ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার
আশাবাড়ি গ্রামে বাসিন্দারা তিন নারীসহ মোট নয়জনকে গ্রেফতার করেছে
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
ভারতীয় ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলায় স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন বিএসএফ সদস্য আহত হয়েছেন। আশাবাড়ি গ্রামে বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে একটি বিএসএফ গাড়ি ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় বর্তমানে তিন নারীসহ মোট নয়জনকে স্থানীয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার চোরাচালানের সন্দেহে বিএসএফ সদস্যরা এক স্থানীয় ব্যক্তিকে আটক করে নির্যাতন করেছেন। কোনো প্রমাণ না থাকলেও তাকে পেটানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে, ফলে ওই ব্যক্তির পায়ের হাড় ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে গ্রামবাসীরা সড়ক অবরোধ শুরু করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার সময় বিএসএফের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা ও অন্যান্য সদস্য গাড়িতে করে অবরোধস্থলে পৌঁছায়, যেখানে উত্তেজিত জনতা লাঠি ও বাঁশ নিয়ে তাদের ওপর চড়াই চালায়।
হামলায় অন্তত তিনজন বিএসএফ সদস্য আহত হন। উত্তেজিত জনতা বিএসএফের গাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। আহত সদস্যদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পরপরই কালামচৌড়া থানার পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিন নারীসহ মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগে জড়িত আরও অন্তত দশজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য তল্লাশি চলছে।
বিএসএফের ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ার আইজি প্রিন্সি রানী সহ জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যান। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, আশাবাড়ি গ্রামের পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ত্রিপুরা মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, "দেশের নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর এমন সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
বিরোধীদলীয় নেতা ও সিপিআইএম নেতা জীতেন্দ্র চৌধুরি এই হামলের কঠোর সমালোচনা করে, তবে দাবি করেন, "সীমান্ত এলাকায় অবৈধ চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিরা স্থানীয় শাসক দলের আশ্রয়–প্রশ্রয়েই এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে।" পুলিশ উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।