যুক্তরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটিতে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনায় ইরানের কথিত সম্পৃক্ততার নিন্দা জানিয়েছে ২৯টি দেশ। দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যও রয়েছে। ইরানের হয়ে কেউ শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে এমন ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে ওই ঘটনা ঘটে। যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো জানায়, ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততা নিয়ে যুক্তরাজ্যের মূল্যায়নের সঙ্গে তারা একমত। তাদের অভিযোগ, ইরান বিভিন্ন দেশে সহিংস হামলা, অগ্নিসংযোগ, নাশকতা ও সাইবার হামলার মতো কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরাসরি কিংবা সহযোগী গোষ্ঠীর মাধ্যমে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর ভূখণ্ডে মানুষের প্রতি হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ক্ষতি করা বা জোরজবরদস্তির চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। ইরানের হয়ে আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকারও করেছে দেশগুলো।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফেয়ারফোর্ডের ঘটনা দেখিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) গোপন নেটওয়ার্ক ও সহযোগী গোষ্ঠীর মাধ্যমে দেশের বাইরে অভিযান চালাতে প্রস্তুত।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টির প্রতিবাদ জানাতে লন্ডনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। এ ছাড়া ইরান সরকারের পক্ষে ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ইরানি নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে ইরানের কথিত কর্মকাণ্ড নিয়ে মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জোটটি তার জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাবে।
তবে ফেয়ারফোর্ডের ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত দেশটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এ অভিযোগ নাকচ করেন। তিনি প্রমাণ ছাড়া কোনো অবস্থান নেওয়া বা প্রকাশ্যে বিবৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে ইরান প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
সূত্র: শাফাক নিউজ








মন্তব্য