন ভাবনায় টস জিতে মুহূর্তমাত্র দ্বিধা না করে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ম্যাডিনসনের সাথে ইনিংস সূচনা করবেন ট্র্যাভিস হেড। এছাড়া পাঁচ নম্বরে জায়গা পেয়েছেন ম্যাট রেনশ এবং সাত নম্বরে অলরাউন্ডার বো ওয়েবস্টার।
গত বছর অণ্ডকোষের ক্যান্সারের চিকিৎসা নেওয়া ম্যাডিনসন ২০১৫ সালের মার্চের পর আর কোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেননি। ২০১৬ সালের শেষের দিকে ক্যারিয়ারের প্রথম তিনটি টেস্ট খেলার পর এবারই প্রথম লাল বলের ক্রিকেটে সুযোগ পেলেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়া একাদশে এসেছে কিছু অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন। মাথার সর্দি-জ্বর (হেড কোল্ড) নিয়ে শেষ অনুশীলন সেশন মাঝপথে ছেড়ে মাঠ ছাড়ায় একাদশে জায়গা পাননি বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার কুপার কনলি। অন্যদিকে, ওডিআই সিরিজে পাওয়া পেটের পেশির চোটের কারণে স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন ক্যামেরন গ্রিন। তবে সিরিজের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে মাঠে ফেরার আশায় দক্ষিণ আফ্রিকাতেই অবস্থান করছেন এই অলরাউন্ডার।
২০১৮ সালের বহুল আলোচিত ‘স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারির’ পর এবারই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। স্বাগতিক প্রোটিয়ারা তাদের শেষ ১৪টি টেস্টের ১৩টিতেই জয় পেয়েছে, যার মধ্যে লর্ডসে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতাও অন্তর্ভুক্ত। তবে গত বছরের নভেম্বরের পর তারা আর কোনো টেস্ট খেলেনি।
ম্যাচের একদিন আগেই নিজেদের একাদশ ঘোষণা করেছিলেন স্বাগতিক অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। চোটের কারণে দুই তারকা ফাস্ট বোলার কাগিসো রাবাদা ও লুঙ্গি এনগিডি ছিটকে যাওয়ায় প্রোটিয়াদের পেস আক্রমণে এসেছে বড় পরিবর্তন। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর টেস্ট দলে ফিরেছেন গতির ঝড় তোলা পেসার অ্যানরিখ নরকিয়া। আর প্রথম পছন্দ কেশভ মহারাজের পাশাপাশি দ্বিতীয় স্পিনার হিসেবে নেওয়া হয়েছে সাইমন হারমারকে। ৩ নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নামছেন ডেভিড বেডিংহাম, এর আগে খেলা ২৬ ইনিংসে মূলত ৪ থেকে ৬ নম্বরে ব্যাট করলেও এই পজিশনে এটিই তার প্রথম অভিজ্ঞতা।
কিংসমিডে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পক্ষেই কথা বলছে। এই মাঠে নিজেদের শেষ তিনটি টেস্টেই জিতেছে অজিরা। এছাড়া ২০১৮ সালের সেই বিতর্কিত সফরের আগে, নব্বইয়ের দশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রত্যাবর্তনের পর থেকে তাদের মাটিতে কখনোই কোনো টেস্ট সিরিজ হারেনি ক্যাঙ্গারুরা।








মন্তব্য